ইচ্ছে পূরণ

ঢাকা, শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯ | ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গল্প

ইচ্ছে পূরণ

শাহেদ জাফর ১:৩৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০১৯

print
ইচ্ছে পূরণ

গ্রাম থেকে ফজলু মামা এসেছেন সজীবদের বাসায়। বছরে একবার নবান্নের সময় বোনের বাসায় আসেন তিনি। বাড়ি থেকে আসার সময় মামা নানির হাতে বানানো পিঠা-পায়েস, গাছের ফলমূল, টাটকা সবজি সঙ্গে নিয়ে আসেন। আর ভাগনে-ভাগনিদের জন্য নিয়ে আসেন চমকে ভরা নানা রকমের উপহার। সেই উপহার দেওয়া হয় ঘরোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেই অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠান শুরু হলে মামা এক এক করে ভাগনে-ভাগনিদের নাম বলতে থাকেন। যার নাম ধরে ডাকা হয় সে এগিয়ে গিয়ে উপহার নিয়ে আসে। উপহার নেওয়ার সময় খুব ভালো লাগে সবার।

এমনিতেই মামার উপহার সবসময়ই ব্যতিক্রমী হয়। সজীবরা তিন ভাইবোন খুব মজা করে সেই দিনটায়। উপহার দেওয়া শেষ হলে শুরু হয় সবচেয়ে কাক্সিক্ষত ইচ্ছে পূরণ পর্ব। সব ভাইবোন তাদের ইচ্ছের কথা বলে। বাবা-মা, ফজলু মামা তাদের সাধ্য অনুযায়ী সেই ইচ্ছে পূরণ করার চেষ্টা করেন। গতবার যেমন সজীব চেয়েছিল বগুড়ার মহাস্থানগড় ঘুরতে যাবে। তার ইচ্ছে পূরণ হয়েছিল দুদিন পরেই। একটা মাইক্রোবাস ভাড়া করে সবাই উঠে পড়ে তাতে হৈ হৈ রৈ রৈ করে। সারাদিন ঘুরেফিরে রাতে সবাই ফিরেছিল অনেক আনন্দ নিয়ে। এই তো সেদিনই যেন গিয়েছিল তারা। চোখের সামনে জ্বলজ্বল করছে তাদের সে স্মৃতি। এবারও ফজলু মামা বাসায় আসার পর থেকেই সবার মধ্যে একধরনের কৌতূহল কাজ করছে। কে কী উপহার পাবে, কে কী ধরনের ইচ্ছার কথা জানাবে, তা নিয়ে চলছে নীরব জল্পনা-কল্পনা। কিন্তু কেউ কাউকে কিছু বলছে না। ফজলু মামা এরই মধ্যে সবাইকে ডেকে ঘোষণা দিলেন, তোরা যা কিছু চাইবি তাই এনে দেব! যদি বলিস চাঁদের দেশে যাব। তাই হবে। নো সমস্যা। চাঁদের দেশেই নিয়ে যাব। সজীবের বড় বোন মিতু মামাকে বলল, যদি সূর্যের দেশে যেতে চাই মামা! সেখানেও কি নিয়ে যাবে? মামা অবশ্য এ নিয়ে বেশি কথা বাড়ালেন না। শুধু বললেন, নো ইয়ার্কি! ইয়ার্কি আমি একদম লাইক করি না।

অবশেষে বহু প্রতিক্ষিত সেই ইচ্ছে পূরণের রাত এসে উপস্থিত হলো। ড্রইংরুমে হালকা সাজসজ্জা করা হলো অনুষ্ঠানের জন্য। রাত ১০টায় উপস্থিত হলেন প্রধান অতিথি বাবা ও মা। মামা প্রথমেই সামান্য বক্তৃতা দিলেন, এরপর শুরু করলেন মূল পর্ব। প্রথমেই নাম বলা হলো সজীবের বড় ভাই পিন্টুর। পিন্টু এগিয়ে গিয়ে বাবা-মার হাত থেকে উপহার নিল। তাকে দেয়া হলো বর্ণিল কাগজে বানানো একটি ঘুড়ি। এরপর ডাকা হলো মিতুকে। সে পেল সুন্দর কারুকার্যের একটি মাটির ব্যাংক। এবার ডাকা হলো সজীবকে। সজীবের হাতে উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হলো নানা রকমের পাখি দিয়ে ভর্তি একটি খাঁচা।

সজীবের খুব ভালো লাগল একসঙ্গে এত সুন্দর সুন্দর জীবন্ত পাখি দেখে। আগে এত সুন্দর পাখি দেখেনি সে। কী মিষ্টি চেহারা পাখিগুলোর! কিন্তু তারা খাঁচার ভেতর আটকা কেন? মনের ভেতর প্রশ্ন জাগল সজীবের। উপহার পর্ব শেষে শুরু হলো ইচ্ছে পূরণ পর্ব। পিন্টু চাইল ক্রিকেট খেলার ব্যাট। মিতু চাইল একটি লাল রঙের বাইসাইকেল। সজীব কিছু চাইল না। সে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকল সবার সামনে।

মামা সজীবকে বললেন, কিরে তুই কিছু চাইছিস না যে? বল, কী লাগবে তোর? সজীব ধীরে ধীরে বলল, আমাকে যে পাখিগুলো দেওয়া হয়েছে, কাল সকালে আমি ওদের খাঁচা খুলে মুক্ত করে দেব। পাখি খাঁচায় আটকে থাকবে না, পাখি উড়বে নীল আকাশে। এটাই আমার ইচ্ছা। ইচ্ছে পূরণ পর্বে তো আর কারও ইচ্ছে অপূর্ণ রাখা যায় না। সবাই সজীবের ইচ্ছেটা মেনে নিল। মামা তার ভুল বুঝতে পারলেন। পরদিন সকালে খাঁচার দরজা খুলে দিল সজীব। পাখিগুলো উড়ে চলে গেল নীল আকাশে।