আইসক্রিম

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গল্প

আইসক্রিম

কঙ্কন সরকার ২:১২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০২, ২০১৯

print
আইসক্রিম

মা বারবার বারণ করছে আইসক্রিম মুখে না দিতে। বারণ করছে আর বলছে- সময়টা খুব খারাপ। এমনিতে কখনো ঠান্ডা কখনো সামান্য গরম তার উপর আবার এলোমেলো বাতাস। আদর মাখানো শাসনে বলে- খেয়ো না বাবা, খেয়ো না। মাথায় হাত বুলিয়ে বলে ঠান্ডা লেগে যাবে। কিন্তু মন্ত্রিলের ঐ জিনিসটার প্রতিই যে আকর্ষণ! চোখে ভেসে ওঠে অন্য সময়ে খাওয়ার দৃশ্যগুলো। জিহবা দিয়ে চুষছে আর মুখ দিয়ে বেরোচ্ছে- উহ্ আহ শব্দ, আবার গিলছে তাড়াতাড়ি। নতুবা ঠাণ্ডা লেগে যাবে যে!

মা বলল- মন্ত্রিল, এখানে আসতো একটু। মায়ের কাছে গেল সে। তবে মন ভার। মা হাসিমুখে ওর মুখের দিকে তাকাল। একটা বিস্কুটের প্যাকেট হাতে দিয়ে বলল- এটা খাও। তবে মন্ত্রিল বিস্কুট হাতে নিচ্ছেও না আবার মুখে কিছু বলছেও না। কেননা ওর কান পড়ে আছে বাইরের ছেলে-মেয়েদের চেঁচামেচিতে। ওখানে আইসক্রিম ওয়ালাকে ঘিরে চলছে ঐ চেঁচামেচি।

মা ইনিয়ে বিনিয়ে বলল- তোমার কয়েকদিন আগে জ্বর হলো, টনসিল ফুলল। মাথাটা আবার বুলিয়ে বলে- মনে নেই কী কষ্ট হয়েছিল? তাই এই সময়টা কেটে যাক বাবা। পুরোপুরি গরম পড়ুক তখন খেয়ে নিও। আবারো বিস্কুটের প্যাকেট হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল- নাও বাবা, নাও বিস্কুটটা।

মন্ত্রিল হাতে নিল। প্যাকেট খুলতে খুলতে ঘরে ঢুকল। একটা কি দুটো খেয়ে আবারও আইসক্রিমের চিন্তায় পেয়ে বসল তাকে। কেননা বাইরের শব্দগুলো কানে পড়ছে যে! হঠাৎ আনন্দে মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল মন্ত্রিলের। যা ভাবা তাই কাজ। সে আলমিরা থেকে জ্যাকেট, সোয়েটার, মাফলার বের করে গায়ে আর গলায় পেঁচিয়ে দিল। হাতমোজা, পা মোজা পরল। তবে তখন কিন্তু দুপুরের মত। ঠাণ্ডাভাব না থেকে একটু গরম অনুভব হচ্ছিল পরিবেশটায়। মন্ত্রিল এসব গায়ে দিয়ে মায়ের সামনে এলো। মা-তো দেখে অবাক! হাসিমুখে বলল- একি! এ গরমে এসব পরছ যে? একটু থেমে বলল- আমার সাথে রাগ করে, না! তারপর বলল- ঘেমে যাবে যে বাবা। তখন ঐ যে আবারো সর্দি...

মন্ত্রিল কোনো কথা বলল না কৌশল করে। মা বলল- যাও যাও খুলে আসো বাবা।
এবার মন্ত্রিল বলল- মা তুমি বললে আইসক্রিম খেলে অসুখ ধরবে আবার বলছ কাপড় পরলে অসুখ ধরবে! মুচকি হাসিভরা মুখে বলল- আমি কী ভাবছি, জানো?
মা ওর মুখপানে তাকালো। সে বলল- এগুলো গায়ে দিয়ে আইসক্রিম খাব। মুখে তার যেন বিজয়ীর হাসি!
মা কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না! অস্ফুটো শব্দে বলল- পাগল ছেলে!
এদিকে ততক্ষণে বাইরের চেঁচামেচিটা কমে এসেছে। বোঝা গেল আইসক্রিমওয়ালা চলে গেছে।