উপহার

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২০ | ১৮ আষাঢ় ১৪২৭

উপহার

আরিফ আনজুম ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২০

print
উপহার

ক্লান্ত দুপুরবেলা। সব কিছুই যেন একদম নিস্তব্ধ। আমিও ঘরে একা একা ঝিমাচ্ছি। হঠাৎ কিছু একটা এসে আছড়ে পড়ল জানালায়। সেই শব্দে বেদম চমকে গেলাম। বস্তুটা কী হতে পারে! তড়িঘড়ি করে ঘর থেকে বেরিয়ে জানালার পাশে গেলাম। দেখি সবুজ রঙের একটা পাখি মুখ থুবড়ে পড়ে আছে জানালার নিচে।

ধরতে যেতেই ফর ফর ফর শুরু করল। পালানোর চেষ্টায় খামতি নেই এতটুকু। কিন্তু আহত পাখি কি পারে কখনো আমার সঙ্গে? সামান্য উড়েই আবার ধপাস হল খানিকটা দূরে গিয়ে। বার কয়েকের প্রচেষ্টায় ধরে ফেললাম হাতের মুঠোয়। এবার আর বাধা দিল না। বাধা দেওয়ার শক্তিটুকুও যেন অবশেষে আর নেই আহত শরীরে। 

পাখিটা হাতে নিয়ে মুখ তুলে ধরলাম ওপরের দিকে। দু’ফোঁটা রক্ত গড়িয়ে পড়ল চোখ বেয়ে। বুঝলাম মুখে চোট লেগেছে! দ্রুত নিয়ে এলাম ট্যাপের কাছে। মাথায় ঠা-া পানি দিলাম বেশ করে। আর একটা জলপট্টি দিয়ে দিলাম বাবার পুরনো লুঙ্গি ছিঁড়ে। কয়েক ফোঁটা পানি ঠোঁটে ধরে খাওয়ালাম। বুকটা ধকধক করছে। দেখে কষ্ট পেলাম। হয়ত এক্ষুনি মারা যাবে।

কী মনে করে নিয়ে এলাম তাহলে এখানে। বসিয়ে দিলাম আমার ঘরের জানালায় রোদে। পাখিটা ঝিমাতে থাকে সেখানে বসে। তেমন সাড়াও দিতে পারছে না। খোলা জানালায় রেখে আঙিনায় এলাম হাতে কৌটা ভর্তি তার জন্য কিছু খাবার নিয়ে। জানালায় রেখে এলে যে কাক-চিল, বিড়াল-কুকুর ঠুকরে খাবে না তো ওকে! এসব ভেবে আবার ভীষণ চিন্তা হয়। তাই ভেবে চিন্তে একটা বাঁশের ডালায় করে ঝিঙে গাছের মাচার ওপরে রেখে দিলাম, এখানেই পড়ে থাকুক যতক্ষণ প্রাণ থাকে শরীরে।

নানান ব্যস্ত থাকায় আর যাওয়া হয়নি ঝিঙের মাচায়। সন্ধ্যায় মনে পড়ল পাখিটার কথা। ঘর থেকে বের হয়ে ঝিঙে মাচায় গিয়ে দেখি পাখি নেই! আঁতিপাতি করে খুঁজলাম বার কয়েক। কোথাও নেই। বুঝলাম উড়ে গিয়েছে সুস্থ হয়ে। আনন্দ হল, মারা যায়নি তাহলে পাখিটা! নেমে আসার সময় চোখে পড়ল ব্যাপারটা। পাখিটা মাথায় দেওয়া জলপট্টি ফেলে রেখে সামান্য মল ত্যাগ করে গিয়েছে যেখানে বসিয়ে রেখে গিয়েছিলাম। হয়ত প্রাণ ফিরে পেয়ে উপহার দেওয়ার মতো তেমন কিছু না পেয়ে আমাকে উপহার দিয়ে গিয়েছে। ওসব বস্তু আমার অপছন্দ। কিন্তু অবাক কা- আজ কিন্তু এতটুকুও ঘেন্না হলো না। একটা ভালো কাজ করার বদলে কিছু একটা তো উপহার পেলাম!

পরদিন পাখিটা উড়ে এল ঘরের সেই জানালায়। দেখতে পেয়ে ছুটে গেলাম। পাখিটা আমাকে দেখে চিড়িক করে একটা শব্দ ছুঁড়েই উড়ে পালাল। সেই থেকে ভাবনায় আছি। পাখিটা কি খুশি হয়ে কিছু বলে গেল! নাকি একটা মানুষের উপকারের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে গেল! নাকি নিছকই ডাকল স্বনিয়মে!