দুষ্টু রোবটের বুদ্ধি

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৩১ ভাদ্র ১৪২৬

গল্প

দুষ্টু রোবটের বুদ্ধি

তুষার আবদুল্লাহ ১০:১০ পূর্বাহ্ণ, জুন ০১, ২০১৯

print
দুষ্টু রোবটের বুদ্ধি

ঘুলঘুলিতে আটকা পড়েছে টিকটিকি। জানালার ঠিক তিন ফুট ওপরে, ছাদের এক ফুট নিচে। ভোরে ঘুলঘুলি দিয়ে আলো এসে পড়ে ঘুমন্ত ভূমির ওপর। টিকটিকিকে ভূমি নিজেও ঘুলঘুলি দিয়ে যেতে আসতে দেখে। ভালো একটা খেলার জায়গা ওর। খেলতে খেলতেই ঘুলঘুলির ফাঁকে আটকা পড়ে গেছে ও। মাথাটা আটকা পড়েছে। বাকিটা ঝুলছে। প্রথমে বোঝা যায়নি। ভূমি নিজেও ভেবেছিল টিকটিকি খেলছে অন্যদিনের মতো। ওর লেজ নাড়া প্রথম ভূমির ভালোই লাগছিল। মজা পাচ্ছিল ও। দাদাকে গিয়ে খুঁজে এসেছে দেখাবে বলে, দাদা ঘরে ছিল না। ও যখন বসে টিকটিকির লেজ নাড়া দেখছিল, তখন সামনের দেয়ালে ভেসে ওঠে দুষ্টু রোবট- বসে মজা দেখছো তুমি? ভূমি বলে খুব মজা। দেখো না টিকটিকি কেমন করে লেজ নাড়াচ্ছে। দুষ্টু রোবট বলে- ও তো মজা করে লেজ নাড়াচ্ছে না।

কষ্টে ছটফট করছে। ভূমি বিস্ময় ভরা চোখে দুষ্টু রোবটের কাছে জানতে চায়- কষ্ট কেন, ও তো খেলছে। দুষ্টু রোবটের পুরো শরীরে নীল আলো জ্বলে ওঠে। যখন ও কোনো ঘটনায় কষ্ট পায় তখন ওর শরীরে জ্বলে ওঠে নীল আলো। দুষ্টু রোবট বলে- ও খেলতে খেলতেই আটকা পড়ে গেছে। এখন বের হতে পারছে না। ভূমি বলল- তুমি একটু চেষ্টা করে দেখো না। দুষ্টু রোবটের চোখ জ্বলে উঠল। সেখান থেকে টপ টপ করে জল গড়িয়ে পড়ে- আমি পারলাম না। অনেক চেষ্টা করেছি। দুষ্টু রোবটের কান্না দেখে ঘাবড়ে যায় ভূমি- তুমিতো রোবট। কেন পারছো না তুমি? চোখ থেকে জল পড়েই যাচ্ছে দুষ্টু রোবটের- আমি তো রোবট। আমাকে তো মানুষ তৈরি করেছে। আমি কি সব পারি? আমাকে যা শিখিয়েছে, আমি ততটুকুই পারি। ভূমি চিন্তিত। কি করে টিকটিকিকে উদ্ধার করা যায়। এখনো যন্ত্রণায় ছটফট করছে বেচারা।

ও তখন মাকড়শার কাছে গেল। মাকড়শা বারান্দায় পাতাবাহার গাছে ঝুলে আছে। ওকে দেখেই মাকড়শা জিজ্ঞেস করল-কি যুদ্ধ যুদ্ধ খেলতে মন চাইছে? ভূমি ওর কথার উত্তর না দিয়ে হাত ধরে নিয়ে আসে ঘরে। দেখায় টিকটিকির অসহায় অবস্থা। মাকড়শারও দেখে মায়া লাগল। বলল- কতক্ষণ হলো। ভূমি জানায়- অনেকক্ষণ। তুমি ওকে উদ্ধার করে নিয়ে আসো। মাকড়শা দেয়াল বেয়ে ওপরের দিকে ওঠে যায়। উঁকি দিয়ে দেখে টিকটিকির মাথা ঘুলঘুলির ভেতরে আটকে আছে এমন করে সে নিজেকে বের করে নিয়ে আসতে পারছেন না। গলা আটকে আছে সিমেন্টের একটি কোনার সঙ্গে। মাকড়শা ওর হাত পা ব্যবহার করে অনেক চেষ্টা করল, হলো না। কিন্তু কাছ থেকে টিকটিকির যন্ত্রণা ও আরো বেশি করে অনুভব করল। বুকভরা কষ্ট নিয়ে ফিরে এলো ভূমির কাছে। দুষ্টু রোবট বলল- ওর খুব কষ্ট হচ্ছে তাই না? মাকড়শা বলে- দম বন্ধ হয়ে বেচারা মরে যায় কিনা সেই ভয়ে আছি।

ভূমি একটু ভেবে হাততালি দিয়ে বাদুড়কে ডাকল। বাদুড় এসে হাজির। মাকড়শা যা দেখেছে কাছে থেকে সব কিছুর বর্ণনা দিল। বাদুড় বলে- যত জলদি ওকে ওই মরণফাঁদ থেকে ছাড়িয়ে আনতে হবে। ভূমি জানতে চায়- তোমার কাছে কোনো বুদ্ধি আছে? বাদুড় মাথা নেড়ে বলে- আমি শুধু ছোঁ মেরে নিয়ে আসতে পারি। ঘুলঘুলি থেকে ওকে বের করে নিয়ে আসবো কি করে? ভূমি দুষ্ট রোবটকে বলে- তাহলে কি করা যায় বলো তো? দুষ্ট রোবট বলে- আমার মাথায় একটা বুদ্ধি এসেছে। ভূমি কৌতূহলী হয়ে ওঠে- বলো, বলো কি বুদ্ধি এসেছে?

দুষ্টু রোবট বলল- বাদুড় আর মাকড়শার সৈন্যদলকে খবর দাও। ওদের দুই দল দুই দিক থেকে উঠে যাক। এক দল যাবে পেছনে, আরেক দল থাকবে সামনে। পেছনের দল ওর সিমেন্ট থেকে ওর মাথা হালকা করে তুলে দেবে। আর এদিকে যারা থাকবে তারা টিকটিকিকে ধরে নিচে নামিয়ে আনবে। ভূমি চট করে বলল- এক কাজ করলেই তো হয়। ওদের কামান আর মেশিন গান দিয়ে ঘুলঘুলিটা গুঁড়িয়ে দেই। দুষ্টু রোবটের পুরো শরীরে আলো জ্বেলে ওঠে, একটু রাগ দেখালো ও- তোমার না অনেক বুদ্ধি। এটা তো বোকার বুদ্ধি হয়ে গেল। কামান আর মেশিন গান দিয়ে গুলি করলে টিকটিকিতো মরেও যেতে পারে। ভূমি ওর ভুল বুঝতে পারে। তারপর মাকড়শা আর বাদুড়কে বলে তাদের সৈন্যদল নিয়ে এগিয়ে যেতে। মাকড়শাকে বলল নিচে তার জাল পেতে রাখতে। যদি সৈন্যদের হাত ফসকে টিকটিকি নিচে পড়ে যায়।