‘শিশু তুহিনের হত্যাকারী বাবা-চাচারা’

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

‘শিশু তুহিনের হত্যাকারী বাবা-চাচারা’

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ৯:১৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০১৯

print
‘শিশু তুহিনের হত্যাকারী বাবা-চাচারা’

এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও প্রতিবেশীকে ফাঁসাতে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে শিশু তুহিন মিয়াকে তার বাবা হত্যা করেছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান। মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সাড়ে ৬টার দিকে সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

পুলিশ নিহত শিশু তুহিন মিয়ার আত্মীয়-স্বজনদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য পেয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

মিজানুর রহমান বলেন, সোমবার (১৪ অক্টোবর) রাতে বাবা আব্দুল বাছিরের সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিল শিশু তুহিন। পরে তাকে কোলে করে ঘরের বাইরে নিয়ে যান তিনি। এসময় ঘুমিয়েই ছিল তুহিন। পরে কোলের মধ্যেই তাকে ধারালো ছুরি দিয়ে জবাই করে হত্যা করে বাবা, চাচা ও এক চাচাতো ভাই। জবাই করার পর একে একে তার লিঙ্গ, কান কাটা হয়। পরে তার পেটে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। হত্যা শেষে বাড়ির পার্শ্ববর্তী মসজিদের পাশে কদম গাছে তারা মরদেহ দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখে। মূলত গ্রামের আধিপত্য বিস্তার ও প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই শিশু তুহিনকে হত্যা করা হয়েছে। নিহত শিশুর বাবার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ অনেক মামলা ছিল। এলাকায় পক্ষ, বিপক্ষ ছিল, তাদের ফাঁসাতেই এ হত্যাকাণ্ড হতে পারে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, শিশু তুহিনের মায়ের দায়ের করা মামলায় আপাদত পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তারা হলেন, নিহত তুহিন মিয়ার বাবা আব্দুল বাসির, চাচা জমশেদ আলী, মোছাব্বির আলী, নাছির উদ্দিন ও চাচাতো ভাই শাহরিয়র হোসেন। এর মধ্যে আব্দুল বাছির, চাচা জমশেদ আলী, মোছাব্বির আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পুলিশের পক্ষ থেকে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। আদালত তিন জনকে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, সুনামগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট খালিদ মিয়ার আদালতে চাচা নাসির উদ্দিন ও চাচাতো ভাই শাহরিয়ার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার ব্যাপারে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

তিনি জানান, পুলিশের আইজিপি নিজেই সার্বক্ষণিক মনিটরিং করেছেন। আমরা মামলার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করেছি, কারা মারছে কেন মারছে, কীভাবে মারছে। আমরা বিষয়টা আমরা জেনেছি। মামলাটি আরো তদন্তের দরকার আছে, মূল পরিকল্পনায় অন্য কেউ কারা তা খুঁজে বের করা হবে। নিহত শিশুর শরীরে দু’টি ছুরি ঢোকানো ছিল, আমরা তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠাবো।

তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে পাঁচজনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের চাচী ও চাচাতো বোন আটক করা হয়েছিল, তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। আমরা দ্রুতই এ মামলার প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবো।