‘ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায়’

ঢাকা, শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

‘ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায়’

শহীদনূর আহমেদ ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ০৯, ২০২০

print
‘ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায়’

‘কোন মেস্তরী নাউ বানাইলো কেমন দেখা যায়, ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায়।’ গানের মতোই নদীর পানিতে উঠেছিল বৈঠার তাল। তালে তালে ঝিলমিল করছিল রংবেরঙে সজ্জিত সারি সারি নৌকা। ঘণ্টা, মন্দিরা আর ঢোলে মুখরিত ছন্দের মধ্যে শোনা যাচ্ছিল সম্মিলিত কণ্ঠের ‘হেঁইয়ো রে, হেঁইয়ো’ কিংবা ‘হকে সাবাস সাবাস হেঁইয়ো’ ধ্বনি। একটির পাশ দিয়ে ধাঁই ধাঁই করে চলছিল নৌকাবাইচে অংশগ্রহণকারী আর সব নৌকা। কার আগে কে উঠবে, হচ্ছিল তারই প্রতিযোগিতা।

ঐতিহ্যবাহী এই নৌকাবাইচ দেখতে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পাখিমারা হাওরের পাড়ে নেমেছিল মানুষের ঢল। মানুষের এই মিলনমেলাই জানান দিচ্ছিল গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের কথা। 

গত বুধবার বিকালে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পাখিমারা হাওরে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচের আয়োজন করেন পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সদস্য নাজমা বেগম।

নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে আশপাশের গ্রামের ১২টি দৌড়ের নৌকা। নৌকাবাইচ উপভোগ করতে দুপুর থেকেই পাখিমারা হাওরপাড়ে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের নারী, পুরুষ, শিশুসহ সব বয়সী মানুষ ভিড় করতে থাকেন। অনেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ভাড়া করে এ প্রতিযোগিতা উপভোগ রে ময়ূরপঙ্খী নায়’ করতে আসেন।

এ সময় দর্শনার্থীরা আনন্দ উল্লাস করে নেচে-গেয়ে নৌকাবাইচ উপভোগ করতে দেখা যায়। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের এমন প্রতিযোগিতার আয়োজন করায় আয়োজকদের প্রতি ধন্যবাদ জানান দর্শনার্থীরা। আগামীতে এর ধারা অব্যাহত রাখতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার দাবি জানিয়েছেন তারা।

উলারভিটা গ্রামের বাসিন্দা রমজান, মৌসুমিদের মতো অনেকে জানান, বর্তমান যান্ত্রিক যুগও আমাদের এলাকার ঐতিহ্যবাহী এই নৌকাবাইচ বন্ধ করতে পারেনি। দূর দূরন্ত থেকে এই ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ দেখতে আমাদের পাশাপাশি অনেকেই এসেছেন। আমরা উপভোগ করছি।’

বীরগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিম গাংপাড় থেকে প্রতিযোগিতা দেখতে আসা তরুণ আমজাত জানান, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। এই ঐতিহ্য ধরে রাখা জরুরি। ধরে রাখতে স্থানীয় উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি সহযোগিতাও প্রয়োজন।

প্রতিযোগিতায় মোট ১২টি নৌকা অংশ নেয়। এরমধ্যে জয়সিদ্ধি (উলারভিটা) গ্রামের মাসুক আলীর নৌকা প্রথম স্থান অর্জন করে। দ্বিতীয় হয় হাঁসকুড়ি গ্রামের আকরম আলীর নৌকা। এ ছাড়া তৃতীয় স্থান অর্জন করে পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিম গাংপাড়ের আলী হোসেনের নৌকা।

আয়োজক নাজমা বেগম বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এছাড়া অংশগ্রহণকারী সব নৌকাকে সৌজন্য পুরস্কার প্রদান করা হয়। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় প্রবীন ব্যক্তিত্ব সিরাজুল ইসলাম সিরন, সাবেক ইউপি সদস্য শহিবুর রহমান, আলী হাসান, শহিদ আহমদ ঝুনু, মামুনুর রশিদ, মাজেদুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।