চানুর চপ

ঢাকা, শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯ | ৯ ভাদ্র ১৪২৬

তোমাদের লেথা গল্প

চানুর চপ

সোয়াইব শামীল ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৩, ২০১৯

print
চানুর চপ

মাঝে মাঝে সন্ধ্যায় আম্মুর সঙ্গে বাইরে যাই। আম্মুর সব কাজ শেষ করে ফেরার পথে চানু দাদার দোকানে ঢুকি। চানু দাদার দোকান চপের জন্য বিখ্যাত। দোকানটা কেমন জানি টিনের টঙের মতো, তার নিচেই কাঠখড়ির চুলা। বড় কড়াইয়ে ভাজতে থাকে চপ, পিয়াজু আর বেগুনি। চানু দাদার দোকানে চপ, পিয়াজু আর বেগুনি পাওয়া যায়। অথচ আমি শুধু চপই খাই। এই চপের দাম আগে এক টাকা ছিল সাইজেও বড় ছিল। এখন দু’টাকায় দাঁড়িয়েছে সঙ্গে সাইজও কমেছে।

ওখানে খেতে গেলে দেখি চানু দাদা সারাক্ষণ চপ, পিয়াজু, বেগুনিই ভেজে যাচ্ছে আর আমার আম্মু দাদার সঙ্গে অবিরাম গল্প করে যায়। এত গল্পের কারণ নিয়ে ভাবতে গিয়ে বুঝলাম আম্মু মূলত চপের রেসিপি খোঁজে। চানুও জবর চালাক। কথার ফাঁকে এড়িয়ে যায়। চানু দাদার বিখ্যাত চপের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হয়। অনেকটা সময় পার হলে বিখ্যাত চপ আমাদের হাতে আসে।

আর চপ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে আম্মু যতই গল্প করুক আমার নজর থাকে চপের দিকে। যেন জ্বিভে জল আসে, আমি আর লোভ সামলাতে পারি না। তারপর বাসায় ফিরে চপ খেতে শুরু করি আর আম্মু চপ ভেঙে তার রেসিপি খোঁজে। ততক্ষণে আমি আরও কয়েকটা চপ খেয়ে ফেলি। তারপর নানু মনির কাছে গিয়ে বসি। নানুমনির সামনেও কয়েকটা চপ আম্মু দিয়ে গেছে। নানুমনি চপে কামড় দেয় আর আমায় দেখে বলে ‘এখান থেকে খাও’। আমি দু একবার না বলে খেয়ে নিই! আবার আম্মুর কাছে যাই। গিয়ে দেখি একটা চপ হাতে নিয়ে আম্মু কি যেন খুঁজছে। বুঝতে পারলাম, আম্মু নিশ্চয়ই চপের রেসেপিই খুঁজছেন। কিন্তু আমার তো আর লোভ সয় না। এক ছোঁবলে নিয়ে মুখে দিয়ে ফেলি। পেটে দিয়েই ভোঁ দৌড়!

গ্লোরিয়াস প্রি ক্যাডেট একাডেমি, মেহেরপুর।