বন্ধু কথা হবে পরে

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গল্প

বন্ধু কথা হবে পরে

গোলাম মোর্তুজা ১২:১৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৬, ২০১৯

print
বন্ধু কথা হবে পরে

তন্বি ক্লাস সিক্সে। ভর্তির পরীক্ষা দিয়ে মাটিকাটা হাই স্কুলে ভর্তি হয়েছে। পিইসিতে ও বৃত্তি পেয়েছিল। সেকি আনন্দের উত্তেজনা। আজ এ গাছের নিচে দাঁড়িয়ে কত কথায় না মনে পড়ছে ওর। স্কুল ভর্তি পরীক্ষার দিনে এই গাছগুলোই থ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।

মনের খেয়ালে তন্বি বলছে,‘শোন, আমি তোমাকে চিনি। সেইযে সেই ভর্তি পরীক্ষা। আমি তোমার পাশেই লাগুয়া ঘরে। সেই অস্থির সময়ে শীতের আমেজেও আমি ঘামছিলাম। সে কি বুক কাঁপানো ঝড়। পরীক্ষার ঝড়। কোনো বিষয় ভুলে গেলে তাকাচ্ছি। কী আজব যাদুকরী ব্যাপার। তোমার দিকে তাকালেই পড়াগুলো জ্বলজ্বল করছিল। লিখছিলাম দ্রুত হাতে।’ তন্বির বকবকানি শুনছে বৃক্ষ। তন্বির বিশ্বাস, গাছের যেহেতু প্রাণ আছে, সেহেতু গাছ সব বোঝে। প্রাণ আছে তবে গাছ কথা বলে না কেন? মানুষের মতো ওরও কথা বলার দরকার। ঝিরিঝিরি করে বাতাস এল গট গট পায়ে। গাছের পাতা নড়ল। হঠাৎ তন্বির পেছন থেকে কে যেন বলল, ‘গাছ তলায় কী কর? যাও কক্ষে যাও।’ আচমকা কথায় তন্বি পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখে জামিল স্যার। জামিল স্যারের কথায় সকালের মিঠে রোদ সাথে নিয়ে ঢুকল কক্ষে। তন্বির ঠোঁটের নিরিবিলি কোণে একটিই কথা, বন্ধু, কথা হবে পরে। ওর ক্লাসে মন নেই। সময়ে সময়ে বাইরে তাকাচ্ছে ।

ফিরোজা ম্যাম তন্বিকে লক্ষ্য করছে। তিনি একবার বাইরেও গেলেন, তন্বি কোথায়, কার দিকে তাকায়। নাহ্! কেউ তো নেই। ম্যাম ধোকা খেয়ে কক্ষে ঢুকলেন। বললেন, ‘তন্বি বাইরে কী দেখ? ক্লাসে মনোযোগ দাও।’ এ মুহুর্তে ম্যামের কথা তন্বির কাছে বুনো পাতা পচনের ঘ্রাণের মতো লাগল। বলল,‘ ম্যাম, কিছু না তো। বন্ধুকে দেখি।’ ম্যাম বললেন, ‘আর তাকাবে না।’ ম্যামের কথা মুখের ডগায় থাকতেই ছুটির ঘণ্টা পড়ে। চাঁদের নৌকোয় চড়ে চলল যেন সবাই বাড়ি। তন্বি গাছের কাছে যায়, দাঁড়ায়। বান্ধবী বন্নি হ্যাচকা টান দিল। বলল,‘ আয়। আবার এখানে দাঁড়ালি কেন?’ ওরা হাঁটে। ওদের ছোট ছায়াগুলোও এঁকেবেঁকে পা বাড়িয়ে হাঁটে। যেতে যেতে পথে তন্বি গাছকে বলে, ‘বন্ধু, দেখছই তো! যাই তবে, দেখা হবে পরে।’