অভিশাপী বৃষ্টি

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

অভিশাপী বৃষ্টি

অমৃত ফরহাদ ১২:২১ অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০১৯

print
অভিশাপী বৃষ্টি

বৃষ্টি কখনো আশীর্বাদ। আবার কখনো অভিশাপ। দুঃখের পর যেমন আসে সুখ তেমনি বৃষ্টি অভিশাপের পর বয়ে আনে আশীর্বাদ। বৃষ্টি কখন অভিশাপ? যখন সে কারও মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নিহাল তার বাবা-মা’র একমাত্র সন্তান। এখন শ্রাবণ মাস। শ্রাবণের বারিধারায় বৃষ্টি ঝরছে। বৃষ্টির নৃত্য আর শীতল পরিবেশে সবাই দেহ সমর্পণ করলো বিছানায়। এক সময় নিদ্রা দেবীর কোমল হাতের স্পর্শে সবাই ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে যায়।

 

মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। গাছগুলো ভিজে ছুপছুপ। হাঁসগুলো কেঁচো খুঁজতে ব্যস্ত। একদল দুরন্ত বালক বিলের ধারে ঠেলাজাল নিয়ে মাছ ধরছে। উঠানে কিশোরের দল বৃষ্টির ভেতর ছোটাছুটি করছে। আবার কেউ ফুটবল খেলায় মগ্ন। নিহাল দাঁড়িয়ে তা উপভোগ করছে। ভালো লাগার মুহূর্তে হাতে তালি দিচ্ছে। আবেগ ধরে রাখতে না পেরে এক সময় নিহালও নেমে পড়ে উঠানে।

সবার সঙ্গে খেলছে, মজা করছে। বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে এক সময় তার দেহ হিম হয়ে আসে। হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায় নিহালের মায়ের। ঘুম থেকে উঠে দেখে নিহাল বৃষ্টিতে ভিজছে। বকাবকি করে তাকে ঘরে আনা হলো। সে শীতে কাঁপছে। তাকে গরম জামা পরানো হলো। পরদিন নিহালের প্রচ- জ্বর উঠলো। ডাক্তার দেখানো হলো। কিন্তু কিছুতেই তার জ্বর কমলো না। এক সময় বৃষ্টিভেজা এই পৃথিবীর মায়া ছেড়ে নিহাল চলে গেল না ফেরার দেশে।