কোকিল ও ব্যাঙ

ঢাকা, রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১১ ফাল্গুন ১৪২৬

কোকিল ও ব্যাঙ

আবুল কালাম আজাদ ১:৩৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২০

print
কোকিল ও ব্যাঙ

একটা ব্যাঙ প্রতিদিন কোকিলের মতো গান গাইতে চেষ্টা করত। কিন্তু চেষ্টা করলেই কি সফল হওয়া যায়? সে যতই কুকু-কু করতে চাইত, ততই তার কণ্ঠ দিয়ে বের হতো ক্রক ক্রক ক্রক...। একদিন সে একটি কোকিলকে অনুরোধ করল, তাকে গান শেখাতে।

 

প্রথমে কোকিল রাজি ছিল না। কিন্তু ব্যাঙ নাছোড়বান্দা। কোকিলকে অনুরোধ করতেই থাকল। শেষে কোকিল বলল, ঠিক আছে, আগামীকাল থেকে তোমাকে গান শেখাব।

এ কথা শুনে ব্যাঙ তো আনন্দে আত্মহারা। পরদিন থেকে তার শিক্ষা শুরু হল। ব্যাঙটা বাস করত পুকুরে। আর কোকিল গিয়ে বসত পুকুরের ওপর ঝুলে থাকা একটা গাছের ডালে। গাছের ডালে বসে কোকিল ব্যাঙকে গান গাওয়ার নির্দেশনা দিত : সা রে গা মা পা...। কোকিলের কণ্ঠ সুরেলা। কিন্তু ব্যাঙের কণ্ঠ কর্কশ : ক্রক ক্রক ক্রক...।

কোকিল বলত, তোমাকে বুঝতে হবে, ব্যাঙ কখনো গান করতে পারে না। কিন্তু ব্যাঙ নিরস্ত হল না। সঙ্গীতচর্চা চালিয়ে যেতে থাকল। কয়েক সপ্তাহ চলে গেল। অন্যান্য কোকিল ব্যাপারটা লক্ষ্য করল। এরপর তাদের কোকিল বন্ধুকে বলল, তুমি অযথাই সময় নষ্ট করছ। তোমার এ চেষ্টা কখনোই সফল হবে না। তুমি তোমার কণ্ঠের ওপর চাপ প্রয়োগ করছ। আমাদের ভয় হয় যে, এক সময় তোমার কণ্ঠই ব্যাঙের কণ্ঠের মতো হয়ে না যায়। কোকিলটা বন্ধুদের উপদেশে কর্ণপাত করল না। সে ব্যাঙকে শিক্ষা দিয়েই চলল। আদর্শ শিক্ষক।

এরপর একদিন। গান শেখানোর মাঝামাঝি সময়ে কোকিলের সুরেলা কণ্ঠ পরিবর্তন হয়ে ভয়াবহ ক্রক ক্রক শব্দ বের হয়ে এল। ব্যাঙটা হতভম্ব হয়ে লক্ষ করল, কোকিলটা গান গাইতে চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না। কোকিলের কণ্ঠ থেকে বের হয়ে আসছে ঠিক ব্যাঙের কণ্ঠের মত স্বর- ‘ক্রক ক্রক ক্রক’।

কোকিল আপ্রাণ চেষ্টা করতে লাগল। কিন্তু ক্রক ক্রক ক্রক... ছাড়া সে আর কোনো শব্দই উচ্চারণ করতে পারল না।

মূল গল্প : ভেনিতা ভেইড