মসলা খাবার

ঢাকা, রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭

মসলা খাবার

ডেস্ক রিপোর্ট ১২:০৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২২, ২০২১

print
মসলা খাবার

বাঙালি খাবার তো মসলা ছাড়া চিন্তাই করা যায় না। এলাচ, দারুচিনি, হলুদ, জিরা, ধনিয়া, মরিচ, আদা, রসুন ও লবঙ্গের ব্যবহার সব খাবারেই। হাজার হাজার বছর আগেও খাবারে এসব মসলা ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। শুধু যে খাবারের স্বাদ বাড়ায় তাই-ই নয়, এসব মসলার রয়েছে নানান ওষুধি গুণ।

হার্ভার্ড ও চায়নিজ ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন ২০১৫ সালে একটি গবেষণা প্রতিবেদন বের করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যারা সপ্তাহে সাত বা অন্তত একদিনের জন্য হলেও মসলাযুক্ত খাবার খায়, তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি ১৪ শতাংশ হ্রাস পায়।

তবে মসলার সঙ্গে বাঙালির রয়েছে আবেগের সম্পর্ক। মসলাদার ঝাল খাবার বলতে বাঙালির জিভে জল। সে ভর্তা হোক বা মাংস ভুনা- সবেতেই একটু ঝাল দিয়ে রান্না করা। তবে শুধু বাঙালিই নয়, কান লাল করা ঝাল মসলা খাবার প্রিয় বিশ্বের অনেক দেশে। চলুন জেনে নেওয়া যাক বিশ্বের কোন কোন দেশের খাবারে এই মসলার আবেগ জড়িয়ে আছে।

প্রথমেই আসা যাক চীনাদের কথায়। আমাদের দৈনন্দিন কাজগুলো তাদের জন্য আজ বেশ সহজ হয়েছে। সেজন্য আগেই তাদের মনে পড়ার কথা সবারই। ভাত-মাছ আর বিরিয়ানির প্রেমে বাঙালি যতই হাবুডুবু খাক না কেন, সবচেয়ে পছন্দের ডিশের মধ্যে রয়েছে চায়নিজ। সেই ১৮ শতক থেকে বাঙালি আর চীনারা একসঙ্গে ওঠা-বসা করছেন। তাই চীনা খাবারের প্রতি বাঙালির ঝোঁক থাকাটা স্বাভাবিক। চীনের কিছু অংশ মসলাদার খাবার পছন্দ করে। আপনি যদি চীনের আসল মসলার স্বাদ নিতে চান তবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যেতে পারেন। সেখানকার শুকনো কাঁচামরিচ এবং সিচুয়ান মরিচ ব্যবহার করে দেখুন। আসল ঝালখোরদের মন জয় করবে নিমিষেই।

থাই কুজিন বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় কুজিন। প্রায় সব দেশেই থাই খাবারের জনপ্রিয়তা রয়েছে। স্টার ফ্রাই, স্যুপ, কারি। এ ধরনের খাবার তৈরি করতেই অনেক বেশি পাতা বা হার্ব এবং কাঁচা মরিচের ব্যবহার করে। এর মধ্যে লাল মরিচের ব্যবহার বেশি দেখা যায়।

এ ছাড়া খাবারকে স্পাইসি করতে রান্নায় প্রচুর পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লেমনগ্রাস, পুদিনাপাতা ব্যবহার করে এরা। ‘কায়েং তাই প্লা’ নামের সবজি ও শুঁটকি দিয়ে বানানো তরকারিকে থাইল্যান্ডের সবচেয়ে বেশি ঝাল খাবার বলে বিবেচনা করা হয়। এ ছাড়া লাল মরিচের পেস্ট দিয়ে তৈরি মাছ, মাংস বা সবজির বিভিন্ন রেড কারিও বেশ ঝাল হয়ে থাকে।

সবার পছন্দের রামেন নুডুলসের জন্য কোরিয়ানদের ঝাল খাওয়ার ব্যাপারে আর কোনো সন্দেহ নেই কারো। বিশ্বায়নের ফলে কোরিয়ান খাদ্য সংস্কৃতি আজ আমাদের অনেকেরই জানা। কোরীয়দের ঝাল খাওয়া দেখলে যে কেউই অবাক হতে পারে। সব খাবারেই তারা গচুজাং নামের একধরনের লাল মরিচের পেস্ট ব্যবহার করে। গচুজাং পেস্ট ছাড়া কোনো কোরিয়ান খাবার কল্পনাই করা যায় না।

মেক্সিকোতেই জন্মায় ১৪০ জাতের লঙ্কা! উত্তর আমেরিকার এ দেশের কোনো খাবারই লঙ্কা ছাড়া হয় না। এমনকি অ্যালকোহলেও অনেক মেক্সিকান মরিচ মিশিয়ে খান। এ দেশেই বিখ্যাত হালেপিনো, পবলানো, সেররানো, আঞ্চো আর কুখ্যাত হাবানেরো মরিচের জন্মস্থান। মেক্সিকোতে অতিরিক্ত ঝাল খাবার খাওয়া আর এর ঝাল সহ্য করাকে শৌর্যবীর্যের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। মোলে, সালসা, চিলেস রেয়েনো, সোপা দে কামারোন, আগুয়াচিলে, চিলাতে দে পইয়ো ইত্যাদি এ দেশের সবচেয়ে ঝাল খাবারগুলোর মধ্যের অন্যতম।