নূপুরের শব্দ

ঢাকা, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯ | ২ শ্রাবণ ১৪২৬

নূপুরের শব্দ

অঙ্কিতা সাহা ১২:৩২ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৬, ২০১৯

print
নূপুরের শব্দ

রফিক আর মিরার যমজ দুই সন্তান। তাদের বয়স নয় বছর। একজন অসীম অন্যজন অনন্যা। রফিক একটা কোম্পানিতে চাকরি করেন। আর মিরা সংসার দেখাশোনা করেন। ভালোই যাচ্ছে তাদের সংসার। এ চারজনের সঙ্গে মিরাকে কাজে সহযোগিতা করার জন্য রহিমা খালাও থাকেন। তারা যে বাসায় থাকেন সেটা বিল্ডিংয়ের ছয় তলায়। তাদের মাথার উপরেই ছাদ। এক মাসও হয়নি এ বাসায় আসল তারা। অসীম আর অনন্যা ছাদে আর ছাদের সিঁড়িতেই খেলাধুলা করে।

একদিন রাত ১২টায় অসীম চুরি করে বের হয়ে সিঁড়িতে খেলছিল। হঠাৎ একটা শব্দ শুনে ভয়ে অসীম চিৎকার করে উঠল। চিৎকার শুনে তার মা মিরা দৌড়ে এলো। কী হয়েছে বলে জিজ্ঞেস করেও অসীমের কাছ থেকে কোনো উত্তর পেল না। মা তাকে ঘরে নিয়ে আসে। কিছুক্ষণ আদর করে, যাতে অসীমের ভয় কেটে যায়। আস্তে আস্তে অসীমের ভয় কেটে গেল। তারপর অসীম জানায় ছাদের সিঁড়িতে একটা মেয়েকে নূপুর পায়ে নাচতে দেখেছে। এবং সে শব্দও শুনেছে। কিন্তু অসীমের মা-বাবা দুজনই বিশ্বস করল না। পরদিন অসীম সবাইকে এ কথা বলে পাশের বাসার মিনি আর তার দাদুকেও বলে। তারাও কেউ বিশ্বস করে না! অসীমের খুব মন খারাপ হয় তাতে।

এর পরদিনও একই ঘটনা ঘটে। কিন্তু সেদিন শুনেছে রহিমা খালা। রহিমা খালা ছাদে শুকাতে দেয়া কাপড় আনতে গিয়েছিলেন। সন্ধ্যায় আনার কথা থাকলেও রহিমা খালা ভুলেই গেছিলেন ছাদে শুকাতে দেয়া কাপড়ের কথা। রাতে মনে পড়তেই ছাদে যায়। কিন্তু সেই নাচ আর নূপুরের শব্দ শুনে ভয়ে দৌড় দিলেন। হুড়মুড়িয়ে পড়ে গেলেন সিঁড়িতে। ওখান থেকে কোনোরকমে উঠে ঘরে আসলেন। রফিক আর মিরাকে খুলে বললেন সব। তাও বিশ^াস হলো না তাদের। একদিন অনন্যাও শোনে। তার কথাও বিশ্বস হয়নি তাদের।

তারপর একদিন রফিক আর মিরা দুজনেই শুনতে পান। তারাও মাঝে মাঝে রাতে ছাদে যান। বিশেষ করে গরমের সময়। একটু ঠাণ্ডা বাতাসের জন্য। কিছুক্ষণ গল্পগুজব করে চলে আসেন। সেদিন তারা শব্দ শুনে আঁতকে ওঠেন। দুজনই দৌড়ে ঘরে চলে আসেন। তারপর রফিক আর মিরা বুঝতে পারেন এখানে নিশ্চয়ই কিছু একটা রহস্য লুকিয়ে আছে। তারা বাড়িওয়ালার কাছে যায়। কিন্তু বাড়িওয়ালা অস্বীকার করে। এতে আরও সন্দেহ হলো তাদের।

রফিকের পরিবার ভয়ে দিন কাটাতে লাগল। একদিন বাড়ির দারোয়ান অসীমের সঙ্গে গল্প করছিল। গল্পের ছলে অসীম দারোয়ান মামাকে ছাদের ঘটনা জিজ্ঞেস করে। দারোয়ান প্রথমে মুখ খুলতে চায়নি। কিন্তু অসীমের আরজিতে আর চেপে রাখত পারল না। দারোয়ান মামা জানাল, বাড়িওয়ালার দুই মেয়ে ছিল। দুজনই নাচ-গান করত। প্রতিদিন বিকালে ছাদে তারা নাচের প্র্যাকটিস করত। একদিন বিকালে একজন নাচতে নাচতে হোঁচট খেয়ে ছাদ থেকে পড়ে যায়।

আর তাকে বাঁচাতে পারবে মনে করে অন্যজনও বোকামি করে লাফ দেয়। এতে করে দুজনই মারা যায়। এরপর থেকেই মাঝে মাঝে ছাদে নাচের শব্দ শুনতে পাওয়া যায়। কিন্তু তারা কারও কোনো ক্ষতি করে না।

খুব ভালো তারা। অসীম এ গল্প জানার পর ভাবল, ইশ্শ দুজনের সাথে যদি তার বন্ধুত্ব হতো! কতই না মজা হতো ছাদে! অনন্যাকেও সাথে নিয়ে খেলতে পারত।

অঙ্কিতা সাহা, ম্যানগ্রোফ স্কুল লালমাটিয়া, চতুর্থ শ্রেণি