রংধনু গ্রাম

ঢাকা, রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১ | ৫ বৈশাখ ১৪২৮

রংধনু গ্রাম

ডেস্ক রিপোর্ট ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২১

print
রংধনু গ্রাম

একপশলা বৃষ্টির পর ঝকঝকে আকাশ। রোদের আলো ঝিলিক দিচ্ছে পরিষ্কার আকাশে ভেসে উঠল সাতটি রঙের আভা। একদিকে বৃষ্টি হওয়ার কারণে ভেজা মাটির ভ্যাপসা গন্ধ লাগছে নাকে। সেই সঙ্গে ঝকঝকে আকাশে রংধনু, আপনার মন ভালো করে দেবেই। আষাঢ় মাসেই এই দৃশ্য দেখা যায়। এরপর পরের বছরের জন্য অপেক্ষা।

 

তবে ইন্দোনেশিয়ার একটি গ্রাম এই আফসোস পুষিয়ে নিয়ে নিজেদের গ্রামকেই সাজিয়ে ফেলেছে রংধনুর সাতরঙে। ইন্দোনেশিয়ার আর ১০টা গ্রামের একটি কম্পুং পেলেঙ্গি। অতীতে বিদেশ ঘুরতে আগ্রহী কেউই হয়তো এই গ্রামটিতে যাওয়ার কথা ভাবেনি। তবে গেল বছর থেকে রঙের বাহারে সেজে থাকা সেই গ্রামটিই এখন পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। রঙ তুলিতে আঁকা বর্ণিল সাজে সেজে আছে ইন্দোনেশিয়ার এই গ্রামটি। আগে গ্রামের নাম কম্পুং পেলেঙ্গি হলেও বর্তমানে সারাবিশ্ব তাকে চিনে রেইনবো ভিলেজ বা রংধনু গ্রাম নামেই। এক সময় গ্রামটি ছিল বেশ জরাজীর্ণ এবং নোংরা। অনেকটা বস্তির মতো পরিবেশে বসবাস করত এই গ্রামের মানুষ। মলিন সেই গ্রামটি আজ হয়ে উঠেছে লাখো পর্যটকদের আকর্ষণের মূল কারণ।

একটা সময় গ্রামটি খুব বিষণœতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। গ্রামবাসী ছিল বিপন্ন। আর্থিক অসচ্ছলতায় ভুগছিল সকলে। বিষণœতা থেকে পরিত্রাণের উপায় খুঁজে বের করলেন সেই গ্রামের ৫৪ বছর বয়সী একজন শিক্ষক। নাম তার সø্যামেট উইডোডো। গ্রামটিকে ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ইন্দোনেশিয়া সরকার। কিন্তু শিক্ষক নিজেদের আরেকটি সুযোগ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। তার সেই একটি প্রচেষ্টায় বিবর্ণ এবং মলিন একটি গ্রাম হয়ে ওঠে বর্ণিল। শিক্ষার্থীদের নিয়ে উদ্যোগ নেন পুরো গ্রামকে রঙ করার। গ্রামের শৈল্পিক মানুষদের এক জোট করে রঙ তুলি কিনে শুরু করে দেন পুরো গ্রাম রঙ তুলিতে আঁকা। রাস্তাঘাট, ঘর বাড়ি, বাড়ির দেয়াল, ছাদ, সিঁড়ি সব কিছু ফুটে উঠে নতুন রঙের ছোঁয়ায়। এক মাসের মধ্যে রঙ করা হয়ে যায় পুরো গ্রাম। রঙ তুলিতে আঁকা হয় বেশ কিছু কার্টুন চরিত্রও। বদলে যায় গ্রামের পুরো নকশা। নকশার সঙ্গে বদলে যায় তাদের জীবন যাপন। রাস্তাঘাট সাজানো হয় রঙিন ছাতা দিয়ে।