মানুষরূপী সাপ

ঢাকা, রবিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২১ | ১১ মাঘ ১৪২৭

মানুষরূপী সাপ

ডেস্ক রিপোর্ট ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৪, ২০২০

print
মানুষরূপী সাপ

মৃত থেকে জীবন্ত হয়ে শু শিয়ান ও তার মানুষরূপী সাপ স্ত্রী বাই সু ঝেন সুখে শান্তিতেই বসবাস করছিলেন। জিন শান মন্দিরের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পান শু শিয়ান।কিন্তু তার স্ত্রী বাই সু ঝেন সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তাকে নিষেধ করলেন।

বাই সু ঝেন স্বামীকে বোঝালেন, তিনি মানুষের রূপধারী এক স্বর্গীয় সাপ হওয়ার কারণে অনধিকার চর্চাকারী সন্ন্যাসীরা তাদের সংসার ভাঙার জন্য বদ্ধপরিকর। তবে শু শিয়ান ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধ। তাই মন্দিরের উদ্বোধনে নিজের উপস্থিতি নিশ্চিত করাকে তিনি পবিত্র দায়িত্ব বলে মনে করছিলেন। শু শিয়ান ও বাই সু ঝেন দম্পতি জানতেন না, ওই আমন্ত্রণ এসেছিল ফা হাইয়ের তরফ থেকে। যিনি একবার তাদের সংসার ভাঙার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিলেন এবং শু শিয়ানের জীবনকে সংকটময় করে তুলেছিলেন।

চিন্তায় অস্থির হয়ে বাই সু ঝেন স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে সেই মন্দিরের দিকে যাত্রা করলেন। তবে মন্দিরে যাওয়ার আগে ফা হাই ঠিকই তার পথ আটকে দাঁড়ালো। ক্রোধের বসে সে তার প্রার্থনার কাজে ব্যবহৃত মাদুরটি বাই সু ঝেনের দিকে ছুড়ে মারল। ফা হাই ভেবেছিল পবিত্র এই মাদুরের কল্যাণে হয়তো সু ঝেনের অশুভ আত্মা পরাভূত হবে। কিন্তু তা না হয়ে তার মাদুরটি জ্বলে পুড়ে ছাড়খার হয়ে গেল। সেই সঙ্গে ওই এলাকায় বন্যা ডেকে আনলেন, যাতে ফা হাই আর সু ঝেন ও শু শিয়ানের সংসার ভাঙতে না আসেন। তবে বন্যায় ফা হাই ছাড়াও ওই এলাকার সাধারণ মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হলো। এই প্রথমবারের মতো বাই সু ঝেনের হাতে মানুষের ক্ষতি হলো। বাই সু ঝেন ঈশ্বরের আশীর্বাদ থেকে বঞ্চিত হলেন।

এই সুযোগে ফা হাই তার জাদুকরী ভিক্ষার পাত্রের মধ্যে বাই সু ঝেনকে বন্দি করতে চাইলেন। কিন্তু তখনই বাই সু ঝেনের পেট থেকে বেরিয়ে এলো অসম্ভব উজ্জ্বল এক আলো। সেই আলোর কল্যাণেই ফা হাইয়ের কবল থেকে রক্ষা পেলেন বাই সু ঝেন। নিষ্কৃতি পেয়ে বাই সু ঝেন ও শু শিয়ান দম্পতি বাড়িতে এলেন। তাদের ঘর আলো করে এলো একটি পুত্র সন্তান। শু শিয়ান ছেলের নাম রাখলেন শু শি লিন। তবে পুত্র সন্তান জন্মের আনন্দের মাঝেও শু শিয়ানের মনে একটা খচখচানি রয়েই গেলো। স্ত্রীর বিধ্বংসী ক্ষমতা শু শিয়ানকে বেশ চিন্তিত করে তুললো। তিনি ভাবলেন, সংসারে অশান্তি বয়ে আনতে পারে তার স্ত্রীর ওই অতিমানবীয় ক্ষমতা।

শি লিন যেহেতু আদতে একজন দেবতা ও তার মাথার টুপিতে ছিলো তাজা ফুল। এ কারণেই ফা হাইয়ের দেওয়া শর্ত পূরণ হয়ে গেল। লোহার বৃক্ষে ফুল দেখা দিলো। শি লিন ফিরে পেল তার বাবা-মাকে। বাই সু ঝেন তার সব অভিশাপ কাটিয়ে একজন মরণশীল মানুষ হয়ে ফিরে আসলেন। সন্তানকে নিয়ে সু ঝেন ও শু শিয়ান দম্পতি সুখে শান্তিতে বাস করতে লাগলেন।