‘ছোটদের মন-মনন গঠনে শিশুসাহিত্যের ভূমিকা অপরিসীম’

ঢাকা, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২০ | ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭

‘ছোটদের মন-মনন গঠনে শিশুসাহিত্যের ভূমিকা অপরিসীম’

রাশেদ রউফ ১২:২৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৪, ২০২০

print
‘ছোটদের মন-মনন গঠনে শিশুসাহিত্যের ভূমিকা অপরিসীম’

এখনকার শিশুসাহিত্য চর্চা কেমন হচ্ছে?
সময় অতিক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুসাহিত্যও বিকশিত হয়েছে। প্রচুর কর্মী কাজ করছেন। বলতে গেলে আমাদের ‘শিশুসাহিত্য’ এখন কম সমৃদ্ধ নয়। বরং কালের আবর্তে শাখাটি অনেক বেশি সমৃদ্ধ হয়েছে বলা যায়। বর্তমানে যারা শিশু-কিশোর উপযোগী সাহিত্য রচনা করছেন তাদের মধ্যে অনেক খ্যাতিমান শিশুসাহিত্যিক রয়েছেন, যারা অত্যন্ত মেধাবী ও নিষ্ঠাবান। তারা যেমন সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করছেন, তেমনি পাঠকপ্রিয়তাও পেয়েছেন। বর্তমানে ছড়া, রূপকথা, কবিতা, গল্পের পাশাপাশি উপন্যাস, কিশোর রহস্য, গোয়েন্দা কাহিনী, ভৌতিক উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশনের বই প্রকাশিত হচ্ছে, যা খুবই আনন্দের।

অতীত ও বর্তমানের উল্লেখযোগ্য শিশুসাহিত্যিক কারা; কী বৈশিষ্ট্যে তাদের শনাক্ত করবেন?
নাম বলতে গেলে তো অনেকেরই বলতে হবে। বলা যায়, বাংলাদেশের শিশুসাহিত্যর প্রস্তুতি পর্বে যারা ছিলেন অগ্রণী এবং যাদের হাতে বিকশিত হয়েছে শিশুসাহিত্যের ডালপালা, তারা হলেন: জসীম উদদীন, ফররুখ আহমদ, বন্দে আলী মিয়া, খান মুহম্মদ মঈনুদ্দীন, সুফিয়া কামাল, আহসান হাবীব, কাজী আবুল কাসেম, হোসনে আরা, সুলতানা রাহমান, হাবীবুর রহমান, সরদার জয়েনউদ্দীন, সানাউল হক, মযহারুল ইসলাম, রোকনুজ্জামান খান, আলাউদ্দিন আল আজাদ, হাসান জান, মনোমোহন বর্মন, হালিমা খাতুন, কাজী লতিফা হক, আতোয়ার রহমান, শামসুর রাহমান, ফয়েজ আহমদ, আব্দার রশীদ প্রমুখ। এদের বেশিরভাগই ছড়া লিখেছেন। এরা আদি ছড়ার রূপ, রস, চিত্রকল্পই আঁকড়ে ধরেছেন। কারো কারো ছড়ায় কখনো প্রত্যক্ষ, কখনো পরোক্ষভাবে প্রভাব পড়েছে খেয়াল খুশির রাজা সুকুমার রায়ের। সকলের ছড়ায় ছন্দে অভূতপূর্ব মাধুর্য লক্ষ করা গেলেও বিষয়বৈচিত্র্যে উৎরে যাওয়া সবার পক্ষে সম্ভব হয়নি। তবু আমাদের এই পথিকৃৎ শিশুসাহিত্যিকদের ভূমিকা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। বাংলাদেশের শিশুসাহিত্যের প্রস্তুতি ও বিকাশ পর্বে আহসান হাবীব, রোকনুজ্জামান খান, শামসুর রাহমান, ফয়েজ আহমদ, আব্দার রশীদ প্রমুখ ব্যতিক্রমী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন গবেষকদের কাছে। তবে অন্যদের অবদানও ছিল অসামান্য। এরপর ধারাবাহিকভাবে অনেকে এসেছেন। যেমন: লুৎফর রহমান সরকার, আল মাহমুদ, এখ্লাসউদ্দিন আহমদ, সুকুমার বড়ুয়া, দিলওয়ার, মোহাম্মদ মোস্তফা, রফিকুল হক, মাহবুব তালুকদার প্রমুখ। এ তালিকায় আরও চারটি নাম যোগ করা প্রয়োজন: কাইয়ুম চৌধুরী, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ, সৈয়দ শামসুল হক ও আসাদ চৌধুরী।

