ভয়ানক নগরী

ঢাকা, শনিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২১ | ১০ মাঘ ১৪২৭

ভয়ানক নগরী

ডেস্ক রিপোর্ট ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৩, ২০২০

print
ভয়ানক নগরী

কাশ্মীর নাম শুনলেই চোখে ভেসে ওঠে পাহাড় আর মেঘের মিলনমেলা। সৃষ্টিকর্তার দেওয়া ওপার সৌন্দর্য নিয়ে যেন অপেক্ষা করছে কারও জন্য। অন্যদিকে লাশের মিছিল নিয়ে আর্তনাদ করা ভয়ানক এক নগরী কাশ্মীর। প্রতিটি সেকেন্ড যেখানে কাটাতে হয় মৃত্যুর অপেক্ষায়।

কাশ্মীরের এই করুণ পরিণতি কাঁদায় পুরো বিশ^কে। ব্রিটিশ শাসিত ভারতে যে কয়টি স্থান নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল তাদের মধ্যে কাশ্মীর অন্যতম। আজ থাকছে কাশ্মীরের ভূস্বর্গ থেকে নরকের তকমা পাওয়ার করুণ ইতিহাস। এখন এক ভয়ানক নগরীতে পরিণত হয়েছে কাশ্মীর। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক সেই সম্পর্কে- কাশ্মীরের অবস্থান একেবারে হিমালয়ের কোল ঘেঁষেই। বানিহাল থেকে বারামুলা পর্যন্ত এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার। আর প্রস্থে হবে ৪২ কিলোমিটারের মতো। মেঘের ভেলা ভেসে বেড়ালেও বৃষ্টির দেখা মেলে না খুব একটা। তবে একেবারেই যে বৃষ্টি হয় না তা কিন্তু নয়। মার্চ-এপ্রিল মাসে পশ্চিমের ভূমধ্যসাগরীয় পুবালী বাতাসের ফলে কিছুটা বৃষ্টি হয়। চারপাশের পর্বতের সারির মধ্যে সমতল ভূমিতে মানুষের বসবাস। কাশ্মীরের পশ্চিম দিকে পর্বতের বেষ্টনী উন্মুক্ত হয়ে চলে গেছে নদী আর সড়কের দিকে।

ভারতীয় সরকার কাশ্মীরকে ওয়াদা অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেনি। উল্টো বিভিন্ন সময়ে কাশ্মীরের সাধারণ জনগণের ওপর চালানো হয় হত্যাযজ্ঞ। প্রায় প্রতিদিনই লাশ নিয়ে মিছিল হয় কাশ্মীরের বিভিন্ন প্রান্তে। কী হবে তবে ভবিষ্যতে? এই মৃত্যু অবধারিত ধারা কি চলতেই থাকবে? বিখ্যাত আমেরিকার রাজনৈতিক বিশ্লেষক নোয়াম চমস্কি বলেছেন ৮০ সালের নির্বাচন কাশ্মীরকে বীভৎস করে দিয়েছে। এই সংকট ভারত এবং পাকিস্তানের জন্য হাস্যকর। তবে ভারত অপেক্ষাকৃত বড় হওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কিন্তু পাকিস্তানের ক্ষতি হচ্ছে বেশি। তবে দিন শেষে পুঁজিবাদের যুগে ভারতে গণভোটের আয়োজন করার দুঃসাহস করবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সুতরাং ভূ-স্বর্গ কাশ্মীরের অধিকার কখন অধিকার ফিরে পাবে তার কোনো নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে না। দিন শেষে সেই ছেলের লাশ বহন করা কফিন নিয়ন্ত্রণ করা বাবার কান্না আর স্রষ্টার সাহায্য কামনা করা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।