গাছ

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৫ কার্তিক ১৪২৬

গল্প

গাছ

মালেক মাহমুদ ১২:২৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৫, ২০১৯

print
গাছ

স্কুল পড়ুয়া ছেলে মিজান। তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র সে। লেখাপড়ায় বেশ ভালো। প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার জন্য খুব সকালে ঘুম থেকে ওঠে। ছুটে যায় স্কুলে। বাড়ির কাছাকাছি স্কুল। একাই চলে যায় একাই বাড়ি ফিরে আসে।

বাড়ির প্রবেশ পথে আছে একটি গাছ। আম গাছ। বাড়িতে প্রবেশের সময় দেখা হয় গাছটির সঙ্গে। গাছের ছায়ায় দাঁড়াতে বড্ড ভালো লাগে। গাছের ছায়া বলে কথা। গরম হাওয়া গাছ গিলে খায় পরিবর্তে শীতল হাওয়া ছড়িয়ে দেয় আশপাশে। গাছটির পাশ দিয়ে বয়ে গেছে মেঠোপথ। অদূরে ফসলের মাঠ। কৃষকরা মাঠে কাজ করেন। রোদ আর বৃষ্টি কৃষকের শরীর সহনীয় কর্ম। তবুও তারা রোদের তাপদাহ থেকে কিঞ্চিৎ মুক্তি পেতে মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আম গাছটির ছায়াতলে দাঁড়ায়।

কাঠফাটা রোদে আম গাছটি মনে হয় শান্তির নীড়। কৃষক দুপুরের রোদ থেকে মুক্তি পেতে জিরিয়ে নেয় আম গাছটির তলে। কত ক্লান্ত পথিকের আশ্রয়স্থল গাছটি! এ গাছে ধরে অনেক আম। কাঁচা আম বড় মিষ্টি। তাই এ গাছের আম পাকার আগেই শেষ হয়ে যায়।

এই আমগাছ তলে একটি দাড়িয়াবাঁধা কোট আছে। বিকেল হলে খেলা করে মিজান ও তার বন্ধুরা। এ যেন শুধু আম গাছ নয়, আনন্দবাগান। গাছের ডালে পাখির বাসা। সূর্য ডোবার পূর্বেই পাখির কিচিরমিচিরে বসে আনন্দ সভা। মিজানের প্রিয় পাখি ঘুঘু। সে পাখিও বাসা বেঁধেছে এই আম গাছে। দুটি ডিমও পেড়েছে। মা পাখিটি ডিমে তা দিচ্ছে। বাচ্চা ফুটবে তাই, মিজানের মনে খুব আনন্দ। দুটি ছানা খাঁচায় পুষবে। এ ছানাটির কথা কারও কাছে বলেনি। রাতে ঘুমের ঘোরে ছানা দুটিকে স্বপ্ন দেখে মিজান। স্কুলে যাওয়ার পূর্বে একবার করে দেখে যায়। কবে ছানা ফুটবে সেই অপেক্ষায় প্রহর গুণে মিজান।

কয়দিন পরে মিজানের বৃত্তি পরীক্ষা। গঞ্জের স্কুলে হবে পরীক্ষা। পাশেই ফুপুর বাড়ি। তাই একদিন আগেই চলে যায় ফুপুবাড়িতে। ভালো মতো পরীক্ষা দিল মিজান। ফুপুর মাথায় হাত বুলানো ভালোবাসার কাছে হার মেনে আরও একদিন থাকতে হলো তাকে। ফুরফুরে মন নিয়ে বাড়ি ফিরছে মিজান। ভাবছে গাছের কথা। ঘুঘু পাখির কথা। ফুটফুটে দুটি ছানার কথা। কিন্তু একি! বাড়ির কাছে এসেই সেই চিরচেনা আম গাছ দেখছে না। শুধু দেখছে টুকরো টুকরো কাঠ। মরা যত ডালাপালা। পাখির বাসা নেই। নেই আমগাছ।

মিজান বলছে, বাবা এই আমগাছটি কে কেটেছে? বাবা কিছু বলছে না। চোখের পানি গড়িয়ে পড়ছে।
বাবা তুমি কাঁদছো কেন?
না, কাঁদছি না তো, চলো তুমি আমি মিলে পাঁচটি গাছ লাগাই। গাছ বড়ো হবে পাখিও বাসা বাঁধবে। মিজান বাবার সঙ্গে গাছ লাগায়। গাছের পরিচর্যা করে। গাছ বাড়তে থাকে। একটি গাছ থেকে পাঁচটি গাছ। ভরে ওঠে আনন্দবাগান। পাখিদের বাসা।