মণ্ডল চোরের গল্প

ঢাকা, বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ২ আশ্বিন ১৪২৬

মণ্ডল চোরের গল্প

দিপংকর দাশ ২:১৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৪, ২০১৯

print
মণ্ডল চোরের গল্প

এ গ্রামে বাস করত এক ছিঁচকে চোর। সে গ্রামের এ বাড়ি ও বাড়ি থেকে মুরগি, হাঁস, ছাগল কিংবা ভেড়া চুরি করত। গ্রামের সবাই তাকে মণ্ডল চোর বলে ডাকে। কারও কোনো কিছু চুরি হলেই সবাই এসে মণ্ডল চোরকেই দোষারোপ করত। করবেই বা না কেন? ও যে সত্যিই একটা চোর। কিন্তু মাঝে মাঝে অন্য চোররা চুরি করলেও সব দোষ হতো মণ্ডলের।

একদিন মণ্ডল চোরের খুব জ্বর। বিছানা থেকে উঠতেই পারছে না। তার স্ত্রী তাকে জলপট্টি দিচ্ছে আর বলছে- ‘কি গো আজ চুরি করতে যাবা না? না গেলে খাবো কী? মণ্ডল চোর 

বলে, ‘জ্বরে আমার গা পুড়ে যাচ্ছে, আর তুমি জেনে শুনে আমাকে চুরি করতে বলছো?
‘আমি কি সাধে বলি? ঘরে কি কিছু আছে? খাবে কী?-চেঁচিয়ে বলে চোর গিন্নি।

‘না খেলেও আজ যেতে পারবো না। দৌড় দেবো কি করে? জ্বরে শরীর দুর্বল হয়ে গেছে তো।’-চোর মশাই বলল।
এবার তেড়ে এসে চোর গিন্নি বলে, ‘যাও কইতাছি। চোরের আবার জ্বর। রাত্রেই তো করো। কেউ দেখবে নাকি? যাও, তাড়াতাড়ি যাও।’

কি আর করার! জ্বর নিয়েই চুরি করতে যায় মণ্ডল। আজ আর বেশি দূরে যায়নি। পাশের চৌধুরী বাড়িতেই চুরি করার সিদ্ধান্ত তার। কিন্তু বাড়িতে ঢুকতে গেলে পার হতে হবে মেইন গেট। দারোয়ান বসে আছে। মাঝে মাঝে ঝিমুচ্ছে। সুযোগ বুঝে ঢুকে যায় ম-ল। গেটের ভেতরে ঢোকা মাত্রই চৌধুরী সাহেবের কুকুর এসে হাজির। ঘেউ ঘেউ করে তেড়ে আসে মণ্ডলের দিকে। মণ্ডল প্রাণ বাঁচাতে ঝাঁপ দেয় গোবরের গর্তে। দারোয়ান দৌড়ে আসে। চারদিকে লাইট দিয়ে দেখে। কিন্তু কোথাও কেউ নেই।

দারোয়ান চলে যাওয়ার পর গোবর মাখা শরীর নিয়ে সে উঠে আসে। জানালার কাচ ভেঙে ধীরে ধীরে ঢুকে যায় ঘরে। আজ সে বড় রকমের চুরি করবে যাতে কয়েক দিন বসে বসে খাওয়া যায়। লকারের চাবি খুঁজতে যায় চৌধুরী বাবুর বালিশের নিচে। চাবি পেল। এবার লকারের দিকে এগিয়ে যায়। লকারে চাবি প্রবেশ করানো মাত্রই বিড়াল ডেকে ওঠে। হাত সরিয়ে নেয় মণ্ডল। আবার চাবি দিয়ে যায়, আবার ডেকে ওঠে। এভাবে কয়েকবার দেওয়ার পর মণ্ডল অবাক হয়। এটা কি ধরনের বিড়াল! চাবি দিলেই ডেকে ওঠে?

খানিকক্ষণ ভাবার পর আবার চাবি লাগায় মণ্ডল। এবার বিড়াল ডাকার সঙ্গে সঙ্গেই মণ্ডল কাঁধে কিছু একটা লেগেছে বলে টের পায়। মাথা ঘুরিয়ে দেখে চৌধুরী সাহেবের বন্দুক এসে ঠেকেছে তার পিঠে। ভয়ে হাত পা কাঁপতে থাকে মণ্ডলের। ধরা পড়ে যায়। দুহাত উঁচু করে মাথা নিচু করে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে। নির্বোধ বোকার মতো চেয়ে থাকে। চৌধুরী বাবুর দারোয়ান এসে তাকে বেঁধে নিয়ে যায় জাম্বুরা গাছের তলায়। সেখানে গাছে বেঁধে বেদম প্রহার করতে থাকে। আর মণ্ডল চিৎকার করতে থাকে।

সকালে শুরু হয় বিচার। মণ্ডল চোরকে গ্রাম থেকে তাড়ানোর ফরমান জারি হয়। সবাই তাতে সায় দেয়। গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে যেতে মণ্ডল তার স্ত্রীকে বলে, ‘চুরি করা ছেড়ে দিলাম আর না খেলেও চুরি করবো না।’