হাসপাতাল আছে ডাক্তার নেই

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯ | ৮ কার্তিক ১৪২৬

হাসপাতাল আছে ডাক্তার নেই

তোফায়েল পাপ্পু, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) ৪:৩৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৭, ২০১৯

print
হাসপাতাল আছে ডাক্তার নেই

‘নামেই রয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার হুগলিয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র। ডাক্তার নেই, সেবাও নেই। চারদিকে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ। সুনশান নিরবতা। সাইনবোর্ড না থাকলে কারও বোঝার উপায় নেই, যে এটি একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র। এসব কারণে রোগীর আনাগোনাও নেই বললেই চলে। সেবা নেই তো মানুষ এসে কি করবে।’ কথাগুলো বলছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের হুগলিয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে সেবা নিতে আসা কোহিনূর আরা বেগম।

উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে দীর্ঘদিন ধরে কোনো মেডিকেল অফিসার নেই। কাগজে কলমে হুগলিয়ায় ডাক্তার নিয়োগ থাকলেও দীর্ঘদিন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডাক্তাররা যাননা। এ নিয়ে সিভিল সার্জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. সাখাওয়াতকে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বার বার অনুরোধ জানালেও তিনি এখানে আসেননি।

উপরন্তু চিকিৎসক স্বল্পতার মধ্যেও এখান থেকে সহকারী চিকিৎসক পাঠানো হয়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। ফলে এ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসাসেবা একেবারেই ভেঙে পড়েছে। কিছুদিন আগেও বিভিন্ন এলাকা থেকে হুগলিয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রতিদিন প্রায় ১০০-১৫০ জন রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে আসতেন।

এখন সেবা না পাওয়ায় তা কমে ২০-৩০ জনে পৌঁছেছে। যারা আসে তারাও আবার ডাক্তার না থাকার কারণে সহকারী ডাক্তারের চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। সহকারী ডাক্তারের সীমিত চিকিৎসা সেবা নিয়ে রোগীদের পুনরায় শ্রীমঙ্গল শহরে এসে চিকিৎসা নিতে হয়। সেই সহকারীরাও ঠিকমত আসেন না।

জানা যায়, সহকারী ডাক্তার সপ্তাহে দুদিন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান। বাকি দিনগুলো অফিস পিয়ন দরজা খুলে বসে থাকেন। গুরুতর রোগীরা ডাক্তার না পেয়ে বাধ্য হয়ে শ্রীমঙ্গল শহরে আসছেন।

সম্প্রতি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে জানা যায়, ছয়দিন ধরে সহকারী ডাক্তারও আসছেন না। পিয়ন জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সহকারী ডাক্তারকে পাঠানো হয়েছে। তাই এসে বসি থাকি। রোগী আসলেও চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

একটি জনবহুল এলাকায় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডাক্তার নিয়োগ না দিয়েই অন্যত্র প্রেরণ করা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত তা স্থানীয়দের বোগম্যের বাইরে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন ডাক্তার কিংবা নার্স কর্মক্ষেত্রে না থাকলে তাৎক্ষণিক ছাঁটাই করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশ নিঃসন্দেহে জনগণের মনে আশার আলো জাগিয়েছে। ডাক্তার আসবে গরিবরা চিকিৎসা পাবে। অথচ শ্রীমঙ্গলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশকেও উপেক্ষা করা হচ্ছে।