সুনামগঞ্জে হত্যা-ধর্ষণ বাড়ছে

ঢাকা, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

সুনামগঞ্জে হত্যা-ধর্ষণ বাড়ছে

সুনামগঞ্জে প্রতিনিধি ১২:৩৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৫, ২০১৯

print
সুনামগঞ্জে হত্যা-ধর্ষণ বাড়ছে

জানুয়ারি থেকে অক্টোবর, চলতি বছরের এই দশ মাসে সুনামগঞ্জে ৪১টি খুন ও ৮১টি ধর্ষণের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে নৃশংস কায়দায় তুহিনসহ তিন শিশু খুনের ঘটনা দেশব্যাপী আলোচিত হয়েছে। অনেকগুলো শিশু ধর্ষণের লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে এই সময়ে। রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় ভ্যানচালক নিহত হওয়ার আলোচিত ঘটনা সংঘটিত হয়েছে চলতি বছরে।

গত বছর জেলায় সর্বমোট ৩৪টি খুন ও ৫৩টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল। চলতি বছরের ১০ মাসেই এই সংখ্যা পার হয়ে গেছে। ১০ মাসে গত এক বছরের তুলনায় ধর্ষণের ঘটনা ২৮টি বেশি সংঘটিত হয়েছে। এ অবস্থায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো তৎপর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। সেইসঙ্গে শিক্ষার হার বাড়ানো, বেকারত্ব কমানো, কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের জনপ্রতিনিধিদের আরও বেশি সোচ্চার হওয়ার প্রয়োজন বলে জানান তারা।

এই ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে তুহিনের এক চাচা ও চাচাতো ভাই। এই ঘটনায় তুহিনের পিতার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি পুলিশের। ঘাতকরা শিশু তুহিনের লাশ রাস্তার পাশের একটি গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। এছাড়া তুহিনের পেটে দুটি ছুরি ঢুকিয়ে দেয় এবং দুটি কান, এমনকি যৌনাঙ্গটিও কেটে ফেলে। পৈশাচিক এই খুনের ঘটনায় সারাদেশে সমালোচনার ঝড় উঠে। ১১ মার্চ রাতে ২৩ দিন বয়সী এক শিশুকন্যাকে বালতির পানিতে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠে স্বজনদের বিরুদ্ধে। গত ১০ মাসে ধর্ষণের ঘটনা বিগত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ১০ মাসে জেলায় ৮১টি ধর্ষণের ঘটনার অভিযোগ রেকর্ড করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ৫ বছর বয়সী শিশুকন্যাসহ পৌঢ়ও রয়েছেন।

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি চাঁন মিয়া বলেন, খুন, ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধ কমিয়ে আনতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোও প্রয়োজন। অপরাধপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে সাধারণ মানুষের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করতে প্রেরণা যোগাতে হবে। ছোটখাটো বিবাদগুলো মিমাংসা করতে স্থানীয় সরকার বিভাগের জনপ্রতিনিধিদের আরও বেশি তৎপর হওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, অতীতে সংঘটিত অপরাধ কর্মকা-গুলো নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে শাস্তি প্রদান করলে আইন হাতে নেওয়ার প্রবণতাও কমে যাবে। অপরাধ কমাতে শিক্ষার হার বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। সেইসঙ্গে বেকারত্ব দূরীকরণে সমাজ ও রাষ্ট্রকে আরও বেশি সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।