জাদুকরী পেন্সিল

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৪ আশ্বিন ১৪২৬

গ ল্প

জাদুকরী পেন্সিল

দিপংকর দাশ ১২:৫৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১৯

print
জাদুকরী পেন্সিল

সঞ্চিতা স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছে। আর তার মনটা খুব খারাপ। ক্লাসে অংক ম্যাডাম অনেক বকুনি দিয়েছে। সে তিন পাঁচে পনেরো না লিখে পরেনো লিখেছে। বানানের কারণে ম্যাডাম বকুনি দিয়েছে। শুধু তাই নয়, রীতিমতো অপমানও করেছে। তাই মুখ ভার করে কাঁদো কাঁদো চেহারা নিয়ে ছুটির পর বাড়ির দিকে হাঁটছে। পেছন থেকে অনামিকা ডাকছে, ‘সঞ্চিতা, এই সঞ্চিতা। শোন না, কিরে শুনবি না? আচ্ছা বাবা, যা বাড়ি চলে যা। আমিও যাই।’

অনামিকাকে পাত্তা না দিয়েই বাড়ির দিকে হাঁটছে সে। হঠাৎ কি জানি কি ভেবে রাস্তার পাশে একটা রেইনট্রি গাছের পাশে সঞ্চিতা দাঁড়িয়ে গেল। ওখানে দাঁড়িয়ে চোখের জল ফেলছে। পাশেই একটি পুকুর। পুকুরের ওপারে ঘন বন। ওদিকে তাকিয়ে কান্না করছে সঞ্চিতা।

হঠাৎ! সে দেখতে পেল তার সামনে এসে এক জলপরী দাঁড়িয়ে আছে। জলপরী জিজ্ঞাসা করছে, ‘এই মেয়ে, কাঁদছো কেন? কী হয়েছে তোমার? সঞ্চিতা প্রথমে ভয় পেয়ে যায়। সে চিৎকার দিতে যাচ্ছে ঠিক তখন জলপরি অভয় দিয়ে বলে, ‘আমাকে ভয় পেয়ো না। আমি জলপরী। তোমার বন্ধু। বলো কাঁদছো কেন?
সঞ্চিতা ধীরে ধীরে বলে, ‘ম্যাডাম বকেছে। খুব বকেছে।’

-আচ্ছা এই কথা! আর কেঁদো না। এই নাও একটা উপহার তোমাকে দিলাম। তুমি এটা দিয়ে যা’ই আঁকবে তাই পেয়ে যাবে হাতের কাছে।’ জলপরী এটা বলেই উধাও হয়ে যায়। সঞ্চিতা বাড়ি চলে আসে। বাড়ি এসেই ব্যাগ থেকে খাতা বের করে কলার ছবি আঁকে। আর সঙ্গে সঙ্গে তার সামনে কলা হাজির। সে নিজের চোখকে বিশ^াস করাতে পারল না। আবার একটি প্রজাপতির ছবি আঁকে, এবার প্রজাপতিও হাজির! সে খুব আনন্দ পায় আর একথা কাউকে না বলেই সেই যাদুকরী পেন্সিল তার ব্যাগে রেখে দেয়।

পরের দিন সঞ্চিতা যাদুকরী পেন্সিল নিয়ে স্কুলে যায়। অনামিকাকে জিজ্ঞেস করে, ‘তোর কী ভালো লাগে বল? অনামিকা বলে, ‘আইসক্রিম’। সঞ্চিতা তখন খাতায় আইসক্রিম আঁকে আর আঁকা মাত্রই সামনে চলে আসে সেটা। দুজনে ইচ্ছেমতো খায়। এভাবে যেটাই মন চায় তাই সঞ্চিতা পেয়ে যায় এই যাদুকরী পেন্সিলের মাধ্যমে। সঞ্চিতার আর কোনো দুঃখ থাকে না।