শ্রীমঙ্গলে মুখ চিনে ত্রাণ দেওয়ার অভিযোগ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২০ | ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

শ্রীমঙ্গলে মুখ চিনে ত্রাণ দেওয়ার অভিযোগ

তোফায়েল পাপ্পু, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ০৮, ২০২০

print
শ্রীমঙ্গলে মুখ চিনে ত্রাণ দেওয়ার অভিযোগ

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ ও জনসমাগম এড়াতে শ্রীমঙ্গলে চলছে অঘোষিত লকডাউন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সরকারি নির্দেশনা কঠোর ভাবে মেনে চলতে বাধ্য করায় শ্রীমঙ্গলের উত্তর ভাড়াউড়ার খেটে খাওয়া মানুষ এখন কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। কিন্তু গেল ১৫ দিন ধরে ঘরে বসে থাকলেও পায়নি কোন ত্রাণ সহায়তা।

প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবারের কয়েকশ দরিদ্র মানুষের কাছে পৌচ্ছায়নি সরকারি কেনো খাদ্য সহায়তা। এমনকি ওই এলাকায় মুখ চিনে ত্রাণ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এতে করোনা মোকাবেলায় সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সরকারি যে খাদ্য প্রণোদনা কর্মসূচি, তা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

জানা যায়, শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের অন্তর্গত উত্তর ভাড়াউড়ার পূর্ব ও পশ্চিম ধারে বসবাসরত বেশীর ভাগ মানুষই দরিদ্র। পুরুষরা ব্যাটারিচালিত রিকশা- ভ্যান চালক, দিনমজুর, দোকান শ্রমিক, দর্জির কারিগর এবং মেয়েরা ইট ভাঙা, বাসা বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করা প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবারগুলো সরকারি সহায়তা অভাবে নিদারুন দুঃখ কষ্টের মধ্যে দুর্বিসহ দিন কাটাচ্ছে। গত ৩ এপ্রিল এলাকায় সরকারি সহায়তার ৪ টন চাল বরাদ্দ এলেও এসব হতভাগ্য মানুষদের কপালে জুটেনি একদানা চালও।

এসময় দেখা হয় মিনা বেগমের সঙ্গে। স্বামী, দুই ছেলে, নাতি, এক মেয়ে ও মেয়ে জামাই নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস। বললেন, ‘এতদিন হলো স্বামী ছেলেরা বেকার ঘরে বসা, কাজ-কাম নাই। ছয়মাসের বকেয়া বাসা ভাড়া মাথায় নিয়ে চোখে মুখে অন্ধকার দেখছি। সরকার থেকে কত জায়গায় চাল-ডাল দিচ্ছে আমাদের কপালে একটা দানাও জুটল না। ইউনিয়ন অফিসে গেলে চেয়ারম্যান বলেছেন সরকারি চাল আবার এলে দেওয়া হবে।

এখন সমিতি থেকে সুদে টাকা নিয়ে ভেঙে খাচ্ছি’। একই এলাকার ডেইজি বেগমও জানালেন কর্মক্ষম ছেলে, তাদের বউ নিয়ে এতটা দিন হলো কোন মতে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটানোর কথা।

তিনি বলেন, ‘মেম্বার চেয়ারম্যান কেউ আমাদের খোঁজ নিতে আসেনি’।

দিনমজুর কাউছার মিয়া জানান, চোখের সামনে ইউনিয়ন থেকে যাদের চলার সামর্থ্য আছে এমন অনেক মানুষকে চাল-ডাল দেওয়া হলো, অথচ আমরা গরীব মানুষ- আমাদের দেওয়া হলো না। মেম্বাররা মুখ চিনে চিনে চাল-আলু দিয়েছে।

কমিউনিটি ব্যাংকের নয়াপাড়া শাখার সিকিউরিটি কর্মী তোতা মিয়ার স্ত্রী মিনি বেগম কলেজ পড়ুয়া মেয়ে নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় স্বামী বাড়িতে ফিরতে পারেনি। কয়েকদিন ধরে ঘরে বাজার না থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।

স্থানীয়রা বলেছেন, অনেক পরিবার বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় একাধিক বার সরকারি খাদ্য সুবিধা পেলেও অনেকে একেবারেই বঞ্চিত হচ্ছেন।

শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ভানু লাল রায় জানান, সদর ইউনিয়ন ছাড়া অন্য ইউনিয়নের ভোটারদের খাদ্যসহায়তা দেওয়ার কোন নির্দেশনা নেই। ইউএনও অফিস থেকে সেরকম কোন নির্দেশনা পাওয়া গেলে তাদেরও সহায়তা দেওয়া হবে।

শ্রীমঙ্গল ইউএনও নজরুল ইসলাম বলেন, গত মঙ্গলবার ইউনিয়নগুলো থেকে তালিকা আসছে। তবে কেউ বাদ পড়লে তালিকায় অন্তুর্ভুক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।