লাউয়াছড়া স্লুইসগেট কৃষকের গলার কাঁটা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯ | ৮ কার্তিক ১৪২৬

লাউয়াছড়া স্লুইসগেট কৃষকের গলার কাঁটা

হৃদয় ইসলাম, কমলগঞ্জ ৫:৫৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৯

print
লাউয়াছড়া স্লুইসগেট কৃষকের গলার কাঁটা

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের পশ্চিম ভানুগাছের সংরক্ষিত পাহাড়ি আঁকা-বাঁকা বনের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত লাউয়াছড়ার আদমপুর ইউপির কোনাগাঁও এলাকায় নির্মিত স্লুইসগেটটি কৃষকদের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরিকল্পিত স্লুইসগেটে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত, ঝোপ-জঙ্গল, বাঁশ ও ডালপালা জমে ছড়ার বিপন্ন দশা ধারণ করেছে। পানির স্রোতে ছড়ার বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষি জমিতে পলিবালি জমে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা।

কয়েকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এখানে প্রথম স্লুইসগেট স্থাপনের সময়ও আমরা আপত্তি জানিয়েছি। ছড়ার ভাঙনে ইউনিয়নের কোনাগাও, নয়াপত্তন, ছনগাও, মাঝেরগাও, ঘোড়ামারা, তেঁতইগাও, উ. ভানুবিল ও হুমেরজান গ্রামের দুই থেকে তিনশ একর কৃষিজমি পলিবালি জমে চাষাবাদ অনুপযোগী হয়ে উঠছে। এসব এলাকার প্রায় তিনশ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অপরিকল্পিতভাবে স্থাপিত স্লুইসগেট অপসারণ, ছড়া সংস্কার ও ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি আমাদের।’

জেলা কৃষক সমিতির সদস্য আহমদ সিরাজ বলেন, ‘নয়াপত্তন এলাকায় লাউয়াছড়ার ভাঙনে কৃষিজমি বালুবাহিত হয়ে নষ্ট হওয়া, স্লুইসগেটের অব্যবস্থাপনা ও অকেজো হওয়া প্রতিবিধান হিসেবে কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া ও ফসলি জমি চাষ উপযোগী করাসহ স্লুইসগেটের অকার্যকারিতার তদন্তক্রমে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।’

কোনগাও লাউয়াছড়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল গফুর বলেন, ‘পানি নিষ্কাশনে বাঁধাগ্রস্ত হয়ে ছড়ার বাঁধ ভেঙে ৮টি গ্রামের কৃষিজমি ও আলীনগর ইউনিয়নের হলদিয়া হাওরের কৃষিজমিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব সমস্যা নিয়ে সমিতির সভায় রেজ্যুলেশন করে ছড়ার নি¤œাঞ্চলসহ দুই কিমি. খননের প্রস্তাব করে উপজেলা এলজিইডি অফিসে দাবি জানানো হয়েছে।’

আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন বলেন, ‘অপরিকল্পিত স্লুইসগেটের কারণে গোটা এলাকার কৃষকরা ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে। তবে কৃষকদের এই সমস্যা সমাধানে একটি সুরাহা হওয়া প্রয়োজন।’

এলজিইডির কমলগঞ্জের প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘স্লুইসগেটটি অনেক আগে কৃষকদের স্বার্থে স্থাপন করা হয়েছিল। তবে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হওয়া, ছড়ার বাঁধ ভাঙার বিষয়ে গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখবো।’