স্কুলের মাইনে হিসেবে দিতে হয় প্লাস্টিক বর্জ্য

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

স্কুলের মাইনে হিসেবে দিতে হয় প্লাস্টিক বর্জ্য

ডেস্ক রিপোর্ট ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০১৯

print
স্কুলের মাইনে হিসেবে দিতে হয় প্লাস্টিক বর্জ্য

টাকা নয়, প্লাস্টিক চাই, তবেই পড়া যাবে এই স্কুলে। এই আদর্শ নিয়েই ভারতের আসাম রাজ্যে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য তৈরি হয়েছে ‘অক্ষর ফোরাম’। এখানে পড়তে গেলে টাকা নয়, স্কুল-ফি হিসেবে দিতে হবে বর্জিত প্লাস্টিক। আজকের যুগে দাঁড়িয়ে যেখানে প্রাইভেট স্কুলগুলোর কাঁড়ি কাঁড়ি মাইনে নিয়ে বাবা-মা চিন্তিত থাকেন, সেখানে পরিবেশ সচেতন এমন প্রতিষ্ঠান সবাইকে অবাক করে দেয়।

যত্র-তত্র ফেলা প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে বিপন্ন পরিবেশ রক্ষায় এখানের ছাত্রছাত্রীরা বাড়ি থেকে বর্জিত প্লাস্টিক বয়ে নিয়ে যায় স্কুলে। সপ্তাহে এক বা দুদিন পড়ুয়ারা তাদের বাড়িতে পড়ে থাকা প্লাস্টিক যেমন বোতল, চিপসের প্যাকেট, যে কোনো খাবারের প্লাস্টিক স্কুলে নিয়ে আসে। সপ্তাহে অন্তত ২৫টি করে প্লাস্টিক তারা একটা জায়গায় জড়ো করে। বর্জিত প্লাস্টিক বোতলের ভিতর প্লাস্টিকের প্যাকেট ঢুকিয়ে তারা ‘ইকো ব্রিকস’ তৈরি করে। স্কুল সাজাতে ব্যবহার করা হয় এই ‘ইকো ব্রিকস’।

ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকার অনলাইনে এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘অক্ষর’-এর পথ চলা শুরু হয়েছিল ২০ জন ছাত্রছাত্রীকে নিয়ে, ২০১৫-১৬ সালে। বর্তমানে সেই সংখ্যা প্রায় ১০০। এদের বেশির ভাগই ৪ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। বাঁশের তৈরি একে বারে অন্য রকমের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘অক্ষর’। পথটা সহজ ছিল না মাজিন মুখতার এবং পারমিতা শর্মার জন্য। অনেক বাধা-ঝঞ্ঝাট পেরিয়ে এই স্কুল তারা তৈরি করেছেন। মাজিন নিউইয়র্কের বাসিন্দা। ২০১৫ সালে ভারতে আসেন। তারপর পারমিতার সঙ্গে যোগাযোগ হয়। দুজনে মিলে একটি স্বপ্ন দেখেন, আর তারই ফল হলো আজকের এই প্রতিষ্ঠান।

প্রতিষ্ঠাতা পারমিতার মতে, অনেকেই প্রথমে স্কুলে আসতে চায়নি। দরিদ্রতার জন্য মাঝ পথে স্কুল ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল তারা। পরিবারের পাশে থাকবে বলে পড়াশোনা ছেড়ে বেছে নিয়েছিল রোজগারের রাস্তা। সেখান থেকে তাদের স্কুলে ফেরত আনাটা ছিল প্রথম চ্যালেঞ্জ। এই স্কুলে উঁচু ক্লাসের ছাত্রছাত্রীরা নিচু ক্লাসের পড়ুয়াদের পড়ায়। অর্থাৎ বড়দের কাছ থেকেই জ্ঞানের আলো পাচ্ছে ছোটারা। এই পড়ানোর মাধ্যমে উপার্জনও করতে পারছে তারা। অর্থাভাবে স্কুলছুট হতে হচ্ছে না।

পারমিতার বলেন, এখানে সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা রয়েছে। ‘ন্যাশনাল স্কুল অভ ওপেন স্কুলিং’ এর থেকে তারা সার্টিফিকেট পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক এবং জাতীয় স্তরে অনেক সংস্থা রয়েছে যারা অক্ষরের জন্য অর্থ সহায়তা দেয়। এছাড়া সাধারণ মানুষ এখানে সহায়তা করতে পারেন।

মাজিনের মতে, প্লাস্টিক দূষণের কথা আমরা সবাই জানি। কিন্তু বেখেয়ালে যত্র-তত্র প্লাস্টিক ফেলে দেই। এই করে যে আমাদেরই ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে, তা নজর করি না।

শুধু আমাদের নয়, পরিবেশেরও ক্ষতি হচ্ছে ব্যাপক। এখানে কর্মরত এবং শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে উঠেছে তাদের পরিবারের মধ্যেও। অক্ষর বিভিন্ন ধরনের অভিযান করে। গাছ লাগান থেকে শুরু করে কিছু রাস্তার কুকুরকে আশ্রয় দিয়েছে। তাদের দেখাশোনার দায়িত্ব রয়েছে অক্ষরের শিক্ষার্থীদের ওপর। এখন আসাম ছাড়িয়ে এবার দেশের অন্যত্রও ছড়িয়ে পড়তে চাইছে অক্ষর।