হারানো কার্টুন

ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০ | ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭

হারানো কার্টুন

আল সানি ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৫, ২০২০

print
হারানো কার্টুন

২০০৭ সালের কথা। আমি রংপুর ক্যান্টনমেন্টের শহীদ সামাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। বিদ্যালয়ের পাশেই ছিল আমাদের সরকারি কোয়ার্টার। বিদ্যালয় ছুটি হয়ে যেত ২টা ৪৫ মিনিটে। ৫ মিনিটেই বাসায় ফিরে এসেই দুপুর তিনটার ভেতর টিভির সামনে বসে পড়তাম। খুব সম্ভবত বৃহস্পতি ও শুক্রবার বাদে বিটিভিতে প্রতিদিনই বিকাল তিনটায় ৩০ মিনিটের কার্টুন প্রচারিত হত। গডজিলা, সামুরাই এক্স, উডি উডপেকার, জুমানজি, বানানাস ইন পাজামাস এই পাঁচটা কার্টুন প্রচারিত হত সেই সময়। মাঝে মাঝে মিনা কার্টুন দেখানো হত; বাংলাতে কথা বলা মিনা কার্টুনের প্রতি ছিল আমাদের আলাদা এক দুর্বলতা। সেই পুরনো দিনের হারানো কার্টুনগুলোর কথাই আজ বলব।

গডজিলা
ডেভিড হার্টম্যান, স্যাম লিউসহ বেশ কয়েকজন নির্মাতা ১৯৯৮ সালের ২ সেপ্টেম্বর তোহোর গডজিলার অনুসরণে একটি কার্টুন তৈরি করেন। মূলত তিন ডজনের কিছু বেশি এপিসোডের কার্টুনটিতে পরিবেশ ও শহর রক্ষা করা একদল গবেষককে দেখানো হয়েছে। তারা বারবার আহত হয় ভিন্ন গবেষণা দলের বিশালদেহী প্রাণীগুলো থেকে। আর সেসব প্রাণীর অনিষ্ট থেকে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া গডজিলা। পানির ভেতরের গডজিলা ও অন্যান্য প্রাণীর যুদ্ধ দেখে আমরা শিহরিত হতাম সেই সময়। মঙ্গলবার বিকেল ৩টা মানেই ‘গডজিলা’!

বানানাস ইন পাজামাস
‘আমি যা ভাবছি তুমিও কি তাই ভাবছ বি১?’
‘আমারও তো তা-ই মনে হচ্ছে বি২।’
ডায়লগটিই কার্টুনটির বেশিরভাগ অংশজুড়েই শুনতাম আমরা। এটি কোনো এনিমেশন কার্টুন নয়। আমাদের দেশের সিসিমপুরের মতো অস্ট্রেলিয়ান শিশুতোষ টেলিভিশন শো। যার জনপ্রিয়তার দরুন পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দেশে প্রচারিত হতে থাকে। একসঙ্গে বাস করা, দুষ্টুমি, হাসি, আনন্দ সব কিছুর এক কমপ্লিট প্যাকেজ বলা যেত কার্টুন শোটিকে।

সামুরাই এক্স
সামুরাই এক্স কার্টুনের গানটা এখনো যেন আমার কানে বাজে। শুধু আমারই না, গত দশকে যারা বেড়ে উঠেছে কেউই গানটা কখনো ভুলতে পারবে না। কার্টুনটি লিখেছেন নবুহিরো ওয়াৎসুকি, যিনি ১৮৭৮ সালের জাপানিজ মেইজি সময়ের কথা তুলে ধরেছিলেন। সে সময়ে সামুরাই এক্সের নায়ক কেনশি জাপানের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয় এবং শেষ অব্ধি প্রতিশ্রুতি রক্ষাও করে।

উডি উডপেকার
উডি উডপেকার কার্টুনের হাসিটা এখনো কি নব্বই দশকের ছেলেমেয়েরা ভুলতে পারবে? আমার মনে হয় পারবে না। কাঠঠোকরা পাখিও যে আমাদের বিনোদনের অন্যতম খোরাক ছিল থ্রি ডি কার্টুন দেখা এই প্রজন্ম হয়ত বিশ্বাসই করবে না। সোমবার দিনটার জন্য সারা সপ্তাহ অপেক্ষা ছিল একমাত্র উডি উডপেকার কার্টুন দেখার নিমিত্তেই!

জুমানজি
বুধবার মানেই জুমানজির জন্য বরাদ্দের দিন। অ্যালেন, পিটার, জুডি ছিল মূলত কেন্দ্রীয় চরিত্রে। তারাই সিরিজটির নায়ক। প্রফেসর ইবসেন, ট্রেডার সিল্ক, ভান পেল্ট ছিল অ্যালেন, পিটার, জুডির মূল শত্রু। জুমানজি বোর্ডের ওপর দুইটি ছক্কা নিক্ষেপ করে নতুন এক দুনিয়ায় গিয়ে শুরু হত কার্টুনটির মূল কাহিনি।