চাড়ুকুড়ি মৎস্য প্রকল্পে বেকারদের কর্মসংস্থান

ঢাকা, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

চাড়ুকুড়ি মৎস্য প্রকল্পে বেকারদের কর্মসংস্থান

কানাইঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি ৬:৪৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০১৯

print
চাড়ুকুড়ি মৎস্য প্রকল্পে বেকারদের কর্মসংস্থান

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লোকালয় থেকে অনেক দূরে বীরদল বড় হাওরের বুকে চাড়ুকুড়ি নামে এক বিশাল মৎস্য প্রকল্প গড়ে উঠেছে। চাড়ুকুড়ি, কিরানীকুড়ি ও গাছকুড়ি বিলসহ কয়েকটি ইজমালি বিল লিজ নিয়ে ও নিজস্ব জমি মিলে প্রায় তিনশ একর ভূমিতে এ প্রকল্পটি হাতে নিয়েছেন আব্দুল হাই নামের এক প্রবাসী।

জানা যায়, তার বাড়ি উপজেলার বাণীগ্রাম ইউপির বড়দেশ নয়াগ্রামে। ২০১৬ সালের শেষের দিকে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যায়ে চাড়ুকুড়ি প্রকল্পের এএইচ ফিসারিজ ফার্ম নামে এ মৎস্য খামারের যাত্র শুরু করে।

এটি সিলেটের বৃহৎ মৎস্য খামার। খামারটি দেখতে সিলেটের বিভিন্ন প্রাপ্ত থেকে হাওর প্রেমিক পর্যটকরা এখানে ছুটে আসেন। এত বড় চাড়ুকুড়ি মৎস্য প্রকল্প দেখে তারা সবাই মুগ্ধ হয়।

সরেজমিন মৎস্য খামারের ম্যানেজার নুরুল ইসলাম জানান, প্রবাসী আব্দুল হাই একজন উৎপাদনমুখী মানুষ। তিনি আমাদেরকে পথ দেখিয়েছেন, চিন্তা করেছেন কীভাবে প্রত্যন্ত হাওর এলাকার অনাবাদি জমিতে মৎস্য খামার গড়ে তুলে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি মানুষের বেকারত্ব দূর করা যায়। সেই চিন্তা থেকেই মূলত প্রকল্পটি করা হয়েছে।

তাদের ফিসারিগুলোতে রুই, কাতলা, মৃগেল, বাউস, কালো বাউস, গ্রাসকার্প ও ব্রিগেটসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ রয়েছে। মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন লক্ষ টাকা এবং বর্তমানে লক্ষ টাকার মাছ এখানে পাইকারী বিক্রি করা হয়।

তিনি আরো বলেন, হাওর এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় মৎস্য খামারে তারা উন্নতমানের চিংড়ি, পাবদাসহ আরও অনেক প্রজাতির মাছের উৎপাদন করতে পারছেন না।

এছাড়াও এখানে পোনা মাছের নার্সারিও রয়েছে। এই নার্সারির জন্য ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে উন্নতমানের মাছের রেনু ক্রয় করা হয়ে থাকে। আর সেই রেনু থেকে উৎপন্ন পোনাগুলো সারা বছর এখানে বিক্রি করা হয়।

খামারের মালিক আব্দুল হাই আরব-আমিরাত থেকে মোবাইল ফোনে জানান, প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রথমে এ প্রকল্পের মাধ্যমে মৎস্য খামারের কাজ শুরু করেছিলেন। এর পর তিন বছরে খামার থেকে আট কোটি টাকার মাছ বিক্রি করেছেন।

উদ্দেশ্য হলো এলাকার বেকার মানুষের কর্মসংস্থান করে দেওয়া। বর্তমানে খামারটিতে প্রায় শতাধিক শ্রমিক কাজ করছে।