এদের পর পরই শিশুসাহিত্যে যাদের আগমন ঘটে, তারা হলেন: নিয়ামত হোসেন, হোসেন মীর মোশাররফ, ফজল এ খোদা, আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন, গোলাম সারওয়ার, সিরাজুল ফরিদ, আবু কায়সার, মাহমুদউল্লাহ, আখতার হুসেন, রশীদ সিনহা, প্রণব চৌধুরী, আলতাফ আলী হাসু, আবু সালেহ, কাজী রাশিদা আনওয়ার, মসউদ উশ শহীদ, সানাউল হক খান, আলী ইমাম, মুক্তিহরণ সরকার, খালেক বিন জয়েনউদদীন, দীপংকর চক্রবর্তী, সফিকুন নবী প্রমুখ। তারপর ১৯৭০-এর দশক। এক ঝাঁক চটপটে, বুদ্ধিমান, তীক্ষè শিশুসাহিত্যিকের আবির্ভাব ঘটে এ সময়। এদের প্রায় সবাই ছিলেন রাজনীতি সচেতন। এরা ঝড়ো হাওয়ার মতো এসে তাদের রাজত্ব কায়েম করে নিয়েছেন। এরা হলেন: আবু জাফর সাবু, আলমগীর বাবুল, লাল চান, দেলওয়ার বিন রশিদ, তপংকর চক্রবর্তী, বিমল গুহ, শাহাবুদ্দীন নাগরী, লুৎফর রহমান রিটন, সুখময় চক্রবর্তী, তুষার কর, আইউব সৈয়দ, অজয় দাশগুপ্ত, রোকেয়া খাতুন রুবী, আবু হাসান শাহরিয়ার, বিপুল বড়ুয়া, সৈয়দ খালেদুল আনোয়ার, সৈয়দ আল ফারুক, ফারুক নওয়াজ, নূর মোহাম্মদ রফিক, আনওয়ারুল কবীর বুলু, সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, জাহাঙ্গীর হাবীবউল্লাহ, হাসান হাফিজ, দীপক বড়ুয়া, সনজীব বড়ুয়া, মঈনুদ্দীন মঈনু, আহসান মালেক, সুজন বড়ুয়া, শামসুদ্দীন হারুন, নিতাই সেন, নাসির আহমেদ, উত্তম সেন, ওমর কায়সার, তৌহিদ আহমেদ, এয়াকুব সৈয়দ, আসলাম সানী, জ্যোতির্ময় মল্লিক, নাসের মাহমুদ, কিশওয়ার ইবনে দিলওয়ার, আহমদ মতিউর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম জাহান, রফিকুর রশীদ, আহমাদ উল্লাহ, রুহুল আমিন বাবুল, আবদুর রহমান, মাহবুবা চৌধুরী প্রমুখ।

