ক্ষুদে গল্পরাজ

ঢাকা, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১৩ আশ্বিন ১৪২৭

ক্ষুদে গল্পরাজ

রেজাউল রেজা ১:৩২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২০

print
ক্ষুদে গল্পরাজ

শিশুদের মন পানিতে গোলানো আটার মতো নরম। নরম আটাকে যেরকম ইচ্ছে সেরকম বানানো যায় ঠিক তেমনি শিশুমনকে! ‘ক্ষুদে গল্পরাজ’ বইটির লেখক ও সাংবাদিক সাহিদা সাম্য লীনা হয়ত সেদিকটা মাথায় রেখেই গল্পগুলো লিখেছেন। গল্প শুনতে বা পড়তে ভালোবাসে না এমন শিশু খুব কমই আছে জগতে। বিভিন্ন বিষয় শেখানোর অন্যতম হাতিয়ার গল্প।

গল্পে গল্পে শেখালে শিশুরা যেমন আনন্দ পায় ঠিক তেমনি শিক্ষণীয় বিষয়টা মনে দাগ কাটে। ‘ক্ষুদে গল্পরাজ’ বইটির প্রতিটি গল্পে যেমন রয়েছে আনন্দ ঠিক তেমনি রয়েছে শিক্ষা। লেখক সহজ-সরল প্রাঞ্জল ভাষায় গল্পের মাধ্যমে বাস্তব জীবনের স্পর্শকাতর বিষয়ে শিক্ষা দিয়েছেন। বইটির শুরুতেই রয়েছে ‘বর্ণর পরিবর্তন’ নামের একটি গল্প। একটি জেদি শিশুর পরিবর্তনের গল্প তুলে ধরেছেন। ‘পথশিশু’ গল্পে তুলে ধরেছেন মা-বাবা, পরিবার হারানো শিশুদের জীবনচিত্র। জীবন যে কতটা কঠিন হতে পারে শিশুরা তাও অনুধাবন করতে পারবে গল্পটিতে।

‘চাঁদ রাত’, ‘এক মায়ের মতি’ ও ‘পাগলী’ গল্পেও এমন অনেক বিষয় তুলে ধরেছেন। এসব গল্প কোমল মনে নাড়া দেবে। গরিব ও অসহায় মানুষের প্রতি তাদের মনে জন্ম নেবে ইতিবাচক ধারণা। একটি শিশু যখন কোনো বিষয়ে অধিক পরিমাণে মাতোয়ারা হয়ে যায় তখন তাকে সেই বিষয়টা থেকে বের করে আনা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। হোক সেটা ভালো অথবা খারাপ বিষয়। শিশুমতকে গুরুত্ব দিয়ে কীভাবে বশে রাখতে হয় ‘বিশ্বকাপ’ গল্পে সুক্ষ্ণভাক্ষে তুলে ধরেছেন লেখক।

আলিফ বুঝতে পারে তার অপরাধ। মামনিকে জড়িয়ে ধরে বলে, ‘তিক আছে মামনি, আমি এবার তেকে তিকভাবে কতা বলব। তুমি তিকাবে...।’ মজার গল্প ‘আলিফের কথা’র শেষ লাইন এটি। আরও রয়েছে ‘গ্রীষ্মের ছুটিতে’, ‘বৃষ্টি ভেজা আনন্দে’ ইত্যাদি। সব গল্পই শিশুদের জন্য শিক্ষার অনন্য সমাবেশ।

সর্বশেষ গল্প ‘প্রেরণাদায়ী মা’-তে লেখক লিখেছেন- ‘পবনের পড়ার স্টাইলটা মায়ের জানা আছে।’

কিন্তু স্টাইলটা কেমন তা গল্পে তুলে ধরেননি তিনি। এখানে গল্পের ছলে পড়ার স্টাইলটা তুলে ধরলে শিশুরা তা অনুসরণ করতে পারতো বলে মনে করি। সব মিলিয়ে শিশুতোষ গল্পগ্রন্থটি অনন্য উচ্চতার বলে মনে করি। বাবা-মায়েরা নিশ্চয়ই সন্তানের হাতে এরকম শিক্ষামূলক বই তুলে দেবেন।
বইটির প্রকাশক নূর-কাসেম পাবলিশার্স। মূল্য ১২০ টাকা।