সিলেটে চার পুলিশ বরখাস্ত

ঢাকা, রবিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২০ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

সিলেটে চার পুলিশ বরখাস্ত

সিলেট ব্যুরো  ৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০২০

print
সিলেটে চার পুলিশ বরখাস্ত

নির্যাতনে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ ওঠার পর সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে আরও তিন পুলিশ সদস্যকে ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) জ্যোতির্ময় সরকার জানান। সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভুইয়া, কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, তৌহিদ মিয়া ও টিটু চন্দ্র দাস। প্রত্যাহার হওয়া সদস্যরা হলেন- এএসআই আশেক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজিব হোসেন।

পুলিশ জানায়, গত রোববার সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রায়হান উদ্দিন (৩৪) নামের এক যুবককে গুরুতর আহত অবস্থায় ভর্তি করেন বন্দরবাজার ফাঁড়ির এএসআই আশেক এলাহী। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭টা ৫০ মিনিটে রায়হান হাসপাতালে মারা যান। রায়হান উদ্দিন সিলেট নগরীর আখালিয়ার নেহারিপাড়ার প্রয়াত রফিকুল ইসলামের ছেলে। নগরীর রিকাবিবাজার স্টেডিয়াম মার্কেটে এক চিকিৎসকের চেম্বারে কাজ করতেন তিনি।

সিলেট কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সৌমেন মৈত্র জানান, এ ঘটনায় নিহত রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নী বাদী হয়ে গত রোববার রাতে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় তার স্বামীকে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে আটকে রেখে ১০ হাজার টাকা দাবি এবং দাবিকৃত টাকা না পেয়ে নির্যাতন করে মেরে ফেলার অভিযোগ করা হয় বলে সৌমেন জানান। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন এবং হাতের নখ উপড়ানো ছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

বরখাস্ত এসআই আকবর হোসেন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, নগরীর কাস্টঘর এলাকায় ছিনতাই করতে গিয়ে গণপিটুনিতে তার মৃত্যু হয়েছে। এলাকাবাসী জানান, সিলেট সিটি করপোরেশনের কাস্টঘর এলাকা পুরোটাই ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার আওতাভুক্ত। ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা রাত ও সকালের ফুটেজ দেখেছি। শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত ওই এলাকায় গণপিটুনির কোনো ঘটনা দেখা যায়নি। ফুটেজে সন্দেহজনক কিছুই চোখে পড়েনি।’

কাস্টঘরের বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আইনজীবী বলেন, ‘প্রায় রাতেই এই এলাকায় মাদকসেবীদের চেঁচামেচি শোনা যায়। পুলিশের বাঁশির শব্দও শোনা যায়। তবে শনিবার রাতে বা রোববার ভোরে এমন কিছুই শুনিনি। গণপিটুনির ঘটনা ঘটলে তো অন্তত কিছু শোরগোল, চিৎকার শোনা যেত। তা-ও শোনা যায়নি।’