ঝুঁকিপূর্ণ ১৩ রেলসেতু

ঢাকা, রবিবার, ২৬ জুন ২০২২ | ১২ আষাঢ় ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

আখাউড়া-সিলেট রেলপথ

ঝুঁকিপূর্ণ ১৩ রেলসেতু

হৃদয় ইসলাম, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার)
🕐 ২:০৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৯, ২০১৯

ঝুঁকিপূর্ণ ১৩ রেলসেতু

আখাউড়া-সিলেটের ১৭৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের রেল সেকশনে জরাজীর্ণ হয়ে পড়া রেলপথসহ রয়েছে ১৩টি ঝুঁকিপূর্ণ রেলসেতু। যার কারণে এই রেল সেকশনে প্রায়ই দূর্ঘটনা ঘটছে। বিগত ৮ মাসে এই সেকশনে ঘটেছে অন্তত ১১টি দূর্ঘটনা। দূর্ঘনার কারণে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পাঁচজনের প্রাণহানীসহ অনেকেই আহত হয়েছেন। অতিঝুঁকিপূর্ণ সেতু গুলোর কারণে দূর্ঘটনার আশঙ্কা থাকায় ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন যাত্রীরা।

রেলওয়ের প্রকৌশল শাখা জানায়, সিলেট-আখাউড়া সেকশনে পূর্বে ট্রেনের গতি ছিল ৭০-৮০ কিলোমিটার কিন্তু এখন ৪০ কিলোমিটার গতিতে চালাতে হচ্ছে।

সিলেট-আখাউড়া সেকশনের অতিঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলোর মধ্যে রয়েছে শমশেরনগর-টিলাগাঁও সেকশনের ২০০ নাম্বার সেতু, শ্রীমঙ্গল-ভানুগাছ সেকশনের ১৫৭ নাম্বার সেতু, সাতগাঁও-শ্রীমঙ্গল সেকশনের ১৪১ নাম্বার সেতু, মনতলা-ইটাখোলা সেকশনের ৫৬ নাম্বার সেতু, মাইজগাঁও-ভাটেরাবাজার সেকশনের ২৯ নাম্বার সেতু, কুলাউড়া-বরমচাল সেকশনের ৫ ও ৭ নাম্বার সেতু, মোগলাবাজার-মাইজগাঁও সেকশনের ৪৩, ৪৫ ও ৪৭ নাম্বার সেতু।

তবে এই মুহুর্তে সেতুগুলো সংস্কারের কোনো প্রকল্প না থাকায় সংস্কারের কোন সম্ভাবনা নেই। এছাড়া এই পথের অনেক স্থানেই রেলপথের স্লীপারে পাথর না থাকায় এবং নাট-বল্টু চুরি যাওয়ার কারণে স্লিপার নড়াচড়া করে। ইতিপূর্বে অনেকগুলোতেই স্লিপারের নড়াচড়া বন্ধে বাঁশ দিয়ে মেরামত করা হয়েছিল।

আইও ডাব্লিউ কুলাউড়ার প্রকৌশলী জুয়েল আহমদ জানান, মাইজগাঁও থেকে রশীদপুর এলাকা পর্যন্ত তার তদারকির স্থান। এসব স্থানের এখন ৩টি স্থান অর্থাৎ শমসেরনগর, সাতগাঁও ও শ্রীমঙ্গলের ঝুঁকিপূর্ন ব্রীজছাড়া সবগুলোই সংস্কার করা হয়েছে। অন্য স্থানগুলো অন্য প্রকৌশল অফিসের আওতাধীন তাই তার তথ্য তিনি জানেন না।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রকৌশল শাখার সূত্র জানায়, আখাউড়া-সিলেট রেলপথের ১৭৯ কিলোমিটারের মধ্যে ১৩টি সেতুই ঝুঁকিপূর্ণ। এসব সেতুর ওপর ট্রেন পারাপাওে ‘ডেড স্টপ’ (সেতুর আগে ট্রেন থেমে যাবে, এরপর ৫ কিলোমিটার গতিতে চলা শুরু করবে) ঘোষণা করা হয়েছে। ২০১৮ এর ২৯ মার্চ হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ইটাখোলা এলাকার ৫৬ নম্বর সেতু বৃষ্টির পর মাটি সরে যায়। এতে রেল যোগাযোগ কয়েক ঘণ্টা বন্ধ থাকে। তারপর থেকে ওই সেতুটিতে ডেড স্টপ দিয়েই চালানো হচ্ছে ট্রেন।

সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে কর্মরত এক প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, ‘এই সেকশনের বেশিরভাগ সেতুই ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে মাইজগাঁও-ভাটেরাবাজার সেকশনের ২৯ নং সেতুতে ‘ ডেড স্টপ’ জারি করা হয়েছে।’

 
Electronic Paper