১৯৭০-এর দশকের শেষের দিকে কিংবা আশির দশকের শুরুতে এবং আরও পরে যারা শিশুসাহিত্য চর্চায় এলেন তাদের মধ্যে আমীরুল ইসলাম, ফারুক হোসেন, রহীম শাহ, আশরাফুল আলম পিনটু, আলম তালুকদার, মোখতার আহমদ, আশরাফুল মান্নান, সালেম সুলেরী, আহমাদ মাযহার, খালেদ হোসাইন, বাপী শাহরিয়ার, আহমদ সাকী, উৎপলকান্তি বড়ুয়া, সুফিয়ান আহমদ চৌধুরী, রব্বানী চৌধুরী, শফিক ইমতিয়াজ, টিপু কিবরিয়া, মাহবুবুল হাসান, জসীম মেহবুব, আনজীর লিটন, কেশব জিপসী, সজল দাশ, সন্তোষ বড়–য়া, সরকার জসীম, সেজান মাহমুদ, সৈয়দ নাজাত হোসেন, মোহাম্মদ মারুফুল, সৈয়দ আমির উদ্দিন, হুমায়ুন সাদেক চৌধুরী, এমরান চৌধুরী, তুহীন রহমান, অরুণ শীল, সিকদার নাজমুল হক, মিহির মুসাকী, নুরুল ইসলাম খান, আবদুল হামিদ মাহবুব, সিতাংশু কর, দেবাশিষ ভট্টাচার্য, মিয়া মনসফ, পংকজ দেব অপু, খালেদ সরফুদ্দিন, আলেক্স আলীম, শফী সুমন, বদরুল বোরহান, শাফিকুর রাহী, রোমেন রায়হান, ওবায়দুল গনি চন্দন, সারওয়ার-উল-ইসলাম, ওয়াসিফ-এ-খোদা, মাসুদ আনোয়ার, আলী হাবিব, রাজু আলীম, রহমান হাবীব, আবুল কালাম বেলাল, কাজী কেয়া, ইকবাল বাবুল, আনোয়ারুল হক নূরী, বকুল হায়দার, শিমুল মাহমুদ, জাকির আবু জাফর, রমজান আলী মামুন, ফারুক হাসান, জিন্নাহ চৌধুরী, গোলাম নবী পান্না, তপন বাগচী, স.ম. শামসুল আলম, রবীন আহসান, ধ্রুব এষ, মিহির কান্তি রাউত, অমিত বড়–য়া, অপু বড়–য়া, হুমায়ুন কবীর ঢালী, মিজানুর রহমান শামীম, যাযাবর মিন্টু, শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, ইসমাইল জসীম, শিবু কান্তি দাশ, জগলুল হায়দার, পাশা মোস্তফা কামাল, ইমরান পরশ, অদ্বৈত মারুত, শুকলাল দাশ, নজরুল ইসলাম শান্তু, বাসুদেব খাস্তগীর, মিলন বনিক, চন্দনকৃষ্ণ পাল, কামাল হোসাইন, পলাশ মাহবুব, মালেক মাহমুদ, মঈন মুরসালিন, আবদুল মতিন রিপন, নাসিরুদ্দিন তুসী, ফারজানা রহমান শিমু, রুনা তাসমিনা, গোফরান উদ্দীন টিটু, সরওয়ার কামাল পাশা, সনজিত দে, আখতারুল ইসলাম, ব্রত রায়, অপু চৌধুরী প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। এরা সংখ্যার দিক থেকে যেমন শক্তিশালী, লেখার মানগত দিক থেকেও ততটা ক্ষমতাবান। তারা তৈরি করতে পেরেছেন নিজস্ব ভঙ্গি, আয়ত্ত করতে পেরেছেন লেখার রণ কৌশল।

আপনার প্রথম শিশুতোষ বই কোনটি; পাঠক বইটিকে কীভাবে গ্রহণ করেছিল?
আমার প্রথম বই ‘আকাশের সীমানায় সূর্যের ঠিকানায়’। এটি প্রকাশিত হয়েছিল চট্টগ্রামের অভিযান প্রকাশনী থেকে ১৯৯১ সালে। মূলত আমার নিজের উদ্যোগে প্রকাশিত হয়েছে। এটি কিশোর কবিতার বই। প্রথম বই হিসেবে বলা যায়, ভালোভাবে বইটি নিয়েছিলেন পাঠক।

শিশুসাহিত্যিক হয়ে ওঠার পেছনে আপনার কী অনুপ্রেরণা ছিল?
লেখালেখির মূল প্রেরণা আমার শিক্ষক আশা কিরণ চৌধুরী। তার মতো সব বিষয়ে দক্ষ-পণ্ডিত শিক্ষক-আমি আর দেখিনি। যখন ছন্দ কাটাকাটি করি, যখন কবিতা লেখার খাতা নিয়ে নাড়াচাড়া করি; তখন আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেই মুখ- যার চেতনাবোধে মুগ্ধ থাকি- যার পাণ্ডিত্যে বিভোর হই এবং যার কথায় আন্তরিকতার অন্যরকম ছোঁয়া পাই। আমি তার সঙ্গে ছিলাম স্কুলে, স্কুল চলাকালীন এবং স্কুল পরবর্তী সময়েও। এই ছোট্ট জীবনে বহু মানুষকে দেখেছি, অনেকের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি, লাভ করেছি অনেক গুণবানের সান্নিধ্য। কিন্তু আশা কিরণ চৌধুরীর মতো অসাম্প্রদায়িক, স্নেহপ্রবণ, উদারচিত্তের মানুষ কমই দেখেছি। বুকের ভেতর কিরণ ঢুকিয়েছিলেন আমারই শিক্ষক আশা কিরণ। স্যারের দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তাকে পেয়েছি মাত্র কিছু সময়। ঐ সময়ে আমি তার কাছ থেকে কবিতার পাঠ নিই।

