তুমি আমার হিরো

ঢাকা, শনিবার, ৬ জুন ২০২০ | ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

তুমি আমার হিরো

মঈন মাহমুদ ৯:৪০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৮, ২০২০

print
তুমি আমার হিরো

করোনাভাইরাস দেখতে কেমন? সারা তার মাকে জিজ্ঞাসা করল। করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ এত ক্ষুদ্র যে একে দেখা যায় না। মাইক্রোস্কোপ যন্ত্রের মাধ্যমে দেখতে হয়। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি ও তারা কোনোকিছু স্পর্শ করলে করোনাভাইরাস ছড়ায়। আক্রান্ত মানুষ জ্বর ও কাশিতে ভোগে এবং তাদের শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।’ সারার মা বলল।

‘আমরা এর বিরুদ্ধে কিছু করতে পারি না?’ সারা বলল।

‘আমরা এর সাথে লড়াই করতে পারি। এজন্য তোমার সুরক্ষার দরকার। করোনাভাইরাস নানা ধরনের লোকদের আক্রান্ত করে। এর বিরুদ্ধে লড়তে সবাই, বিশেষ করে শিশুরা বেশি করে সাহায্য করতে পারে। আমাদের সবার জন্য শিশুদের নিরাপদ রাখতে হবে। তোমাকে হিরো হতে হবে।’
রাতে বিছানায় শুয়ে পড়ল সারা। নিজেকে হিরো ভাবতে মোটেই ভালো লাগছে না। সারা স্কুলে যেতে চায়, বন্ধুদের দেখতে চায়।
‘হিরোদের সুপারপাওয়ার থাকে, আমার করার কী আছে’... সারা ঘুমিয়ে পড়ল। রাতের অন্ধকারে কে যেন ফিসফিস করে সারা’র নাম ধরে ডাকল।
‘কে তুমি?’
‘আমি আরিও। মানবিক দূত। তোমার মধ্যেই থাকি।’
‘তাহলে তো আমি করোনা ভাইরাস সম্বন্ধে শিশুদের বলতে পারি। আমি বীর হতে পারি।’

