আয় বৃষ্টি ঝেঁপে

ঢাকা, শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯ | ৯ ভাদ্র ১৪২৬

তোমাদের লেখা গল্প

আয় বৃষ্টি ঝেঁপে

সিনথিয়া এনাম তামান্না ১২:০৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০১৯

print
আয় বৃষ্টি ঝেঁপে

বৃষ্টি এলেই রাফির মন ভীষণ খারাপ হয়ে যায়। বৃষ্টি মানে প্যাঁচপেঁচে কাদা। স্কুলে যেতে বা কোচিংয়ে যেতে ভীষণ অসুবিধে হয়। রাফির বৃষ্টি একদম ভালো লাগে না।

একদিন রাফির বাবা পুরো পরিবারকে গ্রামে বেড়াতে নিয়ে গেলেন। গ্রামে গিয়ে রাফির ভীষণ আনন্দ হচ্ছিল। কিন্তু কিছুক্ষণ পর শুরু হলো বৃষ্টি। গ্রামের মাটির রাস্তা আরও বেশি কাদাময় হয়ে উঠল। রাফির তো ভীষণ রাগ হলো।

বিকালের দিকে বৃষ্টি ছেড়ে গেল। তখন রাফি বেড়াতে বের হলো। কিন্তু সারা রাস্তা কাদাময় হওয়ার জন্য সে ঠিকমতো হাঁটতে পারছিল না। পুকুরপাড়ের পাশে হাঁটার সময় রাফি পা পিছলে পড়ে যাচ্ছিল। এমন সময় গ্রামের একটি ছেলে রাফির হাত ধরে ফেলল। ছেলেটার নাম জাহেদ। জাহেদের বাবা একজন কৃষক। রাফি জাহেদকে বলল, ‘আচ্ছা বৃষ্টি হলে তোমরা গ্রামে থাকো কীভাবে? তোমাদের বিরক্ত লাগে না? আমার তো বৃষ্টি হলে একদম ভালো লাগে না।’

রাফির কথায় অবাক হয়ে গেল জাহেদ। জাহেদ রাফিকে বলল, ‘তুমি জানো বৃষ্টি আমাদের জন্য কত দরকারি। গত বছর ঠিক সময় বৃষ্টি হয়নি। আমাদের ধান গাছগুলো সব মরে গেছিল। ঠিকমতো ফসল হয়নি। আমরা সব সময় তাই আল্লাহর কাছে দোয়া করি যাতে ঠিকমতো বৃষ্টি হয়। আর আমরা বৃষ্টির গান গাই।’

জাহেদ বুঝিয়ে দিল আসলে বৃষ্টি তাদের জন্য একটা আশীর্বাদ। বৃষ্টি যদি ঠিকমতো না হতো তাহলে কীভাবে ধান হতো! কীভাবে হতো এত শস্য! মাঠে ঠিকমতো ফসল ফলত না। রাফি তার নিজের ভুল বুঝতে পারল। এরপর থেকে বৃষ্টি হলে রাফি আর কখনো মন খারাপ করত না। জাহেদ এর কথা মনে করে সে ভীষণ খুশি হতো। আর গাইতো,
‘আয় বৃষ্টি ঝেঁপে
ধান দেব মেপে
লেবু পাতায় করমচা
যা বৃষ্টি ঝরে যা।’