স্ন্যাব নাক বানর

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৯ আশ্বিন ১৪২৭

স্ন্যাব নাক বানর

অর্ক রায় সেতু ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ, মে ০৯, ২০২০

print
স্ন্যাব নাক বানর

পৃথিবীর ইকোসিস্টেম দীর্ঘ সময় ঠিক থাকলেও এখন উপলব্ধি করার সময় হয়েছে মানুষের। অপূর্ব সব প্রাণী বংশ বিস্তারের পরিবর্তে নাটকীয়ভাবে হারিয়ে যাচ্ছে। কিছু প্রাণী এতটা ঝুঁকিতে রয়েছে তাদের সংখ্যা চিন্তাভাবনা করে গণনার প্রয়োজন নেই বিশেষজ্ঞদের। প্রাণীগুলোর সংখ্যা শুধু হাতে গুনে বলে দেওয়া যাবে। একটা হাহাকারের সঙ্গে বলতে হচ্ছে স্ন্যাব নাক বানর শুধু তিনশ’ রয়েছে আজকের পৃথিবীতে।

অবিশ্বাস্য তবে এমন সব কথা স্ন্যাব নাক বানর ছাড়াও অনেক প্রাণীর বেলায় উঠে আসবে। এখন ফিরে যাব স্ন্যাব নাক বানরের কাছে। বানরটি গভীর বনভূমিতে বসবাস করে। এরাও বানর তবে আকার আকৃতি সম্পূর্ণ পৃথক করে রেখেছে। সচরাচর চোখে পড়া বানরের চেয়ে এরা ভিন্ন। খুবই সুন্দর প্রজাতির বানর স্ন্যাব নাক। বনভূমির ৪০০০ মিটার উঁচুতে স্ন্যাব নাক বানরকে থাকতে দেখা যায়।

বাংলাদেশের পাশাপাশি দেশ মিয়ানমারসহ দক্ষিণ চীন, তিব্বত, সিচুয়ান, ইউনান ও ওইঝোতে এরা এখনো বসবাস করে। Cercopithecidae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত এই প্রাণী মানুষের অমানবিক আচরণে পৃথিবীর বুক থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। বানরটির পুরো শরীর সাদা কালো পশমে আবদ্ধ। আর তা হয়েছে পরিবেশ প্রকৃতির সঙ্গে নিজেদের অস্তিত্ব ধরে রাখার জন্য কখনো শীত, কখনো বসন্ত যাতে একটু গোলমাল না হয়।

টিকে থাকার জন্য যা প্রয়োজন তাই করেছে অন্যান্য প্রাণীদের মত স্ন্যাব নাক। খাবার হিসেবে গাছের ফলমূল লতাপাতা ইত্যাদি গ্রহণ করে। তবে দিনদিন এদের খবাারের পরিমাণও ফুরিয়ে আসছে। স্ন্যাব নাক পুরুষ মহিলা বানর একে অন্যের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যমে নিজেদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করে। এদের গর্ভকাল ২০০ দিন হয়।

তারপর সরাসরি বাচ্চা জন্ম দেয়। তবে এরা দলগত প্রাণী। একটি গ্রুপ নিয়ে বসবাস করে। শত্রুপক্ষকে ঘায়েল করার জন্যে এরা খুব চেঁচিয়ে চিৎকার করে। এটাই নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার আরেকটা পন্থা। মজার ব্যাপার হল স্ন্যাব নাক বানর নাক দিয়ে সরাসরি পাকস্থলীতে পানি পাঠাতে পারে।