কমলগঞ্জে বিদ্যুৎ বঞ্চিত দুই গ্রাম

ঢাকা, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২০ | ২৫ চৈত্র ১৪২৬

কমলগঞ্জে বিদ্যুৎ বঞ্চিত দুই গ্রাম

হৃদয় ইসলাম, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) ১:৩৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ০৬, ২০২০

print
কমলগঞ্জে বিদ্যুৎ বঞ্চিত দুই গ্রাম

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বে আদমপুর বনবিট এলাকায় ৯৫টি পরিবার নিয়ে গড়ে উঠে কালেঞ্জী খাসিয়া পুঞ্জী। খাসিয়া পুঞ্জীর বাইরে বস্তি এলাকায় আরও ৬০ পরিবার নিয়ে কালেঞ্জী গ্রাম।

সম্প্রতি কমলগঞ্জ উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা করা হলেও এই দু’টি গ্রামে বিদ্যুতায়ন না থাকায় প্রায় দেড়শ পরিবার ও সহস্রাধিক লোক বিদ্যুতের আলো থেকে বঞ্চিত। এছাড়াও নানা সমস্যায় জর্জরিত কালেঞ্জী ও খাসিয়া পুঞ্জীর সদস্যরা।

সরেজমিন দেখা যায়, সমতল ভূমি থেকে প্রায় ৫শ ফুট ওপরে পাহাড়ি টিলার স্তরে স্তরে খাসিয়া সম্প্রদায়ের বসবাস। আঁকাবাঁকা পথে ১৫২টি সিঁড়ি বেয়ে টিলার ওপরে পুঞ্জীর হেডম্যানসহ অন্যদের বাসায় পৌঁছতে হয়। খাসিয়া পুঞ্জীর ৯৫ পরিবারে প্রায় ৬শ লোকসংখ্যা। তাদের আয়ের প্রধান উৎস জুমের খাসিয়া পান ও লেবু। পুঞ্জীর পার্শ্ববর্তী কালেঞ্জী গ্রামেরও ৫০টি পরিবারে প্রায় অর্ধ সহস্রাধিক লোকের বসবাস। তবে বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগেও বিদ্যুতায়ন পৌঁছেনি এ দু’টি গ্রামে।

খাসিয়া সম্প্রদায়ের অভিযোগ, মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন ঘোষণা করেছে। অথচ এই দু’টি গ্রাম এখনও বিদ্যুতায়নের আওতায় আসেনি। কালেঞ্জী খাসিয়া পুঞ্জীর ৯৫ পরিবারের দৈনন্দিন নানা সমস্যায় জর্জরিত। বন বিভাগের আপত্তির কারণে এ দু’টি গ্রামে বিদ্যুতায়ন সম্ভব হচ্ছে না। পুঞ্জীর নারী-পুরুষ সদস্যরা টিলার নিচের কূপ থেকে পানি সংগ্রহ করে টিলার ওপরে তুলে নিয়ে আসেন। বিদ্যুৎ সুবিধা হলে বৈদ্যুতিক পাম্প বসিয়ে নিচ থেকে টিলার ওপরে ঘরে ঘরে পানি তোলা যেত। খাসিয়া সদস্যদের আয়ের প্রধান উৎস পাহাড়ি টিলায় জুমের পান। খাসিয়া পান বৃহত্তর সিলেটের ভাটি অঞ্চল ও যুক্তরাজ্যে সরবরাহ করা হয়।

পুঞ্জী হেডম্যান রিটেঙেন ঘেরিয়েম বলেন, পুঞ্জীর স্কুল-কলেজ পড়ুয়া প্রায় ২শ ছাত্র-ছাত্রী বেশিরভাগ সময়ে পায়ে হেঁটে ৯ কিলোমিটার পার হয়ে আদমপুরে যেতে হয়। সেখান থেকে গাড়ি যোগে কলেজে যেতে হয়। যাতায়াতের দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে খাসিয়া পরিবারগুলো দৈনন্দিন হাট বাজারে ৯ কিলোমিটার দূরের আদমপুর বাজারে যেতে হয়। তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ ও রাস্তাঘাটের সমস্যার কারণে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আদমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন বলেন, আদমপুর বনবিট অফিস থেকে তিন কি.মি. রাস্তা পাকাকরণ হয়ে গেলে এই পুঞ্জীর যাতায়াত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম গণেশ চন্দ্র দাশ বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। তবে সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।