নিহিন-ত্রিনির রূপকথা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৭ আশ্বিন ১৪২৭

নিহিন-ত্রিনির রূপকথা

অর্পণ দাশগুপ্ত ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৫, ২০২০

print
নিহিন-ত্রিনির রূপকথা

নিহিন ও ত্রিনি। সম্পর্কে বাবা-মেয়ে। মায়ের অনুপস্থিতিতে তাদের পিতা-মেয়ের রসায়নটা ভালোভাবেই জমে উঠেছে। বাবা-মেয়ে এবার একসঙ্গে পিকনিকে যাওয়ার জন্য কক্সবাজারগামী একটা বাসে চড়ে বসেছে।

যাত্রা বিরতিতে তারা পৌঁছাল কুমিল্লার একটা অখ্যাত রেস্টুরেন্টে। যাত্রা বিরতির শেষে যখন বাসটি কক্সবাজারের দিকে রওনা হতে যাবে, তখন ত্রিনি বাবার কাছে বায়না ধরল, আইসক্রিম খাবে। বারবার বুঝিয়েও তাকে নিবৃত্ত করতে পারল না নিহিন। শেষপর্যন্ত মেয়ের বায়না মেটানোর জন্য রেস্টুরেন্টের পাশের দোকানে আইসক্রিম কিনতে গিয়ে নিহিন দেখে, বাসটি নিহিনকে রেখে ইতোমধ্যে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দিয়ে দিয়েছে। এভাবেই নিহিনের সঙ্গে মেয়ের ছাড়াছাড়ি হয়ে গেল চিরতরে, বাবা আর কোনোদিন খুঁজে পেলনা তার মেয়েকে।

হঠাৎ দুঃস্বপ্ন দেখতে পেয়ে ঘুম থেকে ধড়ফড় করে উঠে বসল ত্রিনি। বিছানার পাশের বেডসুইচ জ্বালিয়ে মুখোমুখি দেওয়ালে ঝোলানো দেয়ালঘড়িতে সে সময় দেখল।

রাত তিনটা বাজে সতের মিনিট। হঠাৎ অনুভব করল মাথায় কেউ একজন স্নেহের হাত রেখেছে। ত্রিনি দেখতে পেল পাশে তার বাবা নিহিন দাঁড়িয়ে আছে। বাবার ডান হাতে সে দেখতে পেল প্যাকেটে অর্ধেকটা খোলা, মোড়ানো একটি লাভেলো চকবার আইসক্রিম।

পাড়ার সামনের জহির আঙ্কেলের দোকান থেকে সদ্য কিনে আনা। জমাট বাঁধা আইসক্রিমের বরফ থেকে টপটপ করে পড়ছে ঠা-া পানি। ঠিক তখনই ত্রিনির মনে পড়ল, বাবার কাছে আইসক্রিম খেতে চেয়ে পায়নি বলে রাগ করে আর গতরাতে ভাত খায়নি সে!