গ্রেভ অব দ্য ফায়ারফ্লাইজ

ঢাকা, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২০ | ১৮ চৈত্র ১৪২৬

গ্রেভ অব দ্য ফায়ারফ্লাইজ

ইচ্ছে ডানা ডেস্ক ১:৩৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২০

print
গ্রেভ অব দ্য ফায়ারফ্লাইজ

১৯৪৫ সালের কথা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ প্রায় শেষ হওয়ার মুখে। মার্চ মাসের মাঝামাঝি জাপানের বন্দর শহর কোবের ওপর হঠাৎ একদিন দেখা দিল ঝাঁকে ঝাঁকে মার্কিনি যুদ্ধবিমান শত শত বোমা ফেলছে। চারিদিকে আগুন। সেই আগুনে ধ্বংস হয়ে গেল বাড়ি ঘর, রাস্তা ঘাট, স্কুল, হাসপাতাল; মারা গেল অগণিত মানুষ; আহত হল আরো কত শত মানুষ।

সেই ভয়ানক দিনে, সেইতা নামের চৌদ্দ বছরের এক কিশোর, তার চার বছরের ছোট্ট বোন সেতসুকোকে নিয়ে পড়ল মহাবিপদে। সেই বিপদ তাদের কী হলো? সেই নিয়েই এই ছবি।

গ্রেভ অব দ্য ফায়ারফ্লাইজ ছবিটি একটি উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। উপন্যাসের লেখক আকিয়ুকি নোসাকার। তার ছোটবেলা কেটেছিল দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধে বিধ্বস্ত জাপানে। চোখের সামনে নিজের বোনদের অনাহারে, অপুষ্টিতে মারা যেতে দেখেন তিনি। সেই বেড়ে ওঠার বয়সে অনেক সময়ে অল্প খাবার সংগ্রহ করতে পারলে, বোনের সঙ্গে ভাগ না করে একাই খেয়ে ফেলতেন তিনি। বড় হয়ে সেই সব দুঃখজনক স্মৃতিকে মাথায় রেখেই ১৯৬৭ সালে তিনি লেখেন আত্মজীবনীমূলক এই উপন্যাস, জাপানি ভাষায় যার নাম- হোতারু নো হাকা।

তার লেখা এই উপন্যাসটিকে নিয়ে অনেকেই ছবি বানাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু নোসাকা রাজি হন নি। শেষে যখন তার কাছে অ্যানিমেশন তৈরির প্রস্তাব আসে, তখন তিনি সম্মতি দেন, কারণ তিনি মনে করেছিলেন সেলুলয়েডের থেকে অ্যানিমেশন এই গল্পকে অনেক বেশি প্রাণ দিতে পারবে।

জাপানের অ্যানিমেশন শৈলীতে তৈরি এই অ্যানিমেশন ছবিটি যুদ্ধের কঠিন বাস্তবতা, আর তার মাঝেই দুটি প্রাণচঞ্চল ভাই-বোনের বেঁচে থাকার লড়াই, তাদের নিজেদের ছোট ছোট আনন্দ- সব কিছুকেই অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। তার আশা ব্যর্থ হয়নি। ছবির পরিচালক ইসাও তাকাহাতা অবশ্য তার এই ছবিটিকে যুদ্ধবিরোধী ছবি বলেন না, বরং যুদ্ধের পটভূমিকায় দুটি ছেলেমেয়ের জীবনের কিছু সিদ্ধান্ত এবং তার ফলাফলের গল্প হিসাবেই দেখেন। কিন্তু সমালোচক এবং দর্শকদের মধ্যে অনেকেই এই অ্যানিমেশন ছবিটিকে দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধের পটভূমিকায় তৈরি যুদ্ধবিরোধী, মানবিক সেরা ছবিগুলির মধ্যে একটি বলে মনে করেন।

১৯৮৮ সালে স্টুডিও ঘিবলির প্রযোজনায় তৈরি এই জাপানি অ্যানিমেশন ছবিটি ইউটিউবে বিনামূল্যেই দেখতে পাওয়া যায়। সুন্দর এই ছবিটি সময় করে দেখে নিও কেমন।