ভরা মৌসুমেও হাহাকার

ঢাকা, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭

ভরা মৌসুমেও হাহাকার

দিপু সিদ্দিকী, সিলেট ১০:২০ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৩, ২০২০

print
ভরা মৌসুমেও হাহাকার

করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের প্রভাব পড়েছে সিলেটের নার্সারি শিল্পে। শ্রমিক সংকট, বিকিকিনি বন্ধ, বৃক্ষমেলা না হওয়ায় সংকট বাড়ছে এ খাত সংশ্লিষ্টদের। জুন থেকে বৃক্ষরোপণের সময় শুরু হলেও ভরা মৌসুমে ক্রেতা পাচ্ছে না সিলেটের নার্সারিগুলো। স্বাভাবিক সময়ে জুন মাসে বছরের বিক্রির ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ যেখানে বিক্রি হতো, এবার তা নেমে এসেছে ২০ শতাংশে। বৃক্ষরোপণ কমে আসায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা নার্সারি মালিকদের। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণে সরকারি সহায়তা দরকার বলে মনে করছেন নার্সারি মালিকরা।

প্রতি বছরের জুন মাস থেকে শুরু হয় বৃক্ষরোপণের মৌসুম। চলে আগস্ট পর্যন্ত। বৃক্ষরোপণের এই ভরা মৌসুমেও সিলেটের নার্সারিগুলো খাঁ খাঁ করছে। সিলেট বিভাগজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ৫ শতাধিক নার্সারির সবগুলোতেই চলছে হাহাকার। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর থেকেই এ সংকট শুরু হয়। বিক্রি কমে আসায় নার্সারি মালিকরা কর্মী ছাঁটাই করেছেন। অবশিষ্ট কর্মীদের বেতনভাতা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে নার্সারি মালিকদের। সিলেট নার্সারির পরিচালক মলয় লাল ধর বলেন, প্রতি বছর ঘটা করে সিলেটে বিভাগীয়, জেলা পর্যায়ে ও উপজেলা পর্যায়ে বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। এ বছর এখন পর্যন্ত বৃক্ষমেলার কোনো তোড়জোড় লক্ষ্য করা না যাওয়ায় মুষড়ে পড়েছেন নার্সারি মালিকরা। তারা বলছেন, বছরের বিক্রির বৃহৎ অংশ বাণিজ্য মেলায় হয়। গাছে ফল ধরানো থাকলে চড়া দামেও কিনতে ক্রেতারা পিছপা হন না। মেলা না হওয়ার সম্ভাবনার কারণে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের।

তারা বলছেন, মেলাকে ঘিরে সারা বছরের প্রস্তুতি থাকে। তাই প্রয়োজনে আগস্টের শেষদিকে হলেও সীমিত পরিসরে মেলা আয়োজন করলে অনেকটা সহযোগিতা হবে ব্যবসায়ীদের।

নার্সারি মালিক কল্যাণ সমিতি বলছে, দেশে ফুলের নার্সারি, শস্যের নার্সারি ছাড়া অন্য নার্সারিকে ব্যাংক থেকে কোনো ধরনের ঋণ দেওয়া হয় না। গাছ নার্সারিগুলোকে ঋণ সুবিধা দিলে এ শিল্প অনেকটা রক্ষা পাবে।

নার্সারি মালিক কল্যাণ সমিতি, সিলেটের সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন জানান, প্রতি বছর সিলেটে প্রায় এক কোটি চারা বিক্রি করে থাকে। তবে বর্তমানে বিক্রির পরিমাণ ৩০ শতাংশে নেমে আসতে পারে। সরকারি প্রণোদন কিংবা ব্যাংক ঋণ পেলে করোনার এই দুঃসময়ে গাছ উৎপাদন ও বিপণনকারী নার্সারিগুলো বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।