সারা আরিও’র পিঠে চড়ে রাতের আকাশের অনেক উঁচুতে উড়ে চলল। সকালে তারা একটি সুদৃশ্য পিরামিডের মরুভ‚মিতে নামল। সেখানে শিশুরা খেলছিল। তারা সারা ও আরিওকে হাত নেড়ে অভিনন্দন জানাল।
‘স্বাগতম। আমি সালেম। দুঃখিত আমরা কাছাকাছি আসতে পারি না, আমাদের কমপক্ষে তিন ফুট দূরত্বে থাকতে হবে।’
‘আমি সারা, আর ও আরিও। তোমরা কি জানো শিশুরা তাদের প্রতিবেশী, বন্ধু, পিতামাতা এবং আত্মীয়স্বজনদের করোনাভাইরাস থেকে নিরাপদ রাখতে পারে?’
আমরা জানি, সারা। আসো সাবান এবং পানি দিয়ে আমাদের হাত ধুই। সালেম হাসিমুখে বলল।
সালেম ও সারাকে নিয়ে আরিও আকাশে উড়ে গেল। সে শহরের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে উড়ে যাচ্ছে। আরিও জোরে চিৎকার ও গান গাইতে লাগল। সালেম রাস্তায় শিশুদের দেখে চিৎকার করে উঠল, ‘যাও, তোমার পরিবারকে বলো, আমরা ভিতরে বেশ নিরাপদ থাকি। ঘরে থেকে আমরা একে অপরের যত্ন নিতে পারি।’
লোকজন তাদের দেখে অভিভূত হলো। তাদেরকে হাত নেড়ে অভিবাদন জানাল এবং নিজেদের ঘরে যেতে সম্মত হলো।
তারা একটি ছোটো গ্রামে নেমে এল। একটি মেয়ে বাড়ির বাহিরে ফুল বাছাই করছিল। সে আরিও এবং ডানায় বসা শিশুকে দেখে আরিও বলে প্রায় লাফিয়ে উঠল।
‘সাশা, আমি চেয়েছি তোমার সুপারপাওয়ার সম্বন্ধে আমার বন্ধুদের জানাতে।’ আরিও বলল।
‘আমার সুপারপাওয়ার কী?’
‘যখন থেকে পরিবারের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েছে, আর তুমি বাড়িতে থাকছ, এটা নিশ্চিত করতে যে, তুমি কারো সাথে করোনাভাইরাস শেয়ার করছ না।’
‘হ্যা, আমার বাবা, শোয়ার ঘরে রয়েছেন যতক্ষণ না তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেন। তবে ততটা খারাপ না। আমরা গেম খেলি, একসাথে খাবার খাই। বই পড়ি। আমি মাঝে মাঝে স্কুল মিস করি। ঘরে থাকতে খুবই বিরক্ত লাগত, তবে অনেকটা সয়ে গেছে।’
‘তুমি আনন্দ পাবার এবং বাড়িতে প্রিয়জনদের সাথে পেতে উপায় খুঁজে পাচ্ছ। এটি তোমাকে আমার হিরো করে তোলে।’ আরিও বলল।
তারা সাশাকে বিদায় জানিয়ে আবার রওয়ানা দিলো ও সমুদ্রবেষ্টিত একটি দ্বীপে অবতরণ করল। সেখানে অনেক মানুষকে একসাথে দেখতে পেল।
‘হাই লায়লা, আমি সারা এবং সে সালিম। এটি খুবই প্রশংসনীয় যে, তোমরা করোনাভাইরাস থেকে নিজেদের প্রতিহত করতে চেষ্টা করছ। তোমরা কী করছ?
‘আমরা সাবান ও পানি দিয়ে আামদের হাত ধুচ্ছি।’ লায়লা বলল। আমরা হাতের কনুইতে কাশি দিয়ে থাকি। আমি একজনকে অসুস্থ ও মারা যেতে শুনেছি। এটি আমাকে শঙ্কিত করে। এটা কি সত্য যে, করোনাভাইরাস হলে মানুষ মারা যায়?’
আরিও একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল এবং দ্বীপের পাদদেশে বসে পড়ল।
‘হ্যাঁ, এটি অদ্ভুত। কিছু লোক মোটেই অসুস্থ বোধ করে না, তবে কিছু লোক খুব অসুস্থ হয়ে পরতে পারে এবং কিছু মারা যেতে পারে। সেজন্য আমাদের সকলের বিশেষ করে বয়স্ক এবং অন্যান্য অসুস্থদের প্রতি যত্নবান হতে হবে, তারা ঝুকিতে থাকেন বেশি।
আরিও সবাইকে যার যার বাড়িতে পৌঁছে দিলো।
‘আমরা কি আগামীকাল একই কাজ করতে পারি?’
‘না সারা, তোমার পরিবারের সাথে থাকার সময় এটা।’
‘সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে এবং বাড়িতে থেকে তুমি তোমার প্রিয়জনদের ভালো ও নিরাপদ রাখতে পারো।’ আরিও বলল।
‘তুমি আমার হিরো,’ সারা ফিসফিস করে বলল।
‘তুমিও আমার হিরো, সারা। যারা তোমাকে ভালোবাসে তাদের সকলের কাছে তুমি একজন বীর।’
সকালে ঘুম থেকে জাগলে সারার চোখে ভেসে উঠল এডভেঞ্চারে সে যা দেখেছিল ও শিখেছিল। সারা মায়ের কাছে দৌড়ে গেল...
‘আমরা সবাই মানুষদের নিরাপদে রাখতে সাহায্য করতে পারি, মা। এ এডভেন্সারে অনেক হিরোর সাথে আমার দেখা হয়েছিল।’
‘ওহ, সারা তুমি ঠিক বলেছ।’
‘অনেক হিরো করোনাভাইরাস থেকে মানুষকে নিরাপদ রাখছেন, যেমন ডাক্তার ও নার্স। পাশাপাশি নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা, সমাজকর্মী, সাংবাদিকরা মানুষকে সচেতন করতে কাজ করছে। তুমি আমাকে মনে করিয়ে দিলে যে আমরা সবাই হিরো হতে পারি, প্রতিদিন এবং আমার সবচেয়ে বড় হিরো হলে তুমি।’