মাথা ঘুরিয়ে চা পান

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৯ মার্চ ২০২১ | ২৪ ফাল্গুন ১৪২৭

মাথা ঘুরিয়ে চা পান

ডেস্ক রিপোর্ট ১২:৩০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৫, ২০২১

print
মাথা ঘুরিয়ে চা পান

পৃথিবীতে মানুষ নানা প্রতিভা নিয়ে জন্মে থাকে। কারও কারও এমন প্রতিভা আছে যা শুনলে যে কেউ বিস্মিত হবে। আচ্ছা, যদি বলি তোমরা তোমাদের মাথা পেছনের দিকে ১৮০ ডিগ্রি ঘোরাতে পারবে? ভাবছেন নিশ্চয় কোনো ভূতের কোনো সিনেমার গল্প বলছি। আমাদের ফিরে যেতে হবে প্রায় দেড়শ বছর আগে। ১৮৮৫ সালের কথা। জার্মানির নুরেমবার্গে জন্ম নেয় এক অদ্ভুত শিশু। আজকাল যাকে বলা হয় জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশু। শিশুটি জন্মের পর পরই চিকিৎসকরা দেখলেন তার স্পাইনাল কর্ড অনেকখানি বাঁকা হয়ে পাকিয়ে রয়েছে। আর এই পাকানো স্পাইনাল কর্ডই তার ঘাড়কে প্রচুর পরিমাণে নমনীয়তা প্রদান করে। এটা বলা হয়ে থাকে যে, যখন তিনি তার মাথা ঘুরিয়ে পেছনের দিকে আনতেন, তখন তার স্পাইনাল কর্ড দেখতে প্রশ্নবোধক চিহ্নের (?) মতো হয়ে থাকত।

পরবর্তীতে এই শিশু দেশে-বিদেশে অনেক নাম করেছিলেন। ঠিক যেমন পেঁচা তার মাথা ঘুরিয়ে নিয়ে নিজের পিঠ চুলকাতে পারে। এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে অন্তত একজন মানুষ ঠিক এই প্রতিভা নিয়ে জন্মেছেন। যিনি তার মাথা ১৮০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে একদম পেছনের দিকে নিয়ে যেতে পারেন। মানে তার শরীর ঠিকই সামনের দিকে থাকছে, আর মাথা ঘুরে আছে পেছনের দিকে। আর এ কারণেই তাকে বলা হতো হিউম্যান ওল। ওল মানে হলো পেঁচা। এই মানুষটির নাম মার্টিন জো লরেলো।

বর্তমানে ফটোশপের মাধ্যমে এমনটা দেখা গেলেও মার্টিন জো লরেলো সত্যিকার অর্থে নিজেই নিজের মাথা ঘুরিয়ে পেছনের দিকে আনতে পারতেন। এটা তিনি সম্ভব করেছেন এ ধরনের টেলিভিশন সিরিজ বা সিনেমা প্রচার হওয়ার বহু আগেই! মার্টিন জো লরেলো জন্মের পর থেকেই কিন্তু মাথা ঘুরিয়ে পুরোটা পেছনের দিকে আনতে পারতেন না। পুরোপুরি পেছনে আনতে তাকে অনেক পরিশ্রম এবং চর্চা করতে হয়েছে। তার এই অস্বাভাবিকতাকে কাজে লাগানোর জন্য লরেলো প্রায় তিন বছর বিভিন্ন ধরনের চর্চা করে গেছেন।

তার মধ্যে কিছু চর্চা ছিল শুধু তার ঘাড়ের মেরুদণ্ডের কিছু হাড়কে স্থানচ্যুত করা, যাতে তিনি তার মাথাটা ঘুরিয়ে সম্পূর্ণ পেছনের দিকে আনতে পারেন! এতে তিনি সফলও হয়েছেন। এই অস্বাভাবিকতাকে তিনি কাজে লাগিয়েছেন বিভিন্ন সার্কাসে মানুষকে বিনোদন দেওয়ার মাধ্যমে। তবে কিছুটা অদ্ভুত ব্যাপার হলো, মাথা পেছনে থাকা অবস্থায় তিনি মুখ দিয়ে যেকোনো তরল যেমন- পানি, জুস ইত্যাদি পান করতে পারতেন, কিন্তু কোনোভাবেই নিঃশ্বাস নিতে পারতেন না।

আগে লরেলোর সময়ে মানুষের বিনোদনের অন্যতম উৎস ছিল বিভিন্ন ধরনের সার্কাস। সেসব সার্কাসের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকত বিভিন্ন ধরনের সার্কাস খেলোয়াড়। তাদের মধ্যে থাকত অদ্ভুত ও ব্যতিক্রমী কিছু করে দেখানোর ক্ষমতা। পাশাপাশি আরও কিছু মানুষ থাকতেন, যারা তাদের দৈহিক বিকলাঙ্গতার কারণে অদ্ভুত সব শারীরিক দক্ষতা দেখাতে পারতেন। তাদের এই সার্কাসগুলোকে বলা হতো ‘সাইড-শো’। অর্থাৎ প্রধান সার্কাস প্রদর্শনীর পাশাপাশি বিকলাঙ্গ ব্যক্তিদের অদ্ভুত সব শারীরিক দক্ষতা দেখানোরও ব্যবস্থা থাকত।