আমাদের দুখু মিয়া

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৩১ ভাদ্র ১৪২৬

আমাদের দুখু মিয়া

সৈয়দ আসাদুজ্জামান ৪:৫৯ অপরাহ্ণ, মে ২৫, ২০১৯

print
আমাদের দুখু মিয়া

আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তার ছেলেবেলা কেমন ছিল জানো তোমরা? শৈশব তার অতি কষ্টের ছিল বলে মানুষ তাকে নাম দিয়েছিল দুখু মিয়া। সেই দুখু মিয়া একদিন হয়ে ওঠে অন্যতম বাঙালি কবি। বাংলার মানুষের কাছে তিনি বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত।

নজরুল শুধু একজন কবি ছিলেন না, একই সঙ্গে তিনি ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, গীতিকার, সুরকার, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, সৈনিক ও দার্শনিক ছিলেন। বিস্ময়কর প্রতিভার অধিকারী নজরুলের সঙ্গে ছোটদের অনেক বড় ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল। তিনি ছোটদের খুব ভালোবাসতেন। নজরুলকেও শিশুরা নিখাদ অকৃত্রিম ভালোবাসায় আপ্লুত করত। শিশুদের মাঝে নজরুল অপার সম্ভাবনা দেখতে পেতেন।

১৮৯৯ সালের ২৪ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে একটি দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন নজরুল। তার বাবার নাম ফকির আহমদ এবং মায়ের নাম জাহেদা খাতুন। মাত্র আট বছর বয়সে নজরুল পিতৃহারা হন। তছনছ হয়েছিল তার শৈশব। তাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছিল। তিনি হেরে যাননি, দমে যাননি। জয় করে নিয়েছেন সব প্রতিকূলতাকে। ছোটদের নিয়ে হইচই করতেন, গান শোনাতেন। শিশুতোষ ছড়া, কবিতা আবৃত্তি করতেন। তিনি শিশুদের মাঝে মিশে গিয়ে নিজেকে আবিষ্কার করতেন। নজরুল তার ছন্দের জাদু দিয়ে ছোটদের মনে নানা ভাব জাগিয়ে তুলতেন। তাদের সম্ভাবনা উসকে দিতেন। ছোটদের সুন্দর আগামীর স্বপ্ন দেখাতেন।

‘শিশু জাদুকর’ কবিতায় শিশুর প্রতি নজরুলের মমত্ববোধের পরিচয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ‘খুকি ও কাঠবিড়ালী’ শিশুর মনোজগতে অনুরোধ, প্রত্যাশা ও অভিমান মিশ্রিত এক ভালোলাগার পরিবেশ তৈরি করে। একটি পেয়ারার জন্য খুকির আগ্রহ, তার আবেগানুভূতির বিচিত্র ওঠানামা রচনাটিকে নাটকীয় করে তুলেছে।

প্রথমে কাঠবিড়ালীর সঙ্গে বন্ধুতার আয়োজন, তারপর তাকে খুশি করে তার কাছ থেকে পেয়ারা পাওয়ার চেষ্টা এবং শেষে প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় রাগের প্রকাশ। ছোটদের জন্য তার বিখ্যাত লেখাগুলো হলো- ভোর হলো দোর খোল, খুকি ও কাঠবিড়ালী, খোকার সাধ, সংকল্প, লিচু চোর ইত্যাদি। তার কবিতার মূল বিষয় ছিল মানুষের ওপর মানুষের অত্যাচার এবং সামাজিক অনাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন এই বিদ্রোহী কবি ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশেই কবি চির নিদ্রায় শায়িত আছেন।