ঝুঁকিতে ২০ হাজার মানুষের বসবাস

ঢাকা, রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭

গ্যাস লাইনের উপর স্থাপনা

ঝুঁকিতে ২০ হাজার মানুষের বসবাস

দিপু সিদ্দিকী, সিলেট ৯:৫০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৫, ২০২১

print
ঝুঁকিতে ২০ হাজার মানুষের বসবাস

সিলেট সদর উপজেলার বালুচর এলাকায় প্রায় আধা কিলোমিটারজুড়ে গ্যাসের ভূগর্ভস্থ লাইনের উপর গড়ে তোলা হয়েছে বাজারসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ফলে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন বালুচরের অন্তত ২০ হাজার মানুষ।

আইনানুযায়ী গ্যাস সঞ্চালন লাইনের উভয় পাশে ১০ ফুট করে ২০ ফুট ভূমির মালিকানা গ্যাস কর্তৃপক্ষের। এ ভূমিতে কোনো ধরনের স্থাপনা করা নিষিদ্ধ। কিন্তু আইনের তোয়াক্কা না করে বালুচর এলাকায় ভূগর্ভস্থ গ্যাস সঞ্চালন লাইনের উপর দিয়ে অনেক স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। বাজারে গ্যাস লাইনের উপর স্থাপিত দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত ভাড়াও আদায় করছেন প্রভাবশালীরা।

জানা যায়, জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ বারবার নোটিশ দিলেও অবৈধ দখলকারীরা স্থাপনা অপসারণ করছেন না। এলাকার লোকজন দফায় দফায় সরকারের বিভিন্ন অধিদফতরে অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা পাচ্ছেন না। স্থানীয় প্রভাবশালীদের কবল থেকে গ্যাস কর্তৃপক্ষের ভূমি দখলমুক্ত না করলে লিকেজ কিংবা অন্য কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

সরেজমিন বালুচরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, গ্যাস সঞ্চালন লাইনের উপর গড়ে উঠেছে বালুচর নয়াবাজার। এ বাজারের নিচ দিয়ে যাওয়া ভূগর্ভস্থ গ্যাস সঞ্চালন লাইনের উপরে স্থায়ী ও অস্থায়ী স্থাপনা রয়েছে। প্রতিদিন সহ¯্রাধিক মানুষ এ বাজারে বিভিন্ন পণ্য কেনাবেচা করে থাকেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিলেট জেলা প্রশাসকের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা ক্ষতিপূরণ দেওয়া সাপেক্ষে সাদিপুর প্রথম খ- মৌজার ১ একর সাড়ে ১৩ শতক ভূমি অধিগ্রহণ করে। পরবর্তীতে অধিগ্রহণকৃত জমির মধ্য দিয়ে জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ তাদের ভূগর্ভস্থ সঞ্চালন লাইন স্থাপন করে গ্যাস সরবরাহের কার্যক্রম শুরু করে। ধীরে ধীরে প্রভাবশালীরা দখল করতে শুরু করেন জালালাবাদ গ্যাসের অব্যবহৃত ভূমি।

এর মধ্যে গড়ে তোলা হয়েছে বালুচর নয়াবাজার। পরবর্তীতে প্রভাবশালী চক্র বাজারে দোকানপাট ও অস্থায়ী স্থাপনা তৈরি করে নিয়মিত ভাড়া উত্তোলন করতে থাকেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জালালাবাদ গ্যাস কোম্পানির একটি চক্র প্রভাবশালীদের মদত দিচ্ছে। বারবার গ্যাস কর্তৃপক্ষ তাদের মালিকানাধীন ভূমি ছাড়তে নোটিস দিলেও তা আমলে নিচ্ছেন না দখলকারীরা। তারা বিভিন্ন কৌশলে বারবার পার পেয়ে যাচ্ছেন। এতে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের। গ্যাস সঞ্চালন লাইনের উপর গড়ে ওঠা স্থাপনাগুলো যেমন ঝুঁকিতে রয়েছে, তেমনি বালুচরবাসীও ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন।

বালুচরের বাসিন্দা মো. জালাল আহমদ বলেন, বালুচর নয়াবাজারে জালালাবাদ গ্যাসের মালিনাকাধীন ভূমিতে অবৈধভাবে বাজার গড়ে তোলা হয়েছে। সরকারি ভূমিতে বাজার দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি চিহ্নিত ভূমিখেকো চক্র দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক ভাড়া আদায় করছেন। সরকারের বিভিন্ন দফতরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বারবার চিঠি দিলেও কোনো কাজে আসেনি।

স্থানীয় টুলটিকর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম আলী হোসেন বলেন, জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষের ভূমিতে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা বালুচরবাসীর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তা অপসারণ না করলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছে। তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করার আহ্বান জানান।

জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানায়, কয়েক দিন আগেও গ্যাসের মালিকানাধীন ভূমি অবৈধ দখলমুক্ত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়। অবৈধ দখলদারদের নিজ দায়িত্বে দখল ছেড়ে দেওয়ার নোটিস দেওয়া হয়েছে। অনেকেই অবৈধ দখল ছাড়ছেন না। যারা নোটিস পাওয়ার পরও অবৈধ দখল ছাড়ছেন না, তাদের উচ্ছেদের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।