চার মাসেও সংস্কার হয়নি ভাঙা সেতু

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯ | ৮ কার্তিক ১৪২৬

চার মাসেও সংস্কার হয়নি ভাঙা সেতু

মো. তাজুল ইসলাম, কুলাউড়া ৬:৫২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯

print
চার মাসেও সংস্কার হয়নি ভাঙা সেতু

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও রাজনগর উপজেলার মধ্যে চলাচলকারী বাইপাস বরমচাল-মুন্সিবাজার নতুন পাকা সড়কের একটি ব্রিজ ভেঙে প্রায় চার মাস ধরে যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই দুই উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ।

ব্রিজ ভাঙা থাকায় স্থানীয়রা নিজেরা চাঁদা তুলে একটি সাঁকো তৈরী করে শুধু লোকজন যাতায়াতের ব্যবস্থা করলেও অনেকে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হচ্ছেন। এই সড়কের আরও দুইটি ব্রিজের অবস্থাও জরাজীর্ণ বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, কুলাউড়া ও রাজনগর উপজেলা এলজিইডি’র অধীনে মোট প্রায় ৮.৮৫ কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণ হয়েছে। কুলাউড়া উপজেলা অংশে প্রায় ৫.৮৫ কি.মি. এবং রাজনগর উপজেলা অংশে প্রায় ৩ কি.মি. সড়ক পাকাকরণ করা হয়েছে। কুলাউড়া অংশে এই কাজে ব্যয় হয়েছে ৫ কোটি টাকা এবং রাজনগর অংশে ব্যয় হয়েছে এক কোটি ৫৯ লাখ টাকা মোট ৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।

এদিকে কাজ শুরুর আগে এই সড়কটি ছিলো কাচা। ব্রিজগুলো ছিলো অনেক পুরনো। তবে রাস্তার অবস্থা ভালো না থাকায় আগে ভারী যানবাহন চলাচল কিংবা অতিরিক্ত যান চলাচল ছিলো না। তাই ওই ব্রিজ দিয়ে অনায়াসে মানুষ যাতায়াত করতে পারতো। কিন্তু সড়কটি পাকাকরণ হওয়ায় কম সময়ে যাতায়াতের জন্য ভারী যানসহ বিভিন্ন শ্রেণির যান এই সড়কটি ব্যবহার করছে।

এতে ওই পুরনো ব্রিজগুলোতে অতিরিক্ত চাপ পড়ায় ধসে পড়েছে। স্থানীয় খাসিয়া পুঞ্জির বাসিন্দা মজনু সুয়ের বলেন, অনেকদিন ধরে ব্রিজটির অবস্থা জরাজীর্ণ ছিলো। চার মাস আগে পুরোপুরি ধসে পড়েছে। ফলে রোগী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের অনেক কষ্ট হচ্ছে। বিপদকালীন সময় চলাচলের জন্য স্থানীয়রা সকলে মিলে ওই বিকল্প সাঁকো নির্মাণ করেছি।

বরমচাল ইউপি সদস্য চন্দন কুর্মি বলেন, এই ব্রিজটি বন্ধ হওয়ায় আমরা অনেক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি। সরকারের কোটি টাকার উন্নয়ন মানুষের চোখে পড়ছে না এই ভাঙা ব্রিজের কারণে। কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি, বরমচাল ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আহবাব চৌধুরী শাজাহান বলেন, অল্প সময়ে মৌলভীবাজার ও সিলেটে যাতায়াতের জন্য বরমচাল, ভুকশীমইল ও ভাটেরার মানুষের সুবিধার্তে এই সড়কের প্রস্তাবনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন হয়েছে। এখানকার স্থানীয়রা ছাড়াও চা বাগানের শ্রমিকরা অনেক উপকার ভোগ করবে। তবে একটি ব্রিজের জন্য সাময়িক ভোগান্তি হচ্ছে, দ্রুত তা পুনঃনির্মাণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

কুলাউড়া এলজিইডি প্রকৌশলী ও রাজনগর উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মু. ইসতিয়াক হাসান বলেন, ইতিমধ্যে ওই ব্রিজটির মাটি টেস্টের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই ব্রিজসহ রাজনগর অংশের আরও দুইটি জরাজীর্ণ ব্রিজ পুনঃনির্মাণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অনুমোদন আসলেই ট্রেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত কাজ শুরু হবে।