তোমাদের পহেলা বৈশাখ

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ জুন ২০১৯ | ৬ আষাঢ় ১৪২৬

তোমাদের পহেলা বৈশাখ

ইচ্ছেডানা ডেস্ক ১২:৫৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৩, ২০১৯

print
তোমাদের পহেলা বৈশাখ

ইংরেজি এপ্রিল মাসের ১৪ তারিখে প্রতিবছর পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হয়। তথ্যটা অবশ্য তুমি জানো। শহরে তো বটেই, বাংলা নববর্ষের উৎসবটি গ্রামবাংলার মানুষের ঘরে ঘরে আনন্দের বান ডেকে আনে। তো কীভাবে শুরু হলো উৎসবটি?

 

সম্রাট আকবরের সময়কাল থেকে পহেলা বৈশাখ উদযাপন হয়ে আসছে। তখন প্রত্যেককে বাংলা চৈত্র মাসের শেষ দিনের মধ্যে খাজনা, মাশুল ও শুল্ক পরিশোধ করতে হতো। পরের দিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখে ভূমির মালিকরা নিজ নিজ অঞ্চলের অধিবাসীদের মিষ্টান্ন দ্বারা আপ্যায়ন করতেন। এ উপলক্ষে বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন করা হতো। এ উৎসবটি একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয়, যার রূপ পরিবর্তন হয়ে বর্তমানে এই পর্যায়ে এসেছে।

তারপরও এ দিনটি আমাদের সবার জন্য বিশেষ। বাংলা সন যেহেতু সূর্যমাস মেনে চলে। সেহেতু সূর্যোদয়ের পরই বাংলা নববর্ষের শুরু। তার আগে নয়। তো এই দিনটি তুমি কীভাবে কাটাবে বলে ঠিক করেছ। যদি ঠিক করে থাক, দেখ আমাদের ভাবনার সঙ্গে তোমার ভাবনা মেলে কিনা। যদি কিছু বাদ পড়ে থাকে, তাহলে তা ঝটপট সংশোধন করে নিতে পার।

নিজের ঘরটি পরিষ্কার করে ফেলো, যেন নতুন বছরটি একটি পরিচ্ছন্ন দিন হিসেবে শুরু করতে পারো। ঘর পরিচ্ছন্ন করার কাজটি অবশ্যই পহেলা বৈশাখের আগের দিন করে ফেলবে। তুমি নিশ্চয়ই নতুন বছরে পরিচ্ছন্নতার পেছনে সময় নষ্ট করতে চাইবে না। ঘরকে রঙিন করে তোল। উৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গ হচ্ছে রং। তোমার পছন্দের রঙের বিছানার চাদর, জানালার পর্দা দিয়ে রাঙিয়ে তোল তোমার ঘরটি। চাইলে কিছু ফুল কিনে আনতে পার। পছন্দের ফুলদানিতে প্রিয় ফুলটি নতুন বছরের একটি আলাদা আমেজ তৈরি করবে।

নববর্ষের সারা দিন কীভাবে কাটাবে? নতুন দিনের জন্য নতুন একটি পোশাক বেছে নাও। পোশাকের রঙের বিষয়ে খেয়াল রাখবে। মনে রাখবে, উৎসবের জন্য কালো জাতীয় কোনো পোশাক উপযুক্ত নয়। উৎসবের জায়গাগুলোতে ঘুরে এসো। তোমার বাসার আশপাশে নিশ্চয়ই এমন কিছু জায়গা আছে, যেখানে উৎসবের দিন সমাগম হয়। চাইলে সেখানে গিয়ে ঘুরে আসতে পার। বৈশাখ উপলক্ষে বন্ধুদের নিয়ে আয়োজন করতে পার আনন্দমেলার। নিজেই বানিয়ে নিতে পার নববর্ষের কার্ড। দিতে পার প্রিয় বন্ধুদের। দিনের শুরুতেই পরিবারের সবাইকে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানিয়ে দিনটি শুরু করতে পার।

বৈশাখ মানেই গ্রীষ্মের শুরু। ফলে, এই দিনটিতে খাবারের বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি। পান্তা-ইলিশ দিয়ে অনেকেই বৈশাখের দিনের আহার করতে পছন্দ করে। তবে গ্রীষ্মের নানা ফল হতে পারে খাবারের বিশেষ অনুষঙ্গ। বিশেষ করে, কাঁচা আমের ভর্তা কিংবা জুস বানিয়ে নিতে পার তুমি নিজেই। নতুন বছরের রান্নায় সহযোগিতা করতে পার বড়দের। অনলাইনে জেনে নাও নতুন বছরের জন্য নতুন কোন রেসিপিটা আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

এ দিনটিতে মোটেও টিভি দেখে সময় নষ্ট করার মানে হয় না। পরিবারের সঙ্গে পছন্দের কোনো ইভেন্টে গিয়ে সময় কাটাতে পার। নিজের ঘরেই বন্ধুদের নিয়ে করতে পার কোনো ইভেন্ট। বাড়ির ছাদে কিংবা ড্রইংরুমে করতে পার গানের আয়োজন। বন্ধুদের সঙ্গে সারা বছরের ছুটির দিনের প্ল্যানিংগুলোও করে নিতে পার এ দিনটিতে। সন্ধ্যার জন্য বানাতে পার ফানুস।

আর মনে রাখবে, উৎসবের দিন অচেনা কোনো জায়গায় গেলে সব সময় খেয়াল রাখবে যেন হারিয়ে না যাও।