লাখাইয়ে প্রধানমন্ত্রীর নগদ সহায়তা তালিকায় স্বজনপ্রীতি

ঢাকা, শনিবার, ৬ জুন ২০২০ | ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

লাখাইয়ে প্রধানমন্ত্রীর নগদ সহায়তা তালিকায় স্বজনপ্রীতি

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ৪:০০ অপরাহ্ণ, মে ১৭, ২০২০

print
লাখাইয়ে প্রধানমন্ত্রীর নগদ সহায়তা তালিকায় স্বজনপ্রীতি

করোনার কারণে কর্মহীন ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবার প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তার আওতায় এসেছে। প্রত্যেক পরিবারকে মোবাইল ব্যাংকিং পরিসেবার মাধ্যমে আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হবে। এ জন্য হবিগঞ্জের লাখাইয়ে সুবিধাভোগীর তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। তবে গোড়াতেই গলদ দেখা দিয়েছে। তালিকা তৈরিতে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। চারটি মোবাইল নম্বরের বিপরীতে তালিকায় নাম রয়েছে ৩০৬ জনের। এছাড়া অধিকাংশ নামই চেয়ারম্যান বা ইউপি সদস্যের স্বজনদের বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

অবশ্য অভিযোগ স্বীকার করেছেন মুড়িয়াউক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মলাই। তিনি বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে তালিকা তৈরির কারণে ভুল হয়েছে। এগুলো সংশোধনের কাজ চলছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ওয়ার্ড ভিত্তিক ত্রাণ কমিটি গঠন করার কথা থাকলেও ইউনিয়ন সদস্যরা তা না করে নিজেদের মনগড়াভাবে স্বজন ও নিজস্ব বলয়ের লোকদের মাধ্যমে তালিকা তৈরি করেছেন। টাকা মূলত মোবাইল ব্যাকিং সার্ভিস নগদ, বিকাশ, রকেট ও শিওরক্যাশের মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগী পরিবারের কাছে পাঠানোর কথা রয়েছে। সে হিসেবে উপকারভোগী পরিবারের মোবাইল নম্বর পাঠানোর কথা থাকলেও অনেকেই নিজের ও স্বজনদের মোবাইল নম্বর পাঠিয়েছেন। ছয়টি ইউনিয়নের অনেক ওয়ার্ডেই একই মোবাইল নম্বর রয়েছে একাধিক উপকারভোগীর নামের পাশে।

উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে ছয় হাজার ৭২০টি পরিবার পাচ্ছে নগদ আড়াই হাজার টাকা করে সরকারি অর্থ সহায়তা। এর মধ্যে লাখাই ইউনিয়নে এক হাজার ১৯৪ জন, মোড়াকরিতে এক হাজার ১১৩, মুড়িয়াউকে এক হাজার ১৭৬, বামৈ ইউনিয়নের এক হাজার ২৪৬, করাবে ইউনিয়নে এক হাজার ছয়জন ও বুল্লা ইউনিয়নে রয়েছেন ৯৮৫ জন।

তালিকা পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, মুড়িয়াউক ইউনিয়নে চারটি মোবাইল নম্বর ব্যবহার হয়েছে ৩০৬ জনের নামের পাশে। এর মধ্যে ৯৯ জন উপকারভোগীর নামের বিপরীতে রয়েছে ০১৯৪৪-৬০৫১৯৩ মোবাইল নম্বরটি। এছাড়া ০১৭৪৪-১৪৯২৩৪ মোবাইল নম্বর রয়েছে ৯৭ জনের নামে, ০১৭৮৬-৩৭৪৩৯১ মোবাইল নম্বর ৬৫ জনের ও ০১৭৬৬-৩৮০২৮৪ মোবাইল নম্বর রয়েছে ৪৫ জন সুবিধাভোগীর নামের মধ্যে।

লাখাই উপজেলার পশ্চিম বুল্লা গ্রামের এক বৃদ্ধা বলেন, যারা জমিজমা করেছে তাদের নাম রয়েছে নগদ অর্থ প্রাপ্তদের তালিকায়। কিন্তু আমি গরিব হলেও নাম নেই। কারণ যারা তালিকা তৈরি করেছেন তাদের আত্মীয় স্বজনদের নাম দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্চিতা কর্মকার বলেন, তালিকা তৈরি করার দায়িত্ব ওয়ার্ড ভিত্তিক ত্রাণ কমিটির। তালিকা তৈরি করার পর শিক্ষকের মাধ্যমে যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। শিক্ষকদের যাচাই বাছাই করার পরও কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে মূল তালিকা থেকে তাকে বাদ দেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, তালিকা এখনও খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত করা হবে। একই মোবাইল নম্বরে একাধিক ব্যক্তির নাম থাকলে কেউই অর্থ সহায়তা পাবে না। এছাড়া তালিকা চূড়ান্ত করে পাঠানোর পরও কোনো ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র পরীক্ষা করে ত্রুটি পাওয়া গেলে তা পুনরায় যাচাই করা হবে।