শীতের তীব্রতায় জনজীবন বিপর্যস্ত

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২ মার্চ ২০২১ | ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭

শীতের তীব্রতায় জনজীবন বিপর্যস্ত

হৃদয় ইসলাম, মৌলভীবাজার ৯:৩৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৯, ২০২১

print
শীতের তীব্রতায় জনজীবন বিপর্যস্ত

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে গত কয়েক দিন ধরে শীতের তীব্রতা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। শীতের তীব্রতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। সেই সঙ্গে বাড়ছে ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগ। আক্রান্তের মাঝে শিশু ও বয়ষ্করা বেশি। মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এ চিত্র পাওয়া যায়।

কুয়াশার সঙ্গে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় শীত বাড়তে শুরু করেছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা পর্যন্ত ঘন কুয়াশার কারণে সূর্যের আলো পেতে বিলম্ব হয়। গত ৪/৫ দিন ধরে বেলা ৩টা পর্যন্ত রোদের তাপ থাকলেও এরপর থেকে হালাকা ঠাণ্ডা বাতাসের কারণে বনাঞ্চল ও চা-বাগান এলাকা সমৃদ্ধ থাকার কারণে এ উপজেলায় ঠাণ্ডা বেশি অনুভূত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে কাজকর্মে স্তবিরতা দেখা দিয়েছে, কমেছে দিন মজুরদের আয় রোজগার।

এদিকে ঠাণ্ডায় গরম কাপড়ের অভাব অনুভব করছেন নিম্নআয়ের লোকজন। সর্দি, জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলেছে। হাসপাতাল ও প্রাইভেট চিকিৎসা কেন্দ্রে রোগীর ভিড় বাড়ছে। তবে এ আক্রান্তদের মধ্যে দেখা গেছে শিশু ও বয়স্করাই বেশি। ঠাণ্ডা বেড়ে যাওয়ায় হাটবাজারে গরম কাপড়ের দোকান ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে কাপড় কিনতে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দেখা গেছে কারও নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী কাপড় কিনতে চাহিদা মতো দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা।

শীতের তীব্রতায় চা-বাগানে শ্রমিক বস্তিসমূহ ও গ্রামাঞ্চলে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। পুষ্টিমানের খাবারের অভাব, পর্যাপ্ত গরম কাপড় না থাকায় শিশু ও বৃদ্ধদের অনেকেই সর্দি ও জ্বরে ভুগছেন। চা-বাগানের শ্রমিকরা শীত নিবারণে খড়খুটো জ্বালিয়ে সময় পার করেন। কয়েকজন দিনমজুরের সঙ্গে আলাপকালে তারা বলেন, শীত বেড়ে গেছে। আর শীত বেড়ে যাওয়ায় ঘর থেকে কম বের হচ্ছেন। ফলে আয় রোজগার কমে গেছে।

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. যোগিন্দ্র কুমার সিংহ বলেন, শীতের তীব্রতার কারণে সর্দি, কাশি ও নিউমোনিয়ায় শিশু ও বয়স্করা ভুগছেন বেশি। এ সময় ঘর থেকে বের না হওয়া ভালো, ঠাণ্ডা খাবার থেকে বিরত থাকতে হবে।

আলাপকালে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া বলেন, ‘শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ সময়ে শিশুরা নিউমোনিয়া, জ্বর, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। আর বয়স্করা অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছে।’