মাংসাশী ডাইনোসর

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২০ | ২৪ চৈত্র ১৪২৬

মাংসাশী ডাইনোসর

ফারুক হোসেন সজীব ১:১৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ০৭, ২০২০

print
মাংসাশী ডাইনোসর

ছোট্ট বন্ধুরা, আজ তোমাদের অতি পরিচিত একটি প্রাণীর সম্বন্ধে বলব। প্রাণীটির নাম ডাইনোসর! ভাবছ ডাইনোসর? এটা তো মুভিতে অনেক দেখেছি। নতুন করে আর কী শুনবো এই প্রাণীর সমন্ধে, তাই তো? আজ আমি তোমাদের ডাইনোসর সমন্ধে কিছু নতুন তথ্যই জানাতে চেষ্টা করব।

ডাইনোসর কথাটির আক্ষরিক অর্থ কিন্তুভয়াবহ এক ধরনের গিরগিটি। যাদের আছে চারটি পা। কিন্তু ডাইনোসর কিন্তু আসলে গিরগিটি নয় বরং ওদেরকে সরিসৃপ শ্রেণির অন্তর্গত আলাদা একটি গোষ্ঠীও বলা যেতে পারে। যদিও ওদের কার্যকলাপ অনেকটা আধুনিক সরিসৃপ থেকে আলাদা। তবু বিজ্ঞানীরা ঠিক এমনটিই বলেছেন, ওরা সরিসৃপ শ্রেণির দলভুক্ত। বলতে পারো, ওরা এ পৃথিবীর প্রাগৈতিহাসিক অধিবাসী ছিল। প্রায় ১৬ কোটি বছর ধরে ওরা পৃথিবীকে রাজত্ব করেছিল। আর প্রথম ডাইনোসরের বিবর্তন হয়েছিল তাও আনুমানিক ২৩ কোটি বছর পূর্বে। তখনকার দিনের ডাইনোসররা ছিল ভীষণ দুর্দান্ত স্বভাবের। ওদের মুখে ছিল অতিকায় ধারাল দু’পাটি দাঁত। আর পায়ের দিকে ছিল তীক্ষ ধারাল নখ। ওদের শরীরের অমন গঠন থেকেও কিন্তু ওদের আচরণের পরিচয় পাওয়া যায়!

তবে ক্রিটোশিয়াস যুগের শেষের দিকে তাও আনুমানিক সাড়ে ৬ কোটি বছর পূর্বে একটি বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ই হয়ত ওদের এই পৃথিবী থেকে চিরতরে বিলুপ্ত করে দেয়! এই বিপর্যয় অনেকটা জুরাসিক যুগে সংঘটিত হয়েছিল বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে ওদের একটি শ্রেণি নাকি এখন পর্যন্তও রয়েছে তাও আবার সারা পৃথিবীজুড়ে! শ্রেণীবিন্যাসবিদরা তো এমনটাই ধারণা করেছেন। এটাই নাকি বিজ্ঞানসম্মত! হয়ত ভাবছ, সেই শ্রেণি আবার কারা, তাই তো? সেই বিবর্তনের শ্রেণিই নাকি আজকের আকাশে উড়ে বেড়ানো যত সব পাখি! এরাই নাকি সেই আগেকার যুগের ডাইনোসরের বিবর্তনের একটি রূপ!

তবে বিজ্ঞানীরা পাখিদের মতো উড়তে পারে অমন ১০০০-এরও বেশি ডাইনোসরের প্রজাতি শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। ডাইনোসররা কিন্তু ডিম পাড়ে এবং আদিম গুহাবাসীদের মতো ওরাও কিন্তু গুহায় বসবাস করতে ভালোবাসত। ওদের বিশাল দেহ ছিল প্রায় ৫৮ মিটার (১৯০ ফুট) পর্যন্ত দীর্ঘ এবং ৯.২৫ মিটার মানে ৩০ ফুট ৪ ইঞ্চি পর্যন্ত উঁচু। বিজ্ঞানীরা মাটি খুঁড়ে এ সব ডাইনোসরের পুরো কঙ্কাল আবিষ্কার করেছেন। ডাইনোসরের যেহেতু চারটি পা ছিল, কিন্তু তবু ওরা পিছনের পা দুটিকেই সব থেকে বেশি ব্যবহার করত। অনেকটা ক্যাঙারুর মতো লাফিয়ে লাফিয়ে চলত।

সির‌্যাটোসরসের ডাইনোসরের নাকের ডগায় ছিল আবার গন্ডারের খড়গের মতো শিং। কারও এক বা একাধিক শিংও ছিল। ওই সব শিং দিয়ে ওরা আবার শত্রুকে মারত এক গুতো! আবার মাংসাশী স্টিগোসরস ডাইনোসরের সারা পিঠ জুড়েই ছিল খাড়া বড় বড় তিনকোণা হাড়। পিঠটা ধুনকের মতো বাঁকা। তবে এই স্টিগোসরস ডাইনোসর তেমন হিংস্র ছিল না! তাছাড়া ওদের মাথাটা শরীরের তুলনায় এতো ছোট ছিল যে তাতে মনে হতো ওদের মাথায় মগজ বলতে তেমন কিছুই নেই! কারণ মগজ থেকেই তো বুদ্ধি গজায় তাই না!

অত বিশাল আকৃতির ডাইনোসরের মাথায় যদি অতটুকু ছোট মাথা থাকে আর সেই মাথায় অতটুকু মগজ! তাহলে কী হয়? অমন অদ্ভুত ডাইনোসর তো পৃথিবীর জন্য বিপদজনক হবেই! তাই না? আশপাশের যত গাছপালা সব খেয়ে ছোটাছুটি করে ওরা উজাড় করে দেবে! শুধু কি তাই, সামনে যাকে পাবে তাকেই মুখে পুরে ফেলবে এক নিমেষেই! তাই পৃথিবী কেন সহ্য করবে অমন ভয়ঙ্কর প্রাণীকে? তাই তো পৃথিবী থেকে ধ্বংস হয়ে গেছে অমন মাংসাশী ডাইনোসর!

কীভাবে অমন দৈত্যাকৃতির প্রাণী ধ্বংস হল? আজও তা রহস্যাবৃত! পৃথিবীর সর্বাধিক বিক্রীত বই এবং জুরাসিক পার্ক নিয়ে প্রচুর মুভি কিন্তু ডাইনোসরকে ঘিরেই। বলতে পারো, আধুনিক যুগেও ভীষণ জনপ্রিয় সেই কবেকার ডাইনোসর! শিশু, বৃদ্ধা, যুবা সবার কাছেই ডাইনোসর একটি অতি পরিচিত এবং শান্তি বিনাশকারী প্রাণীর নাম। ডাইনোসর মানেই হলো এককথায়- ধ্বংস, বিপর্যয়! এই কথা আমরা আধুনিক যুগেও কিন্তু সবাই মানি!