মৌলভীবাজারে গ্রাম আদালত নিয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে

ঢাকা, রবিবার, ৭ জুন ২০২০ | ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

মৌলভীবাজারে গ্রাম আদালত নিয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে

তোফায়েল পাপ্পু, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) ৪:১৭ অপরাহ্ণ, মে ২২, ২০২০

print
মৌলভীবাজারে গ্রাম আদালত নিয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে

শ্রীমঙ্গল উপজেলার রাজঘাট চা বাগানে ২০১৮ সালে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের একটি বিরোধ গ্রাম আদালতে নিম্পত্তি হয়। এজন্য খরচ হয় দশ টাকা। আর সময় লেগেছিল মাত্র চরদিন। আলোচিত এ গ্রাম আদালতের রায় জেলার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করে।

দেশের বিচার ব্যবস্থার সর্বনি¤œ স্তর গ্রাম আদালতের এই রায় এখানকার গ্রামীণ বিচার ব্যবস্থায় একটি মাইল ফলক হিসেবে দেখা হয়। গ্রামাঞ্চলের ছোট খাট বিরোধ নিষ্পত্তি ও বিচার ব্যবস্থা সহজলভ্য করার উদ্দেশে গ্রাম আদালত অধ্যাদেশ এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত গ্রাম আদালত কার্যক্রম দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গরিব, অসহায়, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনগণের আর্শীবাদ হয়ে দেখা দিয়েছে। 

এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত জেলার শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, বড়লেখা ও কুলাউড়া উপজেলার ৪১টি ইউনিয়নে গ্রাম আদালতে ছয় হাজার ২৫১টি মামলা রুজু হয়েছে। নিস্পত্তি হয়েছে পাঁচ হাজার ৯৮৬টি এবং ক্ষতিপূরণ আদায় হয়েছে দুই কোটি ৫৮ লক্ষ ২৩ হাজার ৯৮৭ টাকা। এর মধ্যে ২৫৬টি মামলা নিস্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

জানা গেছে, সুবিধা বঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিচার ব্যবস্থা সহজ করতে স্থানীয় সরকার বিভাগ, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও ইউএনডিপির যৌথ অর্থায়নে ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করছে। দেশের ২৭টি জেলার ১২৮টি উপজেলার ১,০৮০টি ইউনিয়নে চার বছর মেয়াদী (২০১৬-২০১৯) এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। দাতা সংস্থার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় স্থানীয় সরকার বিভাগের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) জেলায় চারটি উপজেলার ৪১টি ইউনিয়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে।

লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস (ব্লাস্ট) এর এ্যাকটিভ ভিলেজ কোর্ট অব বাংলাদেশ প্রকল্পের শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ উপজেলা সমন্বয়কারী তাহমিনা পারভিন জানান, ১৯৭৬ সালে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য একটি আইনসম্মত আদালত প্রতিষ্ঠা ও তৃণমূল পর্যায়ে দক্ষতা সম্পন্ন, অপেক্ষাকৃত আনুষ্ঠানিক ও ক্ষমতাশীল এই বিচার ব্যবস্থা চালু হয়। ৯০ থেকে ১২০ দিনের বিচারকার্যে ও সময়সীমা নিয়ে গঠিত গ্রাম আদালতে জরিমানা বা ক্ষতিপূরণের মূল্যমান প্রথমে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হলেও ২০০৬ সালের মে মাসে ১৯ নম্বর আইনের অধীনে ১৯৭৬ সালের গ্রাম আদালত অধ্যাদেশের সঙ্গে সমন্বয় করে ২৫ হাজার এবং সর্বশেষ ২০১৩ সংশোধনিতে ৭৫ হাজার টাকায় উন্নীত করে ২০১৬ তে বিধি প্রণয়ন করা হয়েছে।

এছাড়া এখানে পেশাদার আইনজীবী নিয়োগের বিধান নেই। পক্ষপাত বা বিলম্ব বিচার বা বিচারহীনতার কোন সুযোগ নেই। ফলে অসংখ্য দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সহজে বিচার প্রাপ্তি এবং বিভিন্ন থানা আদালতে মামলা জট কমাতে গ্রাম আদালত ব্যাপক ভূমিকা রাখছে বলে জানান।