একজন আদর্শ শিশুসাহিত্যিকের কী গুণ থাকা উচিত?
ম্যাক্সিম গোর্কি Simply, Interestingly এবং Meaningfully- এই তিনটি শব্দ উচ্চারণ করেছেন। শিশুসাহিত্য রচনার অন্যতম প্রধান শর্ত হল সহজ ও আকর্ষণীয় করা। কেননা, সহজ সরল না হলে ছোটদের বুঝতে কষ্ট হবে, আর আকর্ষণীয় না হলে পড়ার ক্ষেত্রে আগ্রহ জন্মাবে না। ছোটদের মনে কৌতূহল সঞ্চার করা এবং তাদের নরম, কোমল ও আনন্দময় মনকে উজ্জীবিত করার জন্য সহজ ও আকর্ষণীয় রচনার বিকল্প নেই। এর মধ্যেই নিহিত আছে চিরায়ত সাহিত্যগুণ। শিশুসাহিত্য এমন এক মনন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয় যা লেখকের জন্য শ্রমসাধ্য হলেও তার প্রকাশ সাবলীল ও প্রাণবন্ত, শ্রম, চেষ্টা ও প্রতিভার সমন্বয়ে সৃষ্টি হতে পারে এমন অভাবনীয় সাহিত্য। শিশুর প্রতি ভালোবাসা শিশুসাহিত্য রচনার পূর্বশর্ত। শিশু যে কোনো জিনিস দেখলে ধরতে চায়, ছুঁতে চায়। ওরা খেলতে চায়। টেলিভিশন দেখতে চায়। তাদের আগ্রহ ও আনন্দের জায়গাটুকুর খবর রাখতে হয় আমাদের। বলা যেতে পারে, শিশু মনোস্তত্ত্ব আয়ত্ত করে নেওয়া জরুরি। শিশুসাহিত্য যেন শিশুর আনন্দসঙ্গী হয়ে ওঠে, তার জন্য আমাদের ভাবতে হবে সব সময়।

শিশুর মানস গঠনে সাহিত্য পাঠ কতটা জরুরি?
শিশুর মানস গঠনে সাহিত্য পাঠ অবশ্যই জরুরি বিষয়। তাই এমন রচনা আমরা চাই, যা শিশু-কিশোরের মানস গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে। ছোটদের রুচি গঠন ও মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টিতে সহায়ক এমন রচনাই আমাদের কাম্য। আমরা জানি, মানুষের সৌন্দর্যবোধ ও আনন্দানুভূতির মূলে রয়েছে তার রুচি। এই রুচিকেই সবার আগে প্রাধান্য দেওয়া দরকার। কামিনী রায় বলেছেন, ‘কুসাহিত্য, কু-দৃশ্য মানুষের রুচিকে বিকৃত করে। সাহিত্য যখন ভবিষ্যৎ সমাজের জীবনকে গঠন করে তখন এরূপ কু-সাহিত্যিককে উৎসাহ না দেওয়াই উচিত। যাহা সুন্দর, যাহা আনন্দদায়ক, যাহা জনকে ঊর্ধ্বমুখ করে, তাহাই আর্ট।’ আমাদের দরকার তেমন মানসম্মত বই, যা ছোটদের জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। কেমন হওয়া উচিত বইগুলো? সত্যজিৎ রায়ের মতে: ‘লে-আউট, ছাপা, ছবি যেমন সুন্দর হওয়া দরকার, তেমনি এর লেখাগুলোও হবে শিশু-কিশোর মনের উপযোগী।’ ছোটদের লেখার একটি প্রধান ও প্রচলিত সংজ্ঞা হল, এটি সববয়সী পাঠককে সমানভাবে আকর্ষণ করবে। অজিত দত্ত বলেন, ‘ছোটদের বই এমন হতে হবে যা তাদের ভালো লাগবে আর যা পড়ে তাদের মনের ভালো বৃত্তিগুলোতে খানিকটা সাড়া জাগাবে।’ ছোটদের মন ও মনন গঠনে শিশুসাহিত্যের ভূমিকা অপরিসীম। ভবিষ্যৎ পৃথিবীর আদর্শ মানুষ গড়ে তোলার প্রস্তুতিপর্বে ছোটদের চিন্তা-চেতনায় রুচিবোধ ও জীবনবোধ প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় উপকরণসমৃদ্ধ সাহিত্য রচনা একান্ত আবশ্যক।

লেখালেখিতে উৎসাহী নবীনদের কী পরামর্শ দেবেন?
আমার কোনো পরামর্শ নেই। কেবল আমার অনুজ বন্ধুদের বলব, বেশি বেশি পড়ার জন্য। যে যত বেশি পড়বে, সে তত অগ্রগামী হবে। পড়ার কোনো বিকল্প নেই।
সাক্ষাৎকার গ্রহণ : শফিক হাসান