নির্মম মৃত্যুদণ্ড

ঢাকা, শনিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২১ | ১০ মাঘ ১৪২৭

নির্মম মৃত্যুদণ্ড

ডেস্ক রিপোর্ট ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৩, ২০২০

print
নির্মম মৃত্যুদণ্ড

ইতিহাসের অত্যাচারী শাসক হিসেবে বেশ নাম ডাক ছিল নাসরুল্লা খানের। তিনি কসাই নামেও পরিচিত ছিলেন তৎকালীন সময়ে। উজবেকিস্তানের অত্যাচারী এ শাসকের ছিল শাস্তির বিভিন্ন পদ্ধতি। এর মধ্যে দ্য বাগ পিট সবচেয়ে জঘন্য- যেখানে অসংখ্য পোকামাকড়ের কামড়ে মৃত্যু হয় অপরাধীর। একবার এই শাসক এক রাষ্ট্রদূতকে জঘন্যতম এই শাস্তি দিলেন। তার অপরাধ ছিল তিনি রাজার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন কিন্তু কোনো উপহার নিয়ে আসেননি। সে সময়টায় মধ্য এশিয়ার দখলে ব্রিটিশ ও রাশিয়ানদের মধ্যে চলছে শক্তির লড়াই।

 

কূটনীতির বার্তা নিয়েই বুখারার আমিরের কাছে গিয়েছিলেন স্টোডার্ট। তবে আমিরের কাছে এলেও তিনি কোনো উপহার নিয়ে যাননি। এতেই চটে যান নাসরুল্লা খান। উপহার না নিয়ে যাওয়ার ‘অপরাধে’ স্টোডার্টকে বিষাক্ত পোকা ভর্তি এক মারণ গর্তে (পরে নাম হয় দ্য বাগ পিট) ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

বুখারার জিন্দন কারাগারে রয়েছে এই গর্ত প্রায় ৪০ ফুট গভীর। অর্থাৎ তিনতলা বাড়ির সমান এর গভীরতা। দড়ির সাহায্য ছাড়া নামা সম্ভব নয় এখানে। নামলেও বিপদ। কারণ সেই গর্তের ভিতর নানা রকম বিষাক্ত পোকামাকড়, ইঁদুরের বাস। সেখানেই ফেলে দেয়া হয়েছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির স্টোডার্টকে। মৃত্যুদণ্ডের আগে প্রায় তিন বছর সেই গর্তের ভিতর নারকীয় যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়েছিল তাকে।

যদিও কীভাবে ওই পোকামাকড় ভর্তি গর্তের ভিতর বছর তিনেক বেঁচে ছিলেন তিনি, তা আজো বিস্ময়ের। স্টোডার্টের আগেও সেখানে অনেককে ফেলা হয়েছিল। তবে এত দিন কেউই বাঁচেননি। বুখারা থেকে স্টোডার্টকে উদ্ধার করতে ১৮৪১ সালে সেখানে যান ব্রিটিশ ক্যাপ্টেন আর্থার কনোলি।

সেই অবস্থাতেই রাস্তার উপর নতজানু হয়ে বসানো হয় তাদের। প্রথমে তরবারি ধড় থেকে স্টোডার্টের মাথা আলাদা করে। তারপর কনোলির গলা কেটে দেয়া হয়। এরপরই ব্রিটেন জুড়ে শোক পালন করা হয় এই দুই জনের জন্য। স্টোডার্ট ও কনোলির নাম ছড়িয়ে পড়ে ব্রিটেনে ঘরে ঘরে। বর্তমানে বুখারার ‘দ্য বাগ পিট’ পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণের জায়গা। বুখারার জিন্দন প্রিজনে ইতিহাসের সাক্ষী হতে প্রতি বছর বহু মানুষের সমাগম ঘটে।