কুনো ব্যাঙের সংসার

ঢাকা, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১১ আশ্বিন ১৪২৭

কুনো ব্যাঙের সংসার

গোলাম মোর্তুজা ১২:২৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৮, ২০২০

print
কুনো ব্যাঙের সংসার

বাবা কুনো ব্যাঙটি পুকুর পাড়ের পাশ দিয়ে বাড়ির পথে যাচ্ছে। কিছু পোকামাকড় আর কচি কচি গাছের ডগা নিয়ে। পাড়ের রাস্তাগুলো কেমন জানি পিচ্ছিল।

কয়েকবার ব্যাঙটি পুকুরে পড়েও গেছে। আবার উঠে যাচ্ছে পথে। একা একা বলছে, ‘কই গো, তোমরা। আমার টুনা-মুনা-সুনারা কই।’

বাবা ব্যাঙটির এমন চিল্লানি কথাবার্তায় কোথা থেকে যেন টুনা, মুনা ও সুনা মকমক করতে করতে লাফাতে লাফাতে হাজির হল। চারদিকে এখনো মৃদু ঝড়-জল। বাবার কথার জবাবে টুনা ক্ষীণ গলায় বলল, ‘বাবা তুমিও নাই, আম্মিও নাই, আমাদের ভয় লাগে না?’

বাবা আদরী হয়ে এক লাফে ওদের সামনে এসে বলল, ‘তোমার মা কোথায়? আজ টুনার জন্মদিন। তাই তো খাবার সংগ্রহে গিয়েছিলাম। চল বাড়ি চল।’ সবাই মৃদু পায়ে ছোট ছোট করে লাফিয়ে, এগিয়ে যাচ্ছে বাড়ির পথে। বাড়ির চিহ্ন হয়েছে নিশ্চিহ্ন। বাতাস বইছে শনশন। আকাশ গড়মড় করছে। টুনা আচমকা থামল। বাবাকে বলল, ‘বাবা, এখানেই আমাদের বাড়ি ছিল। কিন্তু কারা এখানে বাড়ি বানাল। তোমরা কেউ ছিলে না বলেই আমরা ভয়ে পালিয়েছিলাম।’

হঠাৎ বাড়ির ভেতর থেকে গম্ভীর হয়ে এক মোটা কুনো ব্যাঙ এল। বলল, ‘কে গো তোমরা। আর এত কথা বলে আমাদের ডিস্টার্ব করছ কেন?’ বাবা কুনো ব্যাঙটি তনুমনু করে বলল, ‘এটা আমাদের জায়গা ছিল। তোমরা এখানে বাড়ি বানালে কেন?’ ঘরের ভেতর থেকে আসা কুনো ব্যাঙটি মোলায়েম কণ্ঠে বলল, ‘বুঝলাম। তবে আমরাও পালাতে পালাতে এলাম এখানে। শোনো ভাই, এভাবে মারমুখী হয়ে কথা বলো না। আসো। আমরা মিলেমিশে বসবাস করি। কথা যখন চরমে তখন কোথা থেকে এল টুনা, মুনা, সুনার মা। বলল, ‘কই রে সোনা। তোমরা এখানে! আমিও বকুলের বিলে গিয়ে ঝড়ের কবলে পড়ে গিয়েছিলাম। ভাসতে ভাসতে বহুদূর চলেও গিয়েছিলাম। আমার সোনা-জাদুরা তোমরা ভালো আছ তো? আর আমাদের বাড়িতে এরা কারা?’

বাবা কুনো ব্যাঙটি স্ত্রী কুনো ব্যাঙটিকে সব খুলে বলল। স্ত্রী ব্যাঙটি দিলদরিয়া। সন্তানগুলোকে কাছে টেনে নিয়ে বলল, ‘ওরা থাকবে থাকুক। আমরাও থাকব। বাড়ি বানাব। বেশ মজা হবে। সুখ আসবে ঘরে।’

বাড়ি বানাল ওরা। রাতে টুনার জন্মদিন খুব করে পালন হল। সবাই হেসে উঠল ফিকফিকিয়ে।