টাঙ্গুয়ার হাওরে ট্রলারে রাত কাটানো নিষেধ

ঢাকা, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০ | ১০ কার্তিক ১৪২৭

টাঙ্গুয়ার হাওরে ট্রলারে রাত কাটানো নিষেধ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০২০

print
টাঙ্গুয়ার হাওরে ট্রলারে রাত কাটানো নিষেধ

যান্ত্রিক নগরের ইট-কাঠের খাঁচা ছেড়ে প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে নিজেকে সতেজ করার জন্য অনেকে ছুটে যান দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে। তার মধ্যে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর অন্যতম। বিশাল জলরাশির মাঝে নৌকায় চড়ে ঘুরে বেড়ানো আর তারই মাঝে রাত যাপনÑ এ এক অন্যরকম অনুভূতি। তিন বছরে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরসহ আশপাশের পর্যটন স্পটে ৪ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। তারা সকলেই বন্ধু-বান্ধব মিলে হাওরে অথবা হাওরপাড়ের সিরাজ লেকে বা পাশের পাহাড়ি নদীতে রাতযাপন করেছিলেন। সর্বশেষ গত ১৪ আগস্ট রাতে মারা যান রাজধানীর তিতুমীর কলেজের বিবিএ চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জাহেদ চৌধুরী।

পরদিন সীমান্তের শহীদ সিরাজ লেকের পাশের পাটলাই নদীতে তার মরদেহ পাওয়া যায়। 

একের পর এক এমন দুর্ঘটনায় টাঙ্গুয়ার হাওরসহ আশপাশের নদী-হাওরে পর্যটকদের রাতযাপনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। গতকাল সোমবার দিনভর টাঙ্গুয়ার হাওরের আশপাশের জনপদে মাইকে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রচার করা হয়।

গত ১৩ আগস্ট ২০-২৫ জন বন্ধু-বান্ধব মিলে টাঙ্গুয়ার হাওরসহ আশপাশের পর্যটনস্পটে ঘুরেছেন রাজধানীর তিতুমীর কলেজের বিবিএ চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জাহেদ চৌধুরী (২৫)। তারা রাত কাটান শহীদ সিরাজ লেকের পাশের পাটলাই নদীতে। পরদিন সকালে ফেরার সময় তাহিরপুরে এসে নৌকা তীরে ভেড়ানোর পর বন্ধুরা দেখতে পান জাহেদ ট্রলারে নেই। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করে বিকালে জাহেদের লাশ পাওয়া যায় পাটলাই নদীতে।

২০১৮ সালের ৪ আগস্ট রাতে টাঙ্গুয়ার হাওরসহ সীমান্তের পর্যটন স্পটে বেড়াতে এসে জাদুকাটা নদীর চোরাবালিতে ডুবে মারা যান জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান মৃদুল (২৫)। ২০১৭ সালের ২৮ জুন রাতে টাঙ্গুয়ার হাওরের ওয়াচ টাওয়ারের নিচে পানিতে ডুবে মৃত্যু হয় সিলেটের একটি কলেজের শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলামের (২২)। আশরাফুল ইসলাম জেলার ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরস গ্রামের চান মিয়ার ছেলে। একই বছরের ৫ আগস্ট শহীদ সিরাজ লেকে ডুবে মৃত্যু হয় ঢাকার ডেসকো কোয়ার্টারের বাসিন্দা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী ওয়াহিদ খলিলের (২৮)।

প্রতি বছর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে উদ্বিগ্ন টাঙ্গুয়ার হাওরপাড়ের বাসিন্দারা। স্থানীয় প্রশাসন মনে করছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পর্যটকদের অনেকেই সাঁতার জানেন না। তারা দল বেঁধে এসে রাতযাপনকালে অসাবধানতাবসত পানিতে পড়েই ডুবে মারা যাচ্ছেন। এজন্য টাঙ্গুয়ার হাওরসহ আশপাশের পর্যটনস্পটে রাতযাপনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে পুলিশ।

তাহিরপুর থানার ওসি মো. আতিকুর রহমান বলেন, অত্যাধুনিক বজরায় বা ট্রলারে দল বেঁধে রাতযাপনের সময় হৈ-হুল্লোড় করে অনেকে পানিতে পড়ে যায়। এসময় সকলের অলক্ষ্যেই কেউ কেউ ডুবে মারা যান। এজন্য আমরা মনে করছি, পর্যটকরা রাতে হাওরে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ। দিনে হাওরে কাটিয়ে রাতে লোকালয়ে যেন থাকেন পর্যটকরা। এই নিষেধাজ্ঞার কথা জানিয়ে গতকাল হাওরপাড়ে এবং তাহিরপুর উপজেলা সদরে মাইকে প্রচারণা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, আগামী ৩০ আগস্টের পর থেকে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে সামাজিক দূরত্ব মেনে পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করে পর্যটকদের চলাচলের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শরিফুল ইসলাম গতকাল এই তথ্য জানান।