মাটির নিচের শহর

ঢাকা, শনিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২১ | ১০ মাঘ ১৪২৭

মাটির নিচের শহর

ডেস্ক রিপোর্ট ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৫, ২০২০

print
মাটির নিচের শহর

তুরস্কের আনাতোলিয়ার কাপাডোশিয়ায় অবস্থিত কয়েক হাজার বছর পুরনো মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা এক রহস্যময় শহর ডেরিংকুয়ো। মাটির নিচে প্রায় ২৮০ ফুট গভীর এই শহরটির ছিল ১৮টি স্তর। এই স্তরগুলো জুড়ে ছিল স্কুল, গীর্জা, রান্নাঘর, গোয়াল, কবরসহ একটি সম্পূর্ণ শহর। প্রায় ২০ হাজার মানুষের বাসযোগ্য করে তৈরি করা হয়েছিল এটি। ১৯৬৩ সালে সাধারণ একটি বাড়ি মেরামতের সময় আবিষ্কৃত হয় মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা রহস্যময় শহরটি।

কয়েক মিলিয়ন বছর আগেই এই এলাকাটিতে অগ্নুৎপাত হয়েছিল। ৩ হাজার ৩০০ ফুট উঁচু মালভূমিতে অবস্থিত এই অঞ্চল। সমস্ত এলাকা ডুবে গিয়েছিল ছাই আর লাভায়। পরবর্তীতে এই ছাই ও লাভা পরিবর্তিত হয়ে রূপ নেয় নরম শিলায়। সেই নরম শিলা খোদাই করে তৈরি করা শুরু করে ঘরবাড়ি ও আশ্রয়স্থল মাটির নিচে। ঘরে প্রবেশের মুখগুলো কুয়ার মতো হলেও ভেতরে ছিল যথেষ্ট প্রশস্ত। গবাদিপশুর যাতায়াতের জন্য ছিল সুড়ঙ্গ। তবে মানুষ যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করতো সিঁড়ি। ঘরগুলোতে ছাগল, ভেড়া, বাছুরসহ বিভিন্ন ধরনের পাখি পোষা হতো এবং প্রতিটি ঘরেই এদের সবার খাবারের ব্যবস্থা ছিল। এসব গুহা ছাড়াও এখানে ছিল কয়েকটি উপাসনালয়, খাবারের দোকান, মদের ভান্ডার এবং কবরস্থান। বিভিন্ন ঝোপঝাড়, দেয়াল ও বাড়ির উঠানের আড়ালে লুকানো ছিল প্রায় একশর মতো প্রবেশপথ।