যন্ত্রনির্ভর হচ্ছে কৃষি

ঢাকা, বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯ | ৮ কার্তিক ১৪২৬

যন্ত্রনির্ভর হচ্ছে কৃষি

শহীদনুর আহমেদ, সুনামগঞ্জ ৪:৫৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯

print
যন্ত্রনির্ভর হচ্ছে কৃষি

আগামী বোরো মৌসুমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের নতুন যুগে প্রবেশের যে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার এর সুফল ভোগ করবেন সুনামগঞ্জের কৃষক। উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করছে কৃষি মন্ত্রণালয়। চার বছরের মধ্যেই দেশের প্রচলিত পদ্ধতির কৃষিকে যন্ত্রনির্ভর কৃষিতে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ফসলের উৎপাদন ব্যয় অনেকটা কমবে বলে মনে করেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সেচ এবং জমি তৈরির ক্ষেত্রে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রায় শতভাগ কাছাকাছি চলে গেলেও চারা রোপণ তথা ট্রান্সপ্লান্ট এবং ধান কাটা তথা হারভেস্টিংয়ে যান্ত্রিকীকরণে বাংলাদেশ এখনও অনেক পিছিয়ে। এখন এ দুটি ক্ষেত্রে যান্ত্রিকীকরণেই মাঠে নেমেছে মন্ত্রণালয়।


যান্ত্রিকীকরণের আওতায় চলতি মৌসুমে ভর্তুকি মূল্যে কৃষকদের পাঁচ হাজার ৩০০ যন্ত্র দেওয়া হবে। শ্রমিক সংকট থেকে মুক্তি ও উৎপাদন খরচ কমাতে চারা রোপণ ও ধান কাটার জন্য তিন ধরনের যন্ত্র দেওয়া হবে কৃষকদের। এগুলো হলো কম্বাইন্ড হারভেস্টার, রিপার ও রাইস ট্রান্সপ্লান্টার। এসব যন্ত্র ক্রয়ে কৃষকদের সরাসরি ৬০ শতাংশ ভর্তুকি দিবে সরকার। এতে ব্যয় হবে ৪১৫ কোটি টাকা। এ টাকা রাজস্ব বাজেট থেকে সংস্থান করা হবে।

আগামী দুই মাসের মধ্যে অর্থাৎ আসন্ন বোরো মৌসুমেই এসব যন্ত্র কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। এর মধ্যে চলতি আমন মৌসুমেই কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার ও রিপার দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে ধান কাটা হবে এবং বোরো মৌসুমে চারা রোপণ ও ধান কাটা উভয়ই যন্ত্রের মাধ্যমে স¤পন্ন করা হবে।

এ প্রসঙ্গে কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান বলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে আমরা কৃষকদের কাছে ভর্তুকি মূল্যে কৃষিযন্ত্র পৌঁছে দেব। এ ব্যাপারে আমরা সারাদেশে কৃষকদের কৃষিযন্ত্রের চাহিদা নিরূপণ করেছি। কোন এলাকার কৃষক কেমন যন্ত্র চায় তা আমরা নিরূপণ করেছি। এখন সেই চাহিদা অনুযায়ী আমরা কৃষকদের কাছে চারা রোপণ ও ধান কাটার যন্ত্র পৌঁছে দেব।

তিনি বলেন, আমরা জমিতে সেচ ও জমি প্রস্তুতের ক্ষেত্রে যান্ত্রিকীকরণে শতভাগে পৌঁছে গেছি। কিন্তু ধানের চারা রোপণ ও ধান কাটার ক্ষেত্রে যান্ত্রিকীকরণে অনেক পিছিয়ে আছি। তাই এখন আমরা প্লান্টিং (চারা রোপণ) ও হারভেস্টিংয়ে সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছি। আমাদের টার্গেট হচ্ছে কৃষকদের কাছে ট্রান্সপ্লান্টার, হারভেস্টার ও রিপার পৌঁছে দেওয়া। যাতে কৃষকদের ধানের চারা রোপণ ও ধান কাটার সময় শ্রমিক সংকটে পড়তে না